শিক্ষাদানের বিকল্প পন্থা কী হতে পারে

আগের সংবাদ

প্রথমবারের মত ইউরোর শেষ ষোলতে অস্ট্রিয়া

পরের সংবাদ

মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়া

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১ , ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২২, ২০২১ , ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে গৃহহীন, আশ্রয়হীন ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে গৃহদানে যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছেন, এর দ্বিতীয় পর্বে তিনি গত ২০ জুন ৪৫৯টি উপজেলায় ৫৩ হাজার ৩৪০টি আধাপাকা বাড়ির কাগজপত্র ভার্চুয়ালি গণভবন থেকে গৃহহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করেছেন। এর আগে জানুয়ারি মাসে ৬৯ হাজার ৯০৪টি বাড়ি আশ্রয়হীনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত পৌনে ৪ লাখ পরিবারের মধ্যে এ ধরনের বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র প্রদান করা হয়। এই ডিসেম্বরে আরো ১ লাখ এবং আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে একই ধরনের বাড়ি বিতরণ করার পরিকল্পনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওই ভার্চুয়াল বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন যে তার শাসনামলে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না। সেই লক্ষ্যে তিনি যাদের ভূমি আছে কিন্তু থাকার ঘর নেই, একইসঙ্গে শহরের বস্তিগুলোতে যারা ভাড়া দিয়ে স্বাস্থ্যহীন, মানহীন পরিবেশে থাকেন তাদের থাকার জন্য তিনি পাকা আবাসন করার পরিকল্পনা করতে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেছেন, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেখানে একটি পরিবারও গৃহহীন ও কর্মহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তাভাবনা আমাদের সংবিধানের মৌল দর্শনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সংবিধানে অঙ্গীকার করা আছে জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার পূরণ করা। তিনি এখন মৌলিক এই ৫টি অধিকারের তৃতীয় তথা বাসস্থানের ব্যবস্থাই সব মানুষের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ তবে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য অবশ্য করণীয় হলেও অত্যন্ত দুঃসাহসের বিষয়। কারণ বাংলাদেশে এখনো লাখ লাখ পরিবার হতদরিদ্র, গৃহহীন, ভূমিহীন এবং স্থায়ী কর্মহীনভাবে বসবাস করছে। কেবল এই বিপুলসংখ্যক পরিবারকে গৃহদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে। সেই চ্যালেঞ্জটি শেখ হাসিনার আগে একমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অন্যসব সরকারও দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা শুনিয়েছিল। কিন্তু কোনো সরকারই হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে কিছু রিলিফ দান ব্যতীত আর কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে দেখা যায়নি। বস্তুত বাংলাদেশের মতো দারিদ্র্যপীড়িত দেশে গৃহদান, ভূমি বিতরণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ধরনের অর্থনৈতিক ভিত্তি আগে যেটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেটি সেসব সরকার গ্রহণ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি। বেশিরভাগ সরকারই ক্ষমতা দখল, বেদখল এবং জনগণের মধ্যে জনতুষ্টি ও বিভ্রান্তিমূলক বেশকিছু প্রচার-প্রচারণা, আবেগ-অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে মানুষের ভোট আদায় করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল। এদের কেউই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান, মৌলিক আদর্শ, জনগণের জন্য কল্যাণবাদী চিন্তাকে রাষ্ট্রে প্রয়োগ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, জনগণকে বর্তমান বিশ্বের ধ্যান-ধারণা, জ্ঞানদক্ষতা ও মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার কোনো সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেনি। সে কারণেই বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা লাভ করলেও এটিকে অতিক্রম করে উন্নয়নশীল নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করার মতো অর্থনৈতিক অগ্রগতি ২০০৯-১০ সালের আগ পর্যন্ত কোনো সরকারই অর্জন করতে পারেনি। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যে রূপকল্প উপস্থাপন করেছিলেন তাতে ২০২১ সালকে টার্গেট করে উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশ ও জাতির সম্মুখে উপস্থাপন করেছিলেন। ক্ষমতায় এসে তিনি সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ একের পর গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে থাকেন। সেসব চ্যালেঞ্জের বিষয় সবারই জানার কথা। ২০০৯-২১ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রায় ৭-৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা বাজেটের আকার বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, জিডিপির প্রবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি প্রবাহ, কৃষি অর্থনীতি, গার্মেন্টস ও বিভিন্ন ধরনের শিল্পের ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের গড় আয় বৃদ্ধি এমনকি দেড় বছর ধরে করোনা মহামারির সঙ্গে রাষ্ট্র ও মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে টিকে থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা, বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ অভূতপূর্বভাবে পরিবর্তনের বাস্তবতা দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছে। সে কারণেই শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে করোনার এই মহাদুর্যোগ কালেও দেশের অভ্যন্তরে লাখ লাখ আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে উন্নত জীবন ব্যবস্থা যুক্ত করার কঠিন কাজটি সম্পন্ন করে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজে দৃঢ়ভাবে অবস্থান ধরে রাখছে। সুতরাং শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে এখন যে মানবিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ার উচ্চারণ করছেন সেটি একটি রাষ্ট্রচিন্তার মৌলিক ধারণা, যা বিশ্বের কল্যাণবাদী রাষ্ট্রের দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক মর্যাদায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সেটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্তর্জাত উপাদান। এটি বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও পরিকল্পনারই অন্তর্গত বিষয়। তবে কাজটি খুবই মহৎ হলেও কঠিন চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে যেমন বলেছেন যে, ‘মানুষ যখন একটা ঘর পায়, তার মধ্যে যে আনন্দ, তার মুখে যে হাসি, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু নয়।