দখলে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ২০ কিলোমিটার সিংগাইরের খাল

আগের সংবাদ

আনোয়ারায় ডলার ওসমান গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিতে ১১ ব্যাংক

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২১ , ১০:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১৬, ২০২১ , ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংক

করোনা মহামারিতে বিশেষ সুবিধা এবং বিভিন্ন ছাড়ের ফলে কাগজে-কলমে কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ফলে ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) কম সংরক্ষণ করতে হয়েছে। তারপরেও প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১১টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যার সিংহভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালি ব্যাংকের ঘাটতি আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা মার্চ ২০২১ প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতির অর্থ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল টাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিবহন বন্ধ ছিল, ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয়নি। যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আছে, চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে তারা ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।

তিনি বলেন, এবার খেলাপি বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে আবার কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে না।

সূত্রমতে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শেয়ারহোল্ডাদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঋণগ্রহীতা ঋণের কিস্তি শোধ না করলেও তাকে খেলাপির তালিকায় দেখানো যাবে না। এছাড়া খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল, পুনঃগঠনে বিভিন্ন নীতিমালার শর্তে শিথিলতা আনা হয়। এতে গত এক বছরে ঋণের কিস্তি না দিয়েও নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি হয়নি। এসব কারণে খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বর শেষে কমলেও মার্চে এসে তা আবার বেড়েছে। ফলে সার্বিক প্রভিশন ঘাটতিও বেড়ে গেছে। তবে ঋণ গ্রহীতাদের বিশেষ সুবিধার পরও যেসব ব্যাংক খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে দেশের ৫৯ টি ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ রয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২হাজার ৬৪৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি ৪ ব্যাংকের ঘাটতি ১০ হাজার ৯৬৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ২৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এরপরেই রয়েছে বেসিক ব্যাংকের তিন হাজার ৫৬৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে তাকