আক্ষেপে পুড়ছেন লিটন

আগের সংবাদ

টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় চলবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত

পরের সংবাদ

অনুপ্রবেশকারীদের নির্মূল করাই বড় চ্যালেঞ্জ: বিএম মোজাম্মেল হক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২১ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

তৃণমূল থেকে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়ন করছেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এ নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।

স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির পথে হাঁটছেন শরীয়তপুরের বি এম মোজাম্মেল হক। ১৯৬৯ সালে নবম শ্রেণিতে স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনিয়ন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। খাদ্য সংগ্রহসহ যাবতীয় সহযোগিতা করেন মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছিলেন ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ছিলেন বৃহত্তর লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি। পরে সভাপতি। দায়িত্ব পালন করেন অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দপ্তর ও সাংগঠনিক সম্পাদকের। পরপর দুইবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০২ সালে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য করেন। পরে কাউন্সিলে দলটির উপদপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৯ সাল থেকে পরপর চারবার সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। ছিলেন দুইবার জাতীয় সংসদের সদস্য। খুলনা ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। গত সোমবার খুলনার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিষয়ে বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, খুলনা বিভাগে মহানগরসহ ১১টি জেলা ইউনিট আছে। খুলনা জেলা ও মহানগর, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও মেহেরপুর। ৭টা জেলার সম্মেলন ও কমিটি হয়েছে। শুধু যশোরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাকি আছে। সেটিও দ্রুত হয়ে যাবে। ৩৬টি নির্বাচনী আসন আছে। ৭৮টি উপজেলা ইউনিটের মধ্যে বেশির ভাগের সম্মেলন হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেপ্টেম্বরে ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সম্মেলন করব। ইতোমধ্যে গ্রাম, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের কাউন্সিল করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংগঠনিক যে কোনো সমস্যা নিয়ে ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত কথা বলি। তারা আমাকে ফোন করেন, সমস্যা শুনে সমাধানের পথ বের করি। সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখি। কোনো এলাকায় গেলে গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সময় দেই। তাদের কথা শুনি। তৃণমূলেই আওয়ামী লীগের শক্তি, কথাটি নেতাদের উপলব্ধি করতে হবে মনেপ্রাণে।

দলীয় কোন্দল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ খরস্রোতার মতো বহতা নদী। এ দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে, থাকবে। প্রতিযোগিতা থেকে কিছু জায়গায় প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সেগুলো নিরসনই আমাদের কাজ। সমস্যা যত কঠিনই হোক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলেই তা সমাধান হয়। কোনো পক্ষ নেয়া যাবে না, যৌক্তিক কথা বলতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আবেগতাড়িত না হয়ে কাজ করতে হবে, আমি সেটা করি।

নেতৃত্ব নির্বাচনের কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতিটি পদের জন্য অনেক যোগ্য নেতা আছেন। কিন্তু সবাইকে কমিটিতে স্থান দেয়া যায় না। দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কর্মীদের আস্থাভাজন, সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়-এমন ব্যক্তিকে নেতা বানালে দলের জন্যও ভালো হয়। আমরা পরীক্ষিত, আদর্শিক ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে কমিটি করছি। এটা সর্বত্র অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজদের সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজরা। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের অনেকের হাত ধরে বিভিন্ন পরিচয়ে, বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে দলে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। দলে আসে লুটপাট আর সুবিধা নিতে। এজন্য কিছু টাকাও খরচ করে। এদের নির্মূল করা আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। যারা সুবিধা নিয়ে এদের দলে এনেছেন, আমরা তাদেরও চিহ্নিত করেছি। হয়তো সরাসরি বলি না। আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কমিটি করার সময় সেগুলো আমলে নিই। বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশ আছে- যাদের বিচ্যুতি ঘটেছে তাদের কমিটিতে রাখছি না। নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, তাদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের দলের পদেও রাখা হচ্ছে না।

তৃণমূলের কার্যক্রম দিবসভিত্তিক, নিয়মিত বৈঠক হয় না, ক্ষমতা কুক্ষিগত দুই নেতার হাতে। এ প্রসঙ্গে বি এম মোজাম্মেল বলেন, কিছু জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত বৈঠক হয়। অনেকেই করে না- এটা ঠিক। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে সভাগুলো নিয়মিত হলে নিজেদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি ও দলাদলির অবসান হয়। তৃণমূল শক্তিশালী হবে। অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজদের ঠেকানো সহজ হবে। সভাগুলো না হওয়ায়- নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকে। তখন কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে সেগুলো সমাধান করতে হয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়