বোয়ালমারীতে লকডাউন অম্যান্য করায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা

আগের সংবাদ

আ.লীগ নেতার ধর্ষণ, সালিশে জরিমানার টাকা মসজিদ-মাদরাসায়

পরের সংবাদ

করোনার টিকা উৎপাদনে সম্ভাবনা আছে, সক্ষমতাও হোক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২২, ২০২১ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

গত ৫০ বছরে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাফল্য আমরা দেখেছি। ওষুধ শিল্পেও অগ্রগতি কম নয়। বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে গবেষণা করছে। বেশকিছু টিকা আবিষ্কার, উৎপাদন এবং প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা টিকা আবিষ্কার তো দূরের কথা করোনা টেস্ট কিট তৈরির গবেষণায়ও গুরুত্ব দেইনি। সময় এসেছে বাংলাদেশকেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টিকা উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে হবে। টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। জানা গেছে, ইনসেপটা, ইউনিহেলথ এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, এই তিনটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রস্তাব সরকারকে দিয়েছে। এছাড়া রেনাটা লিমিটেড মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা আমদানির জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রয়েছে ইনসেপটা ফার্মার। এরা বছরে ৫০ কোটি টিকা উৎপাদন করতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে দেশেই টিকা উৎপাদনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ছয় ধরনের টিকা উৎপাদন করত। বিশ্বের এই অঞ্চল থেকে গুটিবসন্ত নির্মূলে রাজধানীর মহাখালীর এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত টিকার বিশেষ ভূমিকা ছিল। ১০ বছর আগে মহাখালীর এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ জলাতঙ্ক রোগের টিকা উৎপাদন করেছিল। বাংলাদেশের করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতাও আছে। আমাদের সামনে টিকা উৎপাদনের উদাহরণ আছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূলত দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তি এবং টিকা তৈরির কাঁচামাল। প্রযুক্তিগতভাবে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। কারণ প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য যে গবেষণা ও তহবিল দরকার তা আমাদের নেই। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনই। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার টেকনোলজিতে উৎপাদিত টিকার কাঁচামাল ও প্রযুক্তি পাওয়া গেলে কো-প্রোডাকশনের ভিত্তিতে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে একই মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করা সম্ভব। সরকার বলেছে, জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি হলে ৮০ শতাংশ হবে কমবেশি ১৩ কোটি। প্রতিজনকে দুই ডোজ টিকা দিলে মোট ২৬ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন হবে, যা স্বল্প সময়ে বাইরের উৎস থেকে সংগ্রহ করা কঠিন। অথচ দেশে টিকা উৎপাদন করা হলে তার খরচ কম পড়বে। দেশের অনেক সাশ্রয় হবে। অনিশ্চয়তাও দূর হবে। টিকা উৎপাদনের যে প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ তা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় করুক। উৎপাদনে যেসব ঘাটতি রয়েছে তাও পূরণ করতে হবে। সর্বোপরি আমাদের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়