কারামুক্ত হলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়

আগের সংবাদ

নিউজ ফ্ল্যাশ

পরের সংবাদ

রিংয়ের বাইরে কাউকেই আইস সরবরাহ করে না চক্রটি

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২১ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১৯, ২০২১ , ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই রিংয়ের সদস্য
পরিমাণ বৃদ্ধিসহ মাদকের রং পরিবর্তন ল্যাব
অনৈতিক কাজের ব্যবস্থা রাখা হত ব্ল্যাক মেইলিংয়ের জন্য

নিজেদের রিংয়ের বাইরে কাউকেই মাদক আইস সরবরাহ করে না চক্রটি। দামি হওয়ায় সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতরা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই এ রিংয়ের সদস্য। চক্রটি শুধু মাদক বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা আইসের পরিমাণ বাড়ানোসহ ইয়াবার রং পরিবর্তন ও আরেক ধরনের নেশা ঝাক্কিও তৈরি করতো। আর এসব কাজের জন্য রাজধানী উত্তরার একটি বাড়িতে ল্যাবও করেছিল তারা।

এছাড়াও বাইং হাউজ অফিসের নামে মাদক সেবনসহ এইমিং জুয়া ও অনৈতিক কাজের ব্যবস্থার জন্য উত্তরাতেই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল তারা। ফ্ল্যাটে আসা মাদকসেবীদের অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংও করতো তারা। এমন কয়েকটি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে।

ভয়ানক মাদক আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। শুক্রবার (১৮ জুন) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

কমান্ডার মঈন বলেন, রাজধানী উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো- চক্রের হোতা মো. তৌফিক হোসাইন (৩৫), মো. জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), মো. আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫), মো. রাকিব বাসার খান (৩০), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭) ও মো. খালেদ ইকবাল (৩৫)।

তাদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা ও ১৩টি বিদেশি অস্ত্র এবং রেপলিকা অস্ত্র ও অন্যান্য ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, বিপুল পরিমাণ, মাদক সেবনের সামগ্রীসহ মেথ ল্যাব সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বাকিদের মধ্যে অর্থ যোগানদাতা জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিষ্ট হিসেবে মেথ ল্যাব চালাতো। সবুজ মাদক আইস সংগ্রহ ও সরবরাহকারী এবং তৌফিকসহ বাকিরা সকলেই মাদক বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ চক্রে আরো ১০-১৫ জন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জুবেইন লন্ডন ও তৌফিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছে। খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ, রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাশের পর ড্রপ আউট ও খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত।

এছাড়াও রুদ্রের নামে ৩টি মাদক ও জুবেইনের নামে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনলাইনে বিভিন্ন কনটেন্ট থেকে মেথ ল্যাব সম্পর্কে জানতে পারে তারা। উত্তরার মেথ ল্যাবটি মূলত আরাফাত রুদ্র ওরফে ঝাক্কি রুদ্র তার কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় পরিচালিত হতো। তারা আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক বিভিন্ন র্কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। ঝাক্কি তৈরিতে তারা কোমল পানীয়র সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধের তরল মিশ্রণ করত বলে জানায়। তারা ভেজাল ও পরিশুদ্ধ উভয় প্রকার আইস সরবরাহ করতো ও নিজেরাও সেবন করতো।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, উত্তরার বাইং হাউজসহ গ্রেপ্তারকৃত জুবেইন ও খালেদের বাসায় তাদের রিংয়ের আওতাধীন ধনী ঘরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা যেত।

সেখানে এইম গেইমিং জুয়া নেশার ব্যবস্থা থাকতো। অনৈতিক কার্যলাপের ব্যবস্থাও ছিল। কারণ এসব কর্মকাণ্ডের গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলও করত তারা। তাদের কাছে উদ্ধারকৃত ইয়ার গানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদন পাওয়া যায়নি। আর ছুরি ও রেপ্লিকাসহ অস্ত্র রাখতেন যাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা বাইরে না যায় ও ব্ল্যাকমেইলের সময় ভয় দেখানো যায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেরাও আইস গ্রহণে মারাত্মকভাবে আসক্ত। টেকনাফ ও রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকা থেকে আইস সংগ্রহ করে তারা। তাদের রিংয়ে ৪০-৪৫ জন রয়েছে। এ বিষয়ে আরো তদন্ত সাপেক্ষে র‌্যাবের অভিযান চলমান থাকবে।

আর- এআরজে/ এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়