রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

লাহোরে বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২১ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৬, ২০২১ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শেখ মুজিব বাঙালির মাতৃভূমির নাম ‘বাংলাদেশ’ ঘোষণা করলেন। পশ্চিম পাকিস্তানের অনেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিল, পূর্ব পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ’ বললেন কেন? বঙ্গবন্ধু বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলো পুরনো নামে থাকলে ‘বাংলাদেশ’ নয় কেন?

আগরতলা মামলা চলার সময় প্রেসিডেন্ট আইয়ুব জাতীয় পরিষদে এই মর্মে একটি আইন পাস করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ব বাংলা নামে অভিহিত করলে কঠোর দণ্ড প্রদান করা হবে। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবসে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শাসনতন্ত্র প্রণীত হলে তাতে এই অঞ্চল ‘বাংলাদেশ’ নামেই অভিহিত হবে। মওলানা ভাসানী ও আতাউর রহমান খান এক বিবৃতি দিয়ে ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের প্রতি সমর্থন জানান।

শেখ মুজিব যখন ঘোষণা করলেন যে, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মাতৃভ‚মির নাম হবে ‘বাংলাদেশ’ তখন পশ্চিম পাকিস্তানে অনেকেই উদ্বিগ্ন ও বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বলেছিল, আপনার বাড়ি তো পূর্ব পাকিস্তানে। কিন্তু আপনি ওই প্রদেশটির নাম ‘বাংলাদেশ’ বললেন কেন? পাকিস্তান কি করে ‘বাংলাদেশ’ হতে পারে?
মুজিব এই প্রশ্নে এতটা আশ্চর্য হয়েছিলেন যে, কিছুক্ষণ তিনি জবাব দিতে পারেননি। পরে তিনি প্রশ্ন কর্তাদের বলেন, ‘এসব কি অদ্ভুত প্রশ্ন করছেন? পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যদি তাদের পুরনো নামই অর্থাৎ পাঞ্জাব, সিন্ধু, বালুচিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থাকতে পারে তবে ‘বাংলাদেশ’ নয় কেন? মনে রাখবেন ইতিহাসে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই অঞ্চলের নাম ছিল ‘বাংলাদেশ’। হিন্দু রাজা ও মুসলমান নবাবদের আমলে ছিল ‘বাংলাদেশ’, ইংরেজ আমলেও ‘বাংলাদেশ’। তবে এখন পাকিস্তান রাষ্ট্রে এর নাম ‘বাংলাদেশ থাকবে না কেন?’

যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম বইটির কভার ফটো

গোলটেবিল বৈঠক : ফেব্রুয়ারি ১৭, ১৯৬৯ তারিখে আইয়ুব খান একটা রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স আহ্বান করেন। ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটির প্রেসিডেন্ট নওয়াবজাদা নাসরুল্লাহ খানকে তিনি আহ্বান জানান। নাসরুল্লাহ খান তিনটি শর্তসাপেক্ষে যোগ দিতে রাজি হন:

১. জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা;
২. ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা;
৩. সব রাজনৈতিক কারাবন্দিকে মুক্তি দেয়া।

আইয়ুব প্রত্যেকটি শর্তে রাজি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয় অল্প সময়ের জন্য এবং এর পরের তারিখ ধার্য করা হয় ১০ মার্চ। পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন। তিনি রাজি হন তার প্রণীত ১৯৬২ সনের সংবিধান বাতিল করে নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করা যাবে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা তুলে নেয়া সম্পর্কে নীরব থাকেন।

কনফারেন্সটি আবার ১০ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নওয়াবজাদা নাসরুল্লাহ একটি দু’দফা প্রস্তাব পেশ করেন। ১. আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনসহ একটি ফেডারেশনের সংসদীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে; ২. প্রত্যক্ষ বয়স্ক ভোটে আইন সভা গঠিত হবে।

ফেডারেল পার্লামেন্টারি সিস্টেমের সংজ্ঞা নিয়ে এবং প্রদেশগুলোকে কতটুকু স্বায়ত্তশাসন দেয়া যেতে পারে- এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিখ্যাত ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন এবং তার সঙ্গে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফাও যুক্ত হয়। তাকে সমর্থন করেন বিচারপতি এস এম মোর্শেদ এবং প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বারবার বললেন, ‘এ দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এই ছয় দফাই হচ্ছে একমাত্র রক্ষাকবজ।’

আইয়ুব খান তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করলেন, ‘এ দেশ’ বলতে কোন দেশকে বোঝানো হচ্ছে?’ এটা স্পষ্ট হলো যে, তিনি মুজিবের ৬ দফা নিয়ে মোটেও খুশি ছিলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, ৬ দফা মানলে দেশ ভেঙে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমি যদি ছয় দফায় রাজি হই, কায়েদ-ই আযমের সব অর্জন শেষ হয়ে যাবে।’

বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিলেন এবং ৬ দফা ও ১১ দফার পক্ষে বক্তব্য রাখলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বেলিত বাঙালি জাতি ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’ তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান জাতীয় সত্তার নির্যাস হয়ে বাঙালির মনপ্রাণ এবং অস্তিত্বকে গ্রথিত করে তীক্ষ্ন সংগ্রামের পথ ও প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। আইয়ুব প্রস্তাবিত ও বহু প্রতীক্ষিত গোলটেবিল বৈঠকের শেষে কয়েকটি পরিবর্তন ঘোষণা করলেন-

১। শাসন ক্ষমতা থেকে তিনি অবসর নেবেন।
২। প্রাপ্ত বয়স্কেও ভোটের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র।
৩। ফেডারেল শাসন ব্যবস্থা।
৪। কেন্দ্রের হস্তক্ষেপবিহীন প্রাদেশিক পরিষদ গঠিত হবে।
৫। কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতার এখতিয়ার লিপিবদ্ধ থাকবে।
এই ঘোষণা বিশ্লেষণ করে দেখা গেল- ৬ দফা বা ১১ দফা কোনোটাই আইয়ুব বলেননি।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে
‘জেনারেল ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা দখল’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়