ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আগের সংবাদ

ভ্যাট আদায়ে জটিলতা দূর করুন

পরের সংবাদ

সাইবার অপরাধে আইনের আশ্রয় নেয় না ৭৮ ভাগ মানুষ

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২১ , ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৯, ২০২১ , ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে নানা ধরনের সাইবার অপরাধ হচ্ছে। সাইবার অপরাধের সবচেয়ে বেশি শিকার হন নারীরা। তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কে জানার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে অনেক কম।

‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা-২০২১’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয়। শুক্রবার (১৮ জুন) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ওয়েবিনারে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটির বিস্তারিত তুলে ধরেন সিসিএ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মনিরা নাজমী জাহান। গবেষণায় ২০১৯-২০ সালে ১৬৮ জনকে ১৮টি প্রশ্ন করা হয়।

সিসিএ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় উঠে এসেছে, সাইবার অপরাধের ধরনের মধ্যে অনলাইনে হ্যাকিংয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি, ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৮ সালে যা ছিল ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। সিসিএর আগের গবেষণায় এমন অপরাধ ছিল ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, এবার তা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এটিএম কার্ডের তথ্য হ্যাকড নতুন অপরাধ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অনলাইনে যৌন হয়রানিমূলক বিষয়বস্তু ব্যবহার করে হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। অপরাধের মাত্রাটি আগের ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার হয়েছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার কমেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার অপরাধের ভুক্তভোগীদের ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। নারী ভুক্তভোগী ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি।

গবেষণায় উঠে এসেছে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক আইন সম্পর্কে জানে। কিন্তু ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ অভিযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যায়নি। এ ছাড়া ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাননি বলে জানিয়েছেন।

সিসিএ ফাউন্ডেশন সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাইবার স্কোয়াড গঠন, ই-কমার্স নীতিমালা ও রাজনৈতিক জনশক্তিকে সচেতনতামূলক কাজে নিয়োজিত করাসহ ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে গবেষণা প্রতিবেদনে।

সিসিএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে অংশ নেন প্রথম আলোর যুব কর্মসূচি বিভাগের প্রধান মুনির হাসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী আনিছ, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল হক ও শিশুদের সাইবার সুরক্ষাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা প্রটেক্ট আস কিডসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শারমিন নাহার প্রমুখ।

ডে/ এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়