মোহামেডানকে হারিয়ে বদলা নিল আবাহনী

আগের সংবাদ

মর্টগেজ ভাড়াটে

পরের সংবাদ

দেশে অনুমোদিত কোভিড ভ্যাকসিনের ইতিবৃত্ত

লে. কর্নেল মো. নাজমুল হুদা খান

সহকারী পরিচালক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২১ , ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

গত ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এক অনাড়ম্বর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে একজন নার্সকে ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনিকা প্রবর্তিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন ঢাকা মহানগরীতে ৪৭টিসহ সারাদেশে একযোগে প্রয়োগ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন এবং দুটি ডোজ সম্পন্ন করেছে প্রায় ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৬২ জন। ইতোমধ্যে চীন থেকে সিনোফার্ম এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইজার বায়োনটেকের টিকা পৌঁছেছে এবং ১৯ জুন সারাদশে সাধারণের মধ্যে তা প্রয়োগ শুরু হয়। উপরন্তু চীনে তৈরি সিনোব্যাক এবং রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ব্যবহারে দেশের ঔষধ প্রশাসন অনুমোদন প্রদান করেছে। নিচে সংক্ষেপে আমাদের দেশে প্রয়োগকৃত ও অনুমোদিত টিকার সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত তুলে ধরা হলো।

অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন : অক্সফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ সুইডিশ বহুদেশীয় ওষুধ ও বায়োটেকনোলজি কোম্পানির যৌথ আবিষ্কার অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন। মানবদেহে নিষ্ক্রিয় এডিনো ভাইরাস নামে কোভিড-১৯ ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন সংযুক্তির মাধ্যমে এ ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিনের ব্র্যান্ড নাম কোভিশিল্ড। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনটি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সিসহ বিভিন্ন দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কর্তৃক ব্যবহারের অনুমাদন পেয়েছে। ২ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণকারীকে প্রায় ৮৭ শতাংশ কোভিড ভাইরাস বি.১.৬১৭.২ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। গ্রহণকারীর দেহে মৃদু থেকে মাঝারি পাশর্^প্রতিক্রিয়া ছাড়া তেমন সমস্যা এখন পর্যন্ত গবেষণায় পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশে^র প্রায় ৬৫টি দেশে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। কতক দেশে অল্প সংখ্যক রোগীর শরীরে রক্ত জমাটের খবরের পর এ টিকার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, রক্ত জমাটের ঘটনার সঙ্গে এ টিকার কোনো যোগসূত্র নেই। ১২ সপ্তাহ কিংবা তার বেশি সময়ের ব্যবধানে এ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ কার্যকর বলে প্রমাণিত এবং ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণে এর কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন থাকে।

সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক : চীনের সিনোফার্ম বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি প্রবর্তিত সিনোফার্ম ভ্যাকসিন সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রয়োগের জন্য উপহার হিসেবে ৫ লাখ ডোজ গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় আরো ভ্যাকসিন আমদানি করা হবে। সিনোভ্যাক ভ্যাকসিনও চীনের সিনোভ্যাক বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন। এ দুটি ভ্যাকসিনই বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বিশ^ব্যাপী ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করেছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস কোষকে ল্যাবে নিষ্ক্রিয় করে এ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। মোট ২ ডোজের এ ভ্যাকসিন প্রায় ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত; তবে সিনোভ্যাক ৬৭ শতাংশ কার্যকর বলে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে প্রমাণিত হয়েছে। ২ ডোজের এ ভ্যাকসিনের তেমন পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই এবং ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব।

ফাইজার বায়োনটেক ভ্যাকসিন : যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার এবং জার্মানির বায়োফার্মাসিউটিক্যাল নিউ টেকনোলজি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় ফাইজার বায়োনটেক ভ্যাকসিন। করোনা ভাইরাসের নিউক্লিওসাইড মডিফাইড মেসেঞ্জার আরএনএ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এ ভ্যাকসিনের উদ্ভব। ২১ দিনের তফাতে ২ ডোজ ফাইজার ভ্যাকসিন প্রায় ৯০ শতাংশের ওপর কার্যকর বলে প্রস্তুতকারী কোম্পানির গবেষণা তথ্যে দাবি করা হয়। তবে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণের বিষয়টি তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ফাইজার বায়োনটেকের ১ লাখ ৬ হাজার ভ্যাকসিন úৌঁছেছে।

স্পুটনিক-ভি : এটি রাশিয়ার গ্যামোলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রস্তুতকৃত একটি ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন। স্পুটনিক-ভি বাংলাদেশে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে দেশের ওষুধ প্রশাসন। প্রথম ডোজ নেয়ার ১৪ থেকে ২১ দিন পর থেকে এর কার্যকারিতা ৭৪ শতাংশ বলেই প্রকাশ। ২১ দিন অন্তর দুুটি ডোজ সম্পন্নের পর এর কার্যকারিতা প্রায় ৯২ শতাংশ বলে দাবি করছে প্রস্তুতকারী সংস্থা। এ ভ্যাকসিনের তেমন উল্লেখযোগ্য পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই এবং ১৮-৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সের সবার জন্য প্রযোজ্য। এ ভ্যাকসিন পাউডার এবং তরল দুটি অবস্থাতেই রয়েছে, যা ৪-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা সহজ।

বিশ^ব্যাপী একদিকে যেমন নানা প্রযুক্তি ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে করোনা ভাইরাসকে ধ্বংসের জন্য, অন্যদিকে এ বিধ্বংসী ভাইরাসটিও বসে নেই। বিভিন্ন দেশে হাজারো ধরনের ভ্যারিয়েন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ভাইরাস। আশার কথা হচ্ছে, এ পর্যন্ত প্রয়োগকৃত সব ভ্যাকসিনই প্রায় সফলভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ করছে। যদিও একেক ভ্যাকসিন একেক ধরনের স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত, তবে সব ভ্যাকসিনই গ্রহণকারীর তীব্র অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। তথাপি এ মরণব্যাধি ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পেতে ভ্যাকসিন গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মেনে চলতে হবে।

লেখক : লে. কর্নেল মো. নাজমুল হুদা খান এমফিল, এমপিএইচ

সহকারী পরিচালক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়