রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু

আগের সংবাদ

এখন তাদের চাওয়া ভূমির মালিকানা

পরের সংবাদ

ডিনামাইটের ফিউজ

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২১ , ৯:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২১ , ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য দাবি দাবিয়ে রাখতেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। স্বৈরাচার আইয়ুব খান বুঝেছিলেন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি হলো রাজনৈতিক ডিনামাইট আর ছয় দফা হলো তার ফিউজ। সেজন্য যে কোনো উপায়ে এই দাবি আদায়ের সব প্রচেষ্টা রুদ্ধ করতে হবে।

৮ মে নারায়ণগঞ্জে বক্তৃতার পর ঢাকায় ফিরে এলে ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলের ৩২ ধারা মোতাবেক শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। শেখ মুজিবের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক ৭ জুন বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে শ্রমিক মনুমিয়াসহ ১১ জন নিহত হন। এর পরপরই নেমে আসে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী নেতাকর্মীদের ওপর জেল-জুলুম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। আইয়ুব খানের দালাল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আবদুল মোনেম খান প্রকাশ্যেই বলে বেড়াতে থাকেন: তিনি যতদিন ক্ষমতাসীন আছেন ততদিন শেখ মুজিবকে দিনের আলো আর দেখতে হবে না।

২১ মাস কারাগারে বিচ্ছিন্ন কনডেম্ড সেলে আটক রাখার পর ১৯৬৮ সালের ১৭/১৮ জুন কতিপয় সামরিক ব্যক্তি দৈহিক বল প্রয়োগ করে ঢাকা সেনানিবাসে শেখ মুজিবকে নিয়ে আসে এবং একটি রুদ্ধকক্ষে তাকে আটকে রাখে। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইনে আটক শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার এই ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিবকে প্রধান আসামি করে দায়েরকৃত রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব মামলা সম্পর্কে শেখ মুজিব তার জবাববন্দিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ‘ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ রাজনৈতিক, অর্থনেতিক, চাকরির সংখ্যা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষমতার ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের পথে বিঘœ সৃষ্টি করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, ‘স্বার্থবাদী মহল কর্তৃক শোষণ অব্যাহত রাখার যে ষড়যন্ত্রজাল বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বিস্তার করেছে এই মামলা’ তারই বিষময় প্রতিক্রিয়া। পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য দাবি দাবাইয়া রাখার জন্যই এই ষড়যন্ত্র মামলা’ স্বৈরাচার আইয়ুব খান ঠিকই বুঝেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি হলো রাজনৈতিক ডিনামাইট আর ছয় দফা হলো তার ফিউজ। সেজন্য যে কোনো উপায়ে এই দাবি বানচাল করতে হবে দাবি আদায়ের সব পথ ও প্রচেষ্টাকে রুদ্ধ করতে হবে।

যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম বইটির কভার ফটো

বাঙালি সেনা অফিসারদের জাতীয়তাবোধ ও জাতিসত্তা বিকাশের ঐক্যবদ্ধ আকাক্সক্ষাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার জন্য আগরতলা মামলা তৈরি করা হয়। রাজনৈতিকভাবে শেখ মুজিবকে ধ্বংস ও সামরিকভাবে বাঙালি সেনাদের মধ্যে আতঙ্ক, সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভ‚মিকা খর্ব ও বানচাল করানোর সুচতুর কৌশল হিসেবে আইয়ুব খান এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।

যার জন্যে পরবর্তীতে লক্ষ্য করা গেছে, সশস্ত্র প্রতিরোধে বাঙালি সেনা অফিসাররা উদ্যোগী ভূমিকা নিতে প্রাথমিকভাবে দ্বিধান্বিত ছিল।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে ‘বিকল্প-পথ ভাবনা’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়