পার্কে শিশুকে স্তন্যপানে বাধা, মায়ের কাছে ক্ষমা চাইল ডিজনিল্যান্ড

আগের সংবাদ

আকাশ কাঁপিয়ে ইতিহাস তৈরির লক্ষ্যে হৃত্বিক-দীপিকার 'ফাইটার'

পরের সংবাদ

ই-ভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১ , ৫:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২১ , ৫:৫২ অপরাহ্ণ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। দলের অপর সদস্য হলেন উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম। কমিটি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাসেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়।

শুক্রবার (০৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক। তিনি জানিয়েছেন, অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে কমিশন জানতে পারে, ই-ভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডি গোপনে দেশত্যাগের প্রচেষ্টা করছেন। এজন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় তারা যাতে দেশত্যাগে করতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করাসহ নানা অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে বানিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মগুলো তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা ( চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। ওই তারিখে গ্রাহকের কাছে ইভ্যালির দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছে দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল নেয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো প্রতীয়মান হয়, ইভ্যালি তাদের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক এবং মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে নেয়া ৩৩৮.৬২ কোটি টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অন্তত পাঁচটি ব্যাংক ইভ্যালিসহ ১১টি ই-কমার্স কোম্পানির সঙ্গে কার্ডে লেনদেন থেকে গ্রাহকদের বিরত থাকতে বলেছে।

আর-এমআর/এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়