ফের ভয়ংকর রূপে করোনা

আগের সংবাদ

বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২১ , ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৭, ২০২১ , ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনের একটি বাড়িতে যে দলটির প্রতিষ্ঠা, ৭২ বছরে সেই দল পেয়েছে সুরম্য ১০তলা নিজস্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদসহ চতুর্থ দফায় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামী লীগ প্রকৃতপক্ষে অপ্রতিদ্ব›দ্বী, অপ্রতিরোধ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন চড়াই-উৎরাইয়ের ভেতর দিয়ে ৭২ বছরের আওয়ামী লীগকে বর্তমান অবস্থানে আনতে পিতা-কন্যার অবদানই সর্বোচ্চ। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ ভোরের কাগজকে বলেন, শেখ মুজিব তার মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থায়ী আসনে প্রতিষ্ঠা দিতে সক্ষম হন। কমনওয়েলথ, জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভসহ আমেরিকা, ব্রিটেন ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হন। দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি চাঙা করে তুলতে সক্ষম হন। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যে দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান দ্বারা গণতান্ত্রিক বিশ্বে তাক লাগান।

ব্রিটিশ রাজনীতিক এবং কলামিস্ট সিরিল ডান এবং লর্ড ফেয়ারব্যাঙ্ক বলেছেন, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সাফল্য অতুলনীয়। একটি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি যদি যথাসময়ে দেশে না ফিরতেন, তাহলে মিত্রপক্ষের বিদেশি সৈন্য বাংলাদেশে থেকে যেত। এত দ্রুত সারাবিশ্বের স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেত না। তার যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি এত দ্রুত উন্নতি লাভ করত না। গৃহযুদ্ধে দেশটির বায়াফ্রার মতো অবস্থা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড রাজনীতির একটি অন্ধকার যুগ। একদিকে ক্ষত-বিক্ষত সংবিধান, অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার লাভ। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পরিণত হয় মিনি পাকিস্তানে। সংবিধান থেকে হারিয়ে যায় ধর্ম নিরপেক্ষতা। দেশের গণতান্ত্রিক দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ছিল নেতৃত্বহীন ও অসংগঠিত। ফলে ফ্যাসিবাদ ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। ঠিক এই সময় শেখ হাসিনার ভাঙা নৌকার হাল ধরা। পিতার মতো সাহস নিয়ে তিনি গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ভোরের কাগজকে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ মোটামুটি ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। দলের মধ্যে ছন্দটা হারিয়ে গিয়েছিল। মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আলাদা আওয়ামী লীগ- এমন পরিস্থিতিতে দল আবার ভাঙার অবস্থা হয়েছিল। দলকে এক রাখার জন্যেই কয়েকজন নেতা দিল্লিতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করতে এবং তারা তাকে রাজি করান সভাপতির পদ নিতে।

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেন শেখ হাসিনা। নেতৃত্ব দেন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি কুখ্যাত ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতার পরিচয়ও দিয়েছিল দলটি। তবে ওয়ান ইলেভেনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে আবারো নতুন সংকটের মুখে পড়ে যায় দলটি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারির অসংখ্য নেতারা গ্রেপ্তার এবং একাংশের সংস্কার তৎপরতায় কিছুটা সংকটে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিক‚ল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াসহ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে দলটি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইউনেস্কোর ‘হুপে- বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য ‘পার্ল এস বাক’ পুরস্কার, ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের সম্মানজনক ‘সেরেস’ মেডেল, সর্বভারতীয় শান্তিসংঘের ‘মাদার টেরেসা’ পদক, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার, গ্লোবাল সাউথ-সাউথ পুরস্কার, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ভোরের কাগজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। আর দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। প্রজ্ঞা, দক্ষতা আর দূরদর্শী রাজনীতির কারণে শেখ হাসিনা নিজেকে বিশ^নেতায় পরিণত করেছেন। কোভিডকালেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশ্ব পঞ্চমুখ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়