রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত

আগের সংবাদ

ভিসা পেতে টিকার শর্ত দুশ্চিন্তায় টিকা গ্রহীতারা

পরের সংবাদ

গ্লোবাল এসডিজিআইএ প্রোগ্রামে জয়ী ‘স্বাধীন ফিনটেক’ এবং ‘ভালো’

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২১ , ২:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২১ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ

গত ৮ জুলাই সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর (এসডিজিআইএ) তাদের এক্সিলারেটর প্রোগ্রামে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের দুটি স্টার্টআপ কোম্পানি ‘স্বাধীন ফিনটেক’ ও ‘ভালো’কে জয়ী ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি ইক্যুইটি-ফ্রি ১ লাখ ডলার পাবে।

তুর্কি সরকারের অর্থায়নে এসডিজিআইএ’র দ্বিতীয় প্রোগ্রামটি উগান্ডায় ডিজিটাল এগ্রিকালচার এবং বাংলাদেশে ফিনান্সিয়াল ইনক্লুসনের সমাধান অনুসন্ধান করে আসছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিনিয়োগকারী, পরামর্শদাতা এবং অংশীদারদের সহায়তার মাধ্যমে স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবকদের পরামর্শ এবং অর্থায়ন করে থাকে।

গত মার্চ মাসে এই দুই বিষয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেদারল্যান্ডস, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা এবং যুক্তরাজ্য থেকে মোট দশটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়। অন্তত ১ হাজার আবেদন থেকে তাদের বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ‘স্বাধীন ফিনটেক’ ও ‘ভালো’।

প্রতিযোগিতার এই ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, তুরস্ক এবং উগান্ডার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, রাষ্ট্রদূত এসেন অলতুগ, রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনা জ্যাবিন, ইউএনডিপি তুরস্কের আবাসিক প্রতিনিধি লুইসা ভিনটন, রাষ্ট্রদূত ড. উইলি অফওয়োনো অন্যতম। এছাড়া প্রোগ্রাম আয়োজক মেমেতউনসাল এবং এসিলডিলকাসাপ এ অনুষ্ঠানে ছিলেন।

‘স্বাধীন ফিনটেক’ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম। রাষ্ট্রদূত এসেনআল্টুগ এ প্রতিষ্ঠানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাধীন ফিনটেকের কো-ফাউন্ডার শাদমান ইউনুস প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল ক্রেডিট একসেস সহজ করতে চায়। নিন্ম ও মধ্য আয়ের বাংলাদেশিদের ফিনেন্সিয়ার এককেস নিশ্চিত করতে একটা সাদামাটা প্লাটফর্মের সঙ্গে তাদের যুক্ত করাই এই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। পাশাপাশি নারীদের মাঝে ফিনেন্সিয়াল ইনক্লুশন জোরদার করতে চায় তারা।

স্বাধীন ফিনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাশফিয়া মাহমুদ ভোরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিশেষত নগর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের আর্থিক অ্যাকসেস বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। করোনাকালে ক্রেডিট অ্যাকসেসের অভাবে বহু পরিবারকে আমরা লড়াই করতে দেখেছি এবং সরকার প্রদত্ত সঞ্চয় বা অনুদানের উপরই শুধু নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। ফিনটেক মনে করে এর সমাধান আছে এবং আমাদের মতো প্ল্যাটফর্ম এই সমস্যার সমাধান করতে শুরু করবে এবং আরও বেশি মানুষকে ক্রেডিট পেতে সহযোগিতা দেবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, এ হচ্ছে একটি মৌলিক মানবাধিকার।

ইমিপ্লিমেন্টেশন প্রোগামের দ্বিতীয় বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ভালো’। এ ফার্মটি একটি মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছে যা উচ্চ মানের খামার উপকরণ (বীজ, সার, রাসায়নিক ইত্যাদি) সরবরাহ করে থাকে। একই সঙ্গে কৃষকদের পরামর্শ, ক্রেডিট এবং ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেয়। ফলে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ে। ক্ষুদ্র কৃষকদের হাই-কোয়ালিটি ফার্ম ইনপুট সাপ্লায়ার্স ও ফিনেন্সিয়াল ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত করে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি ও এক্সক্লুসিভ সেলস এজেন্টদের একটি নেটওয়ার্ক, লজিস্টিকস হাবস, এবং রিটেইল আউটলেট ব্যবহার করে থাকে।

‘ভালো’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার ভোরের কাগজকে বলেন, ‘এসডিজিআইএ’র সহায়তা আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করবে, এবং বাংলাদেশি কৃষকদের আয় বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের মঙ্গল বয়ে আনবে।’

রি-এসডি/ ডি-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়