রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২৩১ রুশ কর্মী করোনা আক্রান্ত

আগের সংবাদ

আগরতলা মামলা প্রত্যাহার

পরের সংবাদ

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অনীহা

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১ , ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৫, ২০২১ , ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিয়মিত বসছে না জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর বৈঠক। এ কারণে থেমে গেছে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ, থাকছে না জবাবদিহিতা। জবাবদিহির অভাবে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ধীরগতির পাশাপাশি বাড়ছে দুর্নীতিও। কমিটিগুলোর কার্যক্রমের স্থবিরতায় ঝুলে আছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলো নিয়মিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির অজুহাতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন সদস্যরা।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। শুরুর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়। দ্রুততার সঙ্গে কমিটি গঠিত হলেও কাজের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কমিটির তৎপরতা নেই। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় কমিটির মাসে অন্তত একটি বৈঠক করার কথা। অথচ অধিকাংশ কমিটির ছয় মাসেও একটি বৈঠক হচ্ছে না। গত আড়াই বছরে কোনো মন্ত্রণালয়ই কার্যপ্রণালি বিধির শর্তপূরণ করেনি।

গত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছর ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি কমিটির ন্যূনতম ২৫টি করে বৈঠক করার কথা। গত বছরের মার্চে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় কমিটিগুলো বৈঠক করা থেকে বিরত থাকে।

তথ্যমতে, কোভিট মহামারির মধ্যে সবচেয়ে কম, মাত্র ৩টি বৈঠক করেছে লাইব্রেবি সম্পর্কিত কমিটি। আর সর্বোচ্চ ৪৬টি বৈঠক করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি। ভ‚মি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, ধর্ম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প, খাদ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, অর্থ, জনপ্রশাসন, শিক্ষা, বস্ত্র ও পাট, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, তথ্য ও সম্প্রচার, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত, পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংসদ কমিটি ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি মাত্র ১০টি বা তারও কম বৈঠক করেছে।

আবার ১১-১৯টি করে বৈঠক করেছে সমাজকল্যাণ, পানিসম্পদ, আইন ও বিচার, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, গণপূর্ত ও গৃহায়ণ, প্রতিরক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ, অনুমিত হিসাব, কৃষি, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন, রেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ও সরকারি প্রতিশ্রুতি-বিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

করোনা মহামারির মধ্যে কমিটির সভাপতিদের তৎপরতা ও দায়িত্বশীলতার নিদর্শন হিসেবে ২০টি অধিক বৈঠক করেছে কয়েকটি কমিটি। এর মধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি ৪৬টি, নৌপরিবহন ৩২টি, সংসদ সচিবালয় কমিটি ৩২টি, মহিলা ও শিশু ২৩টি, বন ও পরিবেশ ২০টি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি ২০টি বৈঠক করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার তথা মন্ত্রণালয়ের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতের জায়গা হলো সংসদীয় কমিটি। কিন্তু কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে মন্ত্রণালয়গুলো জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। বাড়ছে মন্ত্রণালয়গুলোর প্রকল্পে দুর্নীতি। বাড়ছে অর্থের অপচয় ও অপব্যবহার। প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক কালক্ষেপণ হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংসদীয় কমিটির বৈঠককে গুরুত্বহীন মনে করে মন্ত্রী-সচিবরা সিদ্ধান্ত বা সুপারিশকে গুরুত্ব দেন না। এজন্য অনেক সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে কোরাম সংকটে বৈঠক হয় না। আবার চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে ৩টি (৩৯, ৪০ ও ৪১তম) বৈঠক করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি। ইতোমধ্যে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় সংসদের ৩টি অধিবেশনও বসেছে। কিন্তু অনেক কমিটি এখনো বৈঠক ডাকেনি।

করোনার সংক্রমণ এবং কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বছরজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু করোনাকালে এই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি ছিল একেবারেই চুপ। সমালোচনার মুখে চলতি বছর মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি কয়েকটি বৈঠক করেছে।

এ বিষয়ে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা করোনা সংক্রমণের আগে অনেকগুলো বৈঠক করেছি। করোনার কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে বৈঠক বন্ধ ছিল। করোনা সংক্রমণ চলতি বছরে কমে গেলে অনেকগুলো বৈঠক করেছে।

তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে খবরের পেপার কাটিংগুলো সংগ্রহ করে রাখি। অনেক দুর্নীতি হচ্ছে। এগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। আমরা মন্ত্রণালয়গুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেছি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, নিয়মিত বৈঠক হলে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এবং তারা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। জরুরিভিত্তিতে আমরা বৈঠক করেছি। তবে করোনার জন্য সবাই কিছুটা ভীত ও ঘরে মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে টিকা আমদানি নিয়ে যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, কমিটির বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে করোনাকালে সঙ্গত কারণে বৈঠক বন্ধ ছিল। তবে চলতি জুন মাসে একটা বৈঠক করেছি। করোনা কমলে ফের বৈঠক করব।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভোরের কাগজকে জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে অনেক কমিটির বৈঠক বন্ধ ছিল। তবে তার আগে কমিটিগুলো নিয়মিত বৈঠক করেছে। আবার করোনা সংক্রমণ কমলে নিয়মিত বৈঠক বসবে। পুরো বছর কোনো বৈঠক না করার কারণ জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জানান, করোনার কারণে বৈঠক ঠিকমতো করা সম্ভব হয়নি।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়