হেফাজতের ক্ষমতার শেকড় এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

আগের সংবাদ

কার্যকর ব্যবস্থা নিন

পরের সংবাদ

৭২ পেরিয়ে আওয়ামী লীগ

ইতিহাস ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় যুগোত্তীর্ণ

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২১ , ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৯, ২০২১ , ১১:১২ অপরাহ্ণ

আজ থেকে ৭২ বছর আগে কেমন ছিল এ দেশ, কেমন ছিল এ দেশের মানুষের জীবনযাপনের চিত্র, তার সবটা আমরা জানি না। জানি না, মানুষের মনোজগতে কী আদর্শ ও উদ্দেশ্য সর্বক্ষণ বিরাজিত থাকত। ইতিহাসের কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্রের বহিরাঙ্গিক পরিচয় আমাদের সামনে প্রতিভাত হয় ঠিকই, কিন্তু ইতিহাস কী আর মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক মননের অন্তরঙ্গ পরিচয় যথার্থরূপে তুলে ধরতে পারে? তথ্যসমৃদ্ধ কিছু ঘটনার বিবরণমূলক বয়ান আমাদের সম্মুখে উপস্থাপন করে মাত্র। কিন্তু তার মধ্যে মানবিক চিন্তাচর্চার ভেতরকার আবেগ-অনুভূতি এক কথায় অনুপুঙ্খ জীবনযাপনের শতভাগের প্রকাশ থাকে না। যদি তাই হতো তবে তা আর কেবল ইতিহাস থাকত নাÑ হয়ে উঠত ভিন্ন কিছু। আমরা বলতে চাইছি ১৯৪৭ সালের সমসাময়িককালের এ দেশের কথা, এ দেশের মানুষের কথা। সে সময়কার এ দেশের মানুষ, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কথা। আমরা জানি না, এমনকি যথার্থরূপে উপলব্ধি করতেও ব্যর্থ হই দেশ ভাগোত্তর সমসাময়িককালের বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংকটের কথা। এ কথা সত্য, অনেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, যে স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অল্প দিনের ব্যবধানেই পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের সে স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষা ভেঙে খান খান হয়ে যায়। মুসলিম লীগের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও, পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে জনসংখ্যানুপাত গরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানিদের কাছ থেকে ন্যায্য প্রাপ্যটুকুও বঞ্চিত হতে হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের। সব ক্ষেত্রে সীমাহীন বৈষম্যের গ্লানি বাঙালি মুসলমানদের বহন করতে হয়েছে। উপমহাদেশ ভেঙে হিন্দুদের জন্য ভারত এবং মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র দুবছরের মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব তাই অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। মুসলিম লীগের বৈষম্যের নীতি এবং স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশা থেকে মুক্তির জন্য এ দেশের মানুষও নতুন এক রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছিল। বাঙালির সেই আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যেই মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের নেতারা প্রতিষ্ঠা করেন নতুন রাজনৈতিক দল।
১৭৫৭ সালে বাঙালির ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী কলঙ্কের ছাপ পড়ে। সে বছর ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননের যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং এ দেশের কিছু দালাল, লোভী ও মুনাফাখোর বেইমানের কাছে পরাজিত হন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সিরাজের এই পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। অস্তমিত সেই স্বাধীনতার সূর্যকে পুনরুদ্ভাসের প্রয়াসে ঠিক ১৯২ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রগতিশীল একটি অংশের ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার ‘রোজ গার্ডেন প্যালেসে’ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। প্রথম কমিটিতে কারাবন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৫৩ সালে মুকুল সিনেমা হলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে মুসলিম লীগের বিপরীতে আওয়ামী মুসলিম লীগ ক্রমে জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় দলটি পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শপুষ্ট সক্রিয় সংগঠনরূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভের পর ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিল সভায় অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিতে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ করা হয়। এতে অন্য ধর্মাবলম্বনকারী অমুসলিমরাও দলটিতে যোগদানের সুযোগ পান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নামকরণের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক, মানবিক এবং আধুনিক মননের চর্চায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আদর্শভিত্তিক মানবিক ও রাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় আওয়ামী লীগের ভেতর জন্মলগ্ন থেকেই উদারনৈতিক এবং যুগোপযোগী পরিবর্তনগুলো মেনে নেয়ার প্রবণতা ছিল। অর্থাৎ যুগোত্তীর্ণতার পথে অগ্রযাত্রায় সংগঠনটি সর্বদাই ইতিবাচক মনোভাব লালন করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের লড়াই, সংগ্রাম ও আন্দোলনে দলটির মধ্যে জড়তা বা জাড্য তৈরি হয়নি। বরং সৃজনশীল উদ্দীপনায় আদর্শ সংগঠন হিসেবে দলটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সক্রিয় এবং বিকশিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিকাশমানতার পথে সর্বদাই নব নব প্রজন্মের যৌক্তিক চাহিদা ও দাবিগুলো পূরণ করে আওয়ামী লীগ আজ ৭২ বছরের পুরনো, কিন্তু বৃদ্ধ নয়! প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নবযৌবনের দ্যোতনা নিয়ে বাঙালির কাছে প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিগত ৭২ বছরের ইতিহাস একেবারে নিষ্কণ্টক ছিল না। