জীবন-জীবিকাই যেখানে মুখ্য

আগের সংবাদ

ভারত থেকে টিকা পাওয়া এখনো অনিশ্চিত

পরের সংবাদ

পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বাড়ছে

মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নিতে হবে পদক্ষেপ

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১ , ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২১ , ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড। বাবা-মায়ের হাতে সন্তান হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি সন্তানের হাতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রাণহানিও ঘটছে। পরকীয়ার কারণে স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনাও কম নয়। গত শনিবার রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাসা থেকে এক দম্পতি ও তাদের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে, হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দম্পতির বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনকে আটক করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই তিন খুনের পেছনে অনৈতিক সম্পর্ক ও নানারকম জটিলতার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্যালিকা মোহিনীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল শফিকুলের। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এমন পারিবারিক ও সামাজিক হত্যাকাণ্ড প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসছে। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। এসব ঘটনা বলে দেয় মানুষের নৈতিক স্খলন, লোভ ও হিংস্রতার ভয়াল রূপের কাছে টিকতে পারছে না সামাজিক কিংবা পারিবারিক বন্ধন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরা, অস্থিরতা ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-টানাপড়েনে আপনজনকে খুনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পারিবারিক বন্ধন ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে সমাজে বেড়ে চলেছে অপরাধও। এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই। ফলে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-সন্তানের মধ্যেও স্নেহের বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। সমাজের বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পারিবারিক, সামাজিক অস্থিরতা দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য যেমন অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিচ্ছে তেমনি অবক্ষয়ের চরম অবস্থার জানান দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়