নিম্ন আদালতে আজ থেকে চলবে বিচার কার্যক্রম

আগের সংবাদ

টেকসই পুঁজিবাজারের তাগিদ

পরের সংবাদ

মুজিবের কৌশল

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২১ , ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২১ , ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সামরিক চক্রের অভ্যন্তরীণ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মার্কিন সক্রিয়তার পিছু টানের প্রেক্ষিতে এতদিনের সামরিক শাসনের পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা জরুরি হয়ে পড়লে আইয়ুব খান ১৯৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘোষণা করেন।

শেখ মুজিব ত্বরিত গতিতে এই ঘোষণার সুযোগ গ্রহণ করে দাবি তুললেন- প্রত্যক্ষ নির্বাচন চাই, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার চাই, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন চাই। শেখ মুজিব জানতেন মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে আইয়ুবকে হটানো যাবে না, কিন্তু জনগণের দাবিগুলো জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যাবে। অক্লান্ত পরিশ্রমের পর সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) থেকে মি. জিন্নাহ্র ভগ্নি মিস ফাতেমা জিন্নাহকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হলো।

আইয়ুবের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সারা পাকিস্তানে যে অভূতপূর্ব জাগরণ শুরু হলো তার নেপথ্যে ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের উদগ্র আকাক্সক্ষার বহিঃপ্রকাশ। শেখ মুজিব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জনগণের এই

আকাক্সক্ষা ও দৃঢ়তার পরিমাপ করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়নের যথার্থতা যাচাই করে নিলেন। জেনারেল আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের লড়াইয়ের এই পর্যায়ের সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রয়াস শেখ মুজিবের ভবিষ্যৎ সংগ্রাম রচনার ক্ষেত্র প্রস্তুতের কৌশল হিসেবেই বিবেচিত।

এই সময় প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার ও প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রসঙ্গে কপের এক প্রচারপত্রে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষাণা করা হয়, ‘সুদীর্ঘ ছয় বছরের স্বৈরচারী শাসনে নিষ্পিষ্ট আমাদের জাতীয় জীবনে আজ এই একটি সত্য সুস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে যে হয় দাসত্ববরণ, নয় সুদৃঢ় গণঐক্য ও গণআন্দোলনের দ্বারা স্বৈরাচার প্রতিরোধ- এই দুই ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের জানা তৃতীয় কোনো পথ খোলা নেই। আমরা জানি, গণঐক্য ও দুর্বার গণআন্দোলনই আমাদের পথ।’

মৌলিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইয়ুব খানের জয়লাভের পেছনে নানাবিধ কারণ থাকলেও এই নির্বাচনের পরপরই শাসক শ্রেণি অর্জিত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন, একটি শক্তিশালী এককেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শাসন আধিপত্য বিস্তার মোটেই অসম্ভব নয়। এর সঙ্গে কো-পার্টনার হিসেবে বাঙালি ধনিক শ্রেণির আনুগত্য দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছিল।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়