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দলটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল একটি গোষ্ঠী। হত্যাকারীদেরই সমর্থনপুষ্ট হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বিএনপি বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসেরও প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতে নির্বাসনকালীন সময়ে ১৯৮০ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ গ্রহণ এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দল পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়ে বিগত ৪ দশকের বেশি সময় ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে অধিকতর সৃজনশীল, দক্ষ এবং সুসংগঠিত রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করে তুলেছেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সমাজ ও রাষ্ট্রের বহিরাঙ্গিক এবং অন্তরাঙ্গিকের ব্যাপক রূপান্তরে সক্ষমতা দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছে। যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় কাজে পিতার নামের পাশে মাতার নাম বাধ্যতামূলক করেছে। বহু পূর্বেই কর্মজীবী নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে ছয় মাসে উন্নীত করেছে। এ ছুটি এক বছরে বর্ধিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সমাজের দরিদ্র বয়স্কদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির স্বার্থে বয়স্ক ভাতা প্রবর্তন করেছে, প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবর্তন করেছে প্রতিবন্ধী ভাতা। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শেখ হাসিনার সরকার। স্কুল শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দেয়ার প্রকল্পটিও ইতিবাচক পদক্ষেপ। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে জমিসহ দৃষ্টিনন্দন ঘর প্রদান কর্মসূচিও শেখ হাসিনার সৃজনশীলতার পরিচয় তুলে ধরে। মানবিক কল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। এসব কর্মকাণ্ড জাতি হিসেবে আমাদের অন্তর্গতভাবে প্রত্যয়ী করে তোলে। বহিরাঙ্গিক অবকাঠামোর মধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রভৃতি দেশের চিত্রকেই বদলে দিয়েছে। মাথাপিছু আয় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অনন্য অবদান সূচিত হয়েছে। রেমিট্যান্স এবং রিজার্ভও বাংলাদেশের যথেষ্ট শক্তিশালী। সব মিলিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকারের সৃজনশীল নানারূপ প্রকল্প বিশ্ব সম্প্রদায়ের ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার রোল মডেল হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু কিছু ঘটনা এবং কিছু নেতা ও নীতি-নির্ধারকদের কার্যক্রম বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের যুগোত্তীর্ণতাকে মাঝেমধ্যে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেয়! সম্প্রতি ‘মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার : নারী ইউএনও চায় না মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় কমিটি’Ñ এমন একটি খবরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রগতিশীলতা নিয়ে দলের ভেতরেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতির বক্তব্যের সূত্র উল্লেখ করে এ খবর প্রচারিত হওয়ায় প্রগতিশীল মহল এবং নারী সমাজেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এরূপ বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যেমন খাটো করা হয়েছে, অপরদিকে তেমনি অসম্মান করা হয়েছে নারীর স্বাধীন সত্তাকেও। আমাদের মনে রাখতে হবে, নারী ইউএনওরা মুক্তিযোদ্ধাদের জানাজা পড়ান না, তারা রাষ্ট্রীয় সম্মান নিদেন করেন। রাষ্ট্রীয় এ সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যে পদধারীকে নির্ধারিত করেছে সেই পদস্থ ব্যক্তিই প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদানের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এর মাধ্যমে উক্ত পদধারীরাও নিজেদের সম্মানিত করার সুযোগ পান। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি এক শ্রেণির ধর্ম ব্যবসায়ীকেই বরং উস্কে দেয়া হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাসÑ মানবিক, প্রগতিশীল, আধুনিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম আওয়ামী লীগ কখনোই পশ্চাৎপদ চিন্তায় গা ভাসাবে না। নীতি-নির্ধারকরা এরূপ নেতিবাচক চিন্তা উস্কে দেয়া নেতাদেরও সাংগঠনিক জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন। আমরা জানি, আওয়ামী লীগ তার আদর্শ ও ঐতিহ্যিক দক্ষতায় সব সংকট লাঘবে সক্ষম।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়