সিলেটের নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

আগের সংবাদ

নেতৃত্বের সংকটে বিএনপি

পরের সংবাদ

সোহরাওয়ার্দীর গ্রেপ্তার : সামরিক চক্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২১ , ৯:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৮, ২০২১ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আবির্ভূত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

সামরিক গভর্নর আযম খানের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ সামরিক বাহিনীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করে আইয়ুব খান রাজনৈতিক দল গঠনের গতি ত্বরান্বিত করেন।

আইয়ুবী আমলে শেখ মুজিব তার ওপর দায়েরকৃত মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে ১৯৫৯ সালের ৭ ডিসেম্বর জেল থেকে বের হলেন, তবুও তার ওপর দু’বছর অন্তরীণাদেশ প্রদান করা হয়। ১৯৬২ সালে ৩০ জানুয়ারি এইচ এস সোহরাওয়ার্দী গ্রেপ্তার হন। প্রায় একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারিতে শেখ মুজিবকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং আট মাস তাকে জেলের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে রাখা হয়। সোহরাওয়ার্দীর গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতে সারা বাংলায় প্রচণ্ড ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শত শত নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোহরাওয়ার্দীর গ্রেফতার এবং পূর্ববঙ্গে নতুন করে দমনপীড়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইয়ুবের একক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রদেশের সামরিক গভর্নর লে. জেনারেল আযম খানের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ সামরিক বাহিনীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করে আইয়ুব খান রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সমান্তরাল কর্তৃত্ব স্থাপনের বিষয়টিকে ত্বরিত গতিতেই বিবেচনা করেন।

এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে। জেনারেল আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল আযম খানকে যে পত্র প্রেরণ করেন তার মধ্যে এই দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়।

প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান লেখেন, ‘আপনার স্বভাবসুলভ প্রেরণায় আপনি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রয়াস চালিয়েছেন। দুর্যোগকালে জনগণকে সহায়তা প্রদান করে আপনি তাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। এজন্যে বিরাট কৃতিত্ব আপনারই প্রাপ্য। কিন্তু এ ছাড়াও আরো কিছু আপনি করেছেন। বুদ্ধি করেই হোক, বা না হোক, অসম্ভব বা বোধগম্যভাবে অযৌক্তিক কোনো দাবি-দাওয়াকেই আপনি কখনো ‘না’ বলবেন না বলেই ঠিক করেছেন, এবং এভাবে কোনো কিছুর সমাধান হলে তার কৃতিত্ব নিজে নিয়েছেন, আর না হলে তার পুরো দোষ কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপিয়েছেন। কোনো কিছুতে বাধা

দেয়া বা তা প্রতিরোধ করার ব্যাপারে আপনার সামান্যতম উদ্যোগও ছিল না।
আপনি ছিলেন কেন্দ্রের প্রতিনিধি। প্রতিনিধির জনপ্রিয়তা বলতে কেন্দ্রের জনপ্রিয়তাই বোঝা উচিত ছিল। আপনার আচরণে অবশ্য বিপরীত ফলটাই প্রকাশ পেয়েছে। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে এমন একটা মনোভাবেরই সঞ্চার হয়েছে যে, তারা মনে করেছেন কেবলমাত্র অনিচ্ছুক এবং সহানুভূতিহীন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করেই তাদের পক্ষে কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

আগামীকাল প্রকাশিত হবে ‘গণতন্ত্র
পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও জোটবদ্ধতার নীতি’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়