রূপগঞ্জে হতাহত বেড়েছে চার কারণে

আগের সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ আগুন, মেয়ে ফিরলেও ফেরেনি মা

পরের সংবাদ

বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই ফুটে ওঠে ফায়ার সার্ভিসের দুর্বলতা

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১০, ২০২১ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে সক্ষমতা: ফায়ার ডিজি

দেশের যে কোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে সবার আগে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। নিজেদের জীবন বাজি রেখে বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পিছপা হয় না তারা। কিন্তু আধুনিক সরঞ্জাম সংকট, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতার ছাপ ফুটে ওঠে সংস্থাটিতে। বিশেষ করে বড় অগ্নিকাণ্ডের পর বিষয়টি আরো প্রকট আকার ধারণ করে। ছোট আগুনগুলো সহজেই নির্বাপণ করতে পারলেও দীর্ঘ সময়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বড় অগ্নিকাণ্ড। ফলে যতক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে, ততক্ষণে ধ্বংসস্ত‚প অথবা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হচ্ছে ঘটনাস্থল।

যেমনটা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরো স্পষ্ট হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট। এরই মধ্যে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শ্রমিক। যদিও নিজেদের দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করতে নারাজ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সক্ষমতা বাড়ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগুনের গভীরতা, উচ্চতা ও কিসে আগুন লেগেছে তার ওপর নির্ভর করে নির্বাপণের সময়। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার কর্মীদের যদি আগুন বিস্তার করা জায়গায় পৌঁছাতে না পারে তাহলে সময় লাগবেই।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টার দিকে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানার নিচতলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কারখানার সবগুলো ফ্লোরে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৬ ঘণ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

আগুনের সূত্রপাতের কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কেন অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না? সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ব্যর্থতার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। তবে কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় বলে দাবি ফায়ার সার্র্ভিসের।

শুধু এ ঘটনাই নয়, গত বছরের গত ৫ নভেম্বর রাজধানীর ডেমরায় কোনাপাড়া মাদ্রাসা রোডে পাশা টাওয়ারের ১০তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতেও হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ১৬ ইউনিটের ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুড়ে যায় ভবনটির ৬টি তলা। এর আগে ২০১৯ সালে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং একই বছরের ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণেও হিমশিম খেতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসকে। অতিরিক্ত জনবল আনতে দেখা যায় রাজধানীর বাইরে থেকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যাও বেড়েছে। বাড়ানো হচ্ছে ফায়ার স্টেশনও। কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি ফায়ার সার্ভিসের জনবল। ঘাটতি রয়েছে আধুনিক সরঞ্জামেও। বড় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে যতক্ষণে বিশেষ যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে নেয়া হয় ততক্ষণে আগুন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনে করেন, ল্যাডারসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আরো প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ ৬৪ মিটারের ল্যাডার (মই), জাম্বু কুশন, লাইট ডিউটি রেসকিউ বোট, ডাইভিং অ্যাপারেটাস, এয়ার কমপ্রেসর মেশিন, রিমোট কনট্রোল ফায়ার ফাইটিং ইউনিট, হেভি ডিউটি লাইট ইউনিট, টোয়িং ভেহিক্যাল, পোর্টেবল পাম্প, বিদ্রিং অ্যাপারেটাস ও স্মোক ইজেক্টরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সীমাবদ্ধতার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন ভোরের কাগজকে বলেন, বড় আগুন নির্বাপণে আনতে সময় লাগার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত দেখতে হবে আগুনের গভীরতা কেমন, এরসঙ্গে উচ্চতা ও মেটেরিয়াল দেখাও জরুরি। আগুন লাগার পর যদি সেখানে দাহ্য পদার্থ থাকে তাহলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আগুন লাগার স্টোর যদি ১০০ মিটার উপরে হয়, যেখানে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, বা পানি স্টোর পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না সেক্ষেত্রেও সময় বেশি লাগতে পারে। এটিকে সক্ষমতার অভাব হিসেবে দেখলে হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যেগুলো বাস্তবায়ন হলে সক্ষমতা আরো অনেক বাড়বে। তবে, কিছু আগুনের ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। ফলে লন্ডনের মতো শহরেও বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়