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এই অংশটি তার নেয়া উদ্যোগের আংশিক প্রকাশ। সমগ্রতা হচ্ছে এই পরিবারগুলোর মুখে শুধু হাসিই নয়, জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানোর মধ্য দিয়ে গোটা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক চরিত্রের মধ্যে যে বিপুল পরিবর্তনের সূচনাটি ঘটতে যাচ্ছে সেটিই হচ্ছে মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশের অভীষ্ট লক্ষ্য। মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ একটি উন্নত গঠিত জাতির রাষ্ট্র যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক এবং জীবনব্যবস্থার নিশ্চয়তার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। একসময় বাংলাদেশকে বিদেশে তলাবিহীন ঝুড়ি, মিসকিনের দেশ, দরিদ্রপীড়িত দেশ, দুর্যোগপীড়িত দেশ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হতো। এসব অভিধার পেছনে ছিল শত শত বছরের শোষণ-বঞ্চনা ও আর্থসামাজিক বৈষম্য যা থেকে মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। সেই স্বাধীনতা আমাদের যে রাষ্ট্র প্রদান করেছিল, তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি আত্মমর্যাদাশীল উন্নত জাতি গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষকে প্রদান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার হত্যাকারীরা সেই পরিকল্পনা ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা জনগণকে মর্যাদার কোনো ধারণতেই রাখেনি বরং নানা বিভ্রান্তি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, অশিক্ষা, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা, শাসন-শোষণ ও নানা প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনুন্নয়নের আবর্তে ঠেলে দিয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশ বের হওয়ার তেমন কোনো রাষ্ট্রচিন্তার পথ খুঁজে পায়নি। বলা চলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে পরিচালিত করার হাল ধরেন। শত্রুপক্ষ তার এই হাল ধরাটি বুঝতে জোটবদ্ধ হয়েছিল। নির্বাচনে পরাজিত করার জন্য ষড়যন্ত্র, ধর্মের নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ ইত্যাদি ছড়িয়ে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে দেশে ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত যে অরাজকতা, হত্যাযজ্ঞ, সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করেছিল তা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই অভিধাটি দেয়া হয়েছিল। এর ফলে আমাদের মর্যাদা কতটা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল তা অনেকেই ভুলে গেছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জঙ্গিবাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক ধারায় চলে যাওয়ার ফলে দেশটিতে আর্থসামাজিক ও জাতিগত অস্তিত্বের যে বিপন্নতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটি কেবলমাত্র গভীরভাবে যারা রাজনীতি সচেতন তারাই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে প্রকৃত মর্যাদার গতিপথে ফিরিয়ে আনার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড কত জটিল এবং বিপদসঙ্কুল সেটি আমরা ২০০৭ পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে লক্ষ্য করতে পারছি। ২০০৯ সালের পর শেখ হাসিনা এসব সংকট অতিক্রম করে দেশকে অনেক সূচকে বিস্ময়করভাবে এগিয়ে নিতে পেরেছেন। এটি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ ব্যানার্জিসহ বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ, মর্যাদাপূর্ণ সংস্থাও উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কথা না-ইবা বললাম। শেখ হাসিনা গত ১২ বছরে দেশকে পরিবর্তনের নানা সূচকে এতটাই উন্নীত করতেন পেরেছেন, যে কারণে তিনি এখন মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করতে পারছেন। তার এই প্রত্যয়টি রাজনৈতিক কোনো আপ্তবাক্য নয়। এটি এখন বাস্তবে রূপায়িত করা সম্ভব। সব মানুষকে বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের খাঁচা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হলে বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ অমর্যাদাকর উক্তি করার ভিত্তি খুঁজে পাবে না। সেটি কার্যকর করার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু কাজটি একা তার পক্ষে কতটা সম্ভব হবে সেটি একটি প্রশ্ন। সবাই আমরা যদি কেবল ধরে নেই যে তিনি একাই তা করবেন এবং আমরা চেয়ে চেয়ে দেখব, তার নাম বারবার উচ্চারণ করব, নিজেরা যার যার অবস্থান থেকে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখব না সেটি বোধহয় একেবারেই সুযোগ হারানোর অপচেষ্টা হবে। এখানে লাখ লাখ মানুষ এখনো গৃহহীন এবং দরিদ্র অবস্থায় বসবাস করছে। তাদের শুধু বাসস্থান এবং কর্মসংস্থান করলেই চলবে না, তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলক স্কুল শিক্ষা, ভোকেশনাল শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং মেধার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগেরও ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে আমরা বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের এমন পর্যায়ে উন্নীত করাতে সক্ষম হলে তবেই কেবল দেশ থেকে দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনের কাজ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া যা শেখ হাসিনা শুরু এবং গতি প্রদান করছেন কিন্তু এর অভিযাত্রা রাষ্ট্রের অগ্রগতির সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেয়ার বিষয়। সেই কাজটি এগিয়ে নেয়ার জন্য জাতিগতভাবে আমাদের মধ্যে রাষ্ট্রচিন্তার বোধ, মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ নেয়ার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনসহ অনেক কিছুই সম্পন্ন করার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের রাজনীতি, শিক্ষা, পেশা, প্রশাসনসহ সর্বত্রই সেই উন্নত রাষ্ট্রচিন্তার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই শেখ হাসিনার উদ্যোগটি কার্যকর করতে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ বিভিন্ন শক্তিকেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে আসতে হবে। গতানুগতিক রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী দলগুলোকেও বের হয়ে আসতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে সূচিত মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র গঠনের বহুমুখী কর্মযজ্ঞকে। তাহলেই শেখ হাসিনার উচ্চারিত মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ বাস্তবে দৃশ্যমান হবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়