বিধিনিষেধ অমান্য করায় ১৯৩ জনকে লাখ টাকা জরিমানা র‌্যাবের

আগের সংবাদ

'ময়লা পানি' নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ!

পরের সংবাদ

মোরাতা নায়ক থেকে খলনায়ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২১ , ৯:০২ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২১ , ৯:০২ অপরাহ্ণ

স্পেনের বিপক্ষে ইতালি তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। দুমিনিট বাদেই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আলভারো মোরাতা। আঠারো মিনিট পরই স্পেনকে সমতায় ফিরিয়ে ফাইনালের আশা চাঙ্গা করে নায়করূপে আবির্ভুত হন তিনি। নায়ক আলভারো মোরাতাই এক ঘণ্টার ব্যবধানে টাইব্রেকারের পেনাল্টি মিস করে খলনায়কে পরিণত হন। ফলাফল সেমিফাইনাল থেকে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় স্পেনের, ফাইনালে ইতালি।

স্পেনের নায়ক থেকে খলনায়কে রূপ নিলেও মোরাতা পাশে পাচ্ছেন সতীর্থ ও কোচ লুইস এনরিকেকে। ম্যাচ শেষে স্পেন কোচ বলেন, ‘আলভারোর চোটগত একটু সমস্যা ছিল। তাও সে পেনাল্টিন নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর থেকেই বুঝা যায় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে। হয়তো সে এই আসরে অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। তাও এই ইউরোটা তার জন্য দুর্দান্ত। বারবার সে ইতালির রক্ষণে ভয়-রেখা তৈরি করেছে। গোলও পেয়েছে, মুহূর্তটা আমাদের জন্য সত্যিই অসাধারণ ছিল। সে গোল করতে না পারলে যে আমরা অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি নিয়ে যেতে পারতাম না।’

কোচের পাশাপাশি সতীর্থরাও সান্ত্বনা যুগিয়েছেন মোরাতার। ম্যাচ শেষে অনেকেই তাকে বুকে টেনে নেন। হয়তো বুঝাতে চেয়েছেন, ‘ফুটবলে এমন কিছু হতেই পারে, তুমি ভেঙে পড়ো না আলভারো।’ এমন অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে কোচের ভাষ্যে। লুইস এনরিকে বলেন, ‘এই রাতটা আমাদের জন্য আদৌ দুঃখের না। তবে হ্যাঁ, অসন্তুষ্টি আছে। আমরা ফাইনালে যেতে পারতাম। কিন্তু ফুটবল এমনই। আপনার জেতার এবং হারার সক্ষমতা থাকতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে আমরা অনেক সন্তুষ্টি পেয়েছিলাম। এখন আমাদের প্রতিপক্ষকেও অভিনন্দন জানাতে হবে।’

হারার পর এনরিকে কথা বলেছেন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে আটটি দল এবার শিরোপা জয়ের যোগ্যতা রাখে তাদের মধ্যে আমরা একটি। এই কথাটা ভুল ছিল না। আমরা বাড়ি যাচ্ছি এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই যে, টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতা করেছি। আমরা সেরা দলের একটিও।’

ইউরোপিয়ান ফুটবল পরাশক্তি মনে করা হয় স্পেনকে। সেই তারাই ইতালির বিপক্ষে হারল সেমিফাইনালে। মূল ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলে অতিরিক্ত সময়েও ফল নির্ধারণ হয়নি। যে কারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। স্পেনের হয়ে গোল মিস করেছেন দানি অলমো ও আলভারো মোরাতা। ইতালির হয়ে ম্যানুয়েল লোকাতেল্লিও জালের দেখা পাননি। এ জয়ের ফলে টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত ইতালি। সব মিলিয়ে ১৯৬৮ সালে ইউরো জয়ের পর তৃতীয়বারের মত ফাইনালে পা রাখল আজ্জুরিরা। ২০০০ সালের পর ২০১২ সালেও ফাইনালে খেলেছিল তারা।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে ইতালির হয়ে গোল করেছেন আন্দ্রেয়া বেলোত্তি, ফেদেরিকো বার্নারদেস্কি, লিওনার্দো বুনুচ্ছি ও জর্জিনহো। স্পেনের হয়ে সফল শুট নিয়েছেন থিয়াগো আলকানতারা ও জেরার্ড মরেনো। এর আগে মূল ম্যাচের ৬০তম মিনিটে পালটা আক্রমণ থেকে লিড পায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মার্কো ভেরাত্তির বাড়ানো বল ডি-বক্সের মুখে রুখে দিয়েছিলেন এমেরিক লাপোর্তে। কিন্তু বল চলে যায় চিয়েসার পায়ে। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে জায়গা বানিয়ে একটু বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড। দশ মিনিট পর স্পেনকে সমতায় ফেরান আলভারো মোরাতা। বদলি হিসেবে খেলতে নামা এই স্ট্রাইকার গোল করেন দানি অলমোর পাস থেকে। পুরো ৯০ মিনিট খেলেও এই স্কোরলাইন বিদ্যামান থাকলে ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল দেখেনি সেমিফাইনালের ম্যাচটি।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়