ইতিহাস ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় যুগোত্তীর্ণ

আগের সংবাদ

নিম্ন আদালতে আজ থেকে চলবে বিচার কার্যক্রম

পরের সংবাদ

সীমান্তে লকডাউন

কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৯, ২০২১ , ১১:১০ অপরাহ্ণ

এক সপ্তাহ ধরে করোনায় মৃত্যু আবার বাড়ছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও মৃত্যু বাড়ছে। রাজশাহী ও খুলনায় করোনা সংক্রমণ ঢাকাকেও ছাড়িয়েছে গেছে। মৃত্যু হ্রাস করতে হলে করোনার ভারতীয় ধরন ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানো রোধ করার লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী দেশের ৮ জেলায় লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। যদিও ইতোমধ্যে সরকার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থল ও আকাশ যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারপরও কিন্তু দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি চলছে। এমনকি ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরাও আসছেন। সীমান্তে জনচলাচল ও পণ্য পরিবহনে মানা হচ্ছে না গাইডলাইন। করোনা মোকাবিলায় সার্বিক সমন্বয়ের বড়ই অভাবের কথা গণমাধ্যমে উঠে আসছে। ভারত থেকে বৈধ পথে যারা আসছেন, তাদের অনেকে করোনার নেগেটিভ সনদ আনছেন না। আবার অনেকে ডুপ্লিকেট নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে আসছেন। এছাড়া ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে ড্রাইভার ও সহকারীরা বিপজ্জনক ভারতীয় ধরনের করোনা ভাইরাস বহন করে আনছেন। তারাও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এমন খবর আমাদের উদ্বেগ বাড়ায়। এমন অবস্থায় ভারতীয় ধরন ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ভারতের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা জেলার সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনা অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারি গবেষণায়, দেশে করোনার ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোর মধ্যে ৪০টি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) পাওয়া গেছে। সরকারের এই গবেষণাতে ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিত ভারতীয় ধরনের সামাজিক সংক্রমণেরও (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও দেশে সংক্রমিত হতে পারে। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আগে ভারতীয় করোনা ভ্যারিয়েন্ট এবং ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, হোয়াইট ফাঙ্গাসে মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে সীমান্তে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাস ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারির তাণ্ডব মোকাবিলা এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই মহামারি মোকাবিলায় সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতির চেয়ে কোটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। গাফিলতির কারণে দেশে করোনা ভাইরাস যেন ভারতের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে তা এখনই নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়