ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের বিদায়

আগের সংবাদ

বাংলাদেশকে ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

পরের সংবাদ

বিকল্প-পথ ভাবনা (২য় পর্ব)

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১ , ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৮, ২০২১ , ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

বুলেটিনে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে লিপ্ত ব্যক্তিগণ ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ সংগ্রহ করেছিল।

নিয়মতান্ত্রিক পথে পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির পথ-অন্বেষায় বিকল্প পথ বাছাই করতে সচেষ্ট ছিলেন কতিপয় সেনা অফিসার ও রাজনীতিবিদ। সে পথ সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পথে অগ্রসর হওয়া।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগলিক ব্যবধান, স্থল, জল ও আকাশ সীমান্ত বিশাল ভারত ভূখণ্ড দ্বারা বিভক্ত, যার সঙ্গে পাকিস্তানের ছিল বৈরী সম্পর্ক। এ সব বিষয়গত কারণ সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে উদ্যোক্তাদের মনে প্রাথমিক ভিত্তির দৃঢ়তা আনতে সাহায্য করে।

সশস্ত্র পরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করার পূর্বেই এই সশস্ত্র বিদ্রোহের বিষয়টি পাকিস্তান গোয়েন্দা বাহিনীর নিকট উদ্ঘাটিত হয়ে পড়ে। বিদ্রোহ পরিকল্পনাকারীদের আটক করা হয় এবং তাদের বিচারের জন্য এই পরিকল্পনাকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ নামে অভিহিত করে মামলা দায়ের করে ও জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে রাওয়ালপিন্ডি হতে প্রকাশিত এক বুলেটিনে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে লিপ্ত ব্যক্তিগণ ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং প্রচুর পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল তেমন সাক্ষাৎ প্রমাণও পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগে বলা হয়, এরা (ধৃত ব্যক্তিগণ) আগরতলাস্থ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার লে. কর্নেল মিশ্র ও মেজর মেননের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম বইটির কভার ফটো

১৮ জানুয়ারি ’৬৮ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস নোটে ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যের এই মামলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার একটি প্ল্যান তুলে ধরা হয়েছে। এই প্ল্যানে বলা হয় যে, মিলিটারি ইউনিটসমূহের অস্ত্রাগারসমূহ একযোগে দখল করে সেনাবাহিনীকে অকেজো করে দেয়ার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য লোক সংখ্যার স্বল্পতার জন্য কমান্ডো ধরনের আক্রমণ পরিচালিত করার পরিকল্পনা করা হয়। এই প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য-

১) যারা সশস্ত্র কার্যক্রমকে সংগঠিত ও দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর করতে সমর্থ সেই ধরনের ব্যক্তিদের সশস্ত্র বাহিনীর ও প্রাক্তন সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম তালিকাভুক্ত করা, যাদের দ্বারা সশস্ত্র সংগ্রামের অগ্রগামী দল গঠন করা যায়।
২) স্থানীয়ভাবে ভারত হতে অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহ করা।
৩) প্রোপাগান্ডা দ্বারা সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক অসন্তোষ সৃষ্টি করা।
৪) নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে (ডি-ডে) কৌশলগত সুবিধাজন পয়েন্টগুলো আক্রমণ করে দখল করা।

উল্লেখ্য যে, এই মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে ২৯ জনই ছিলেন বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিরত বা প্রাক্তন সদস্য। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এমএজি ওসমানীকে ‘বিদ্রোহীদের’ নেতারা দলে টানতে চেয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লিখিত রয়েছে। কিন্তু তাকে আসামি করা হয়নি।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে
‘কামানের সামনে ঝাঁপ দেয়া’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.comথেকেও।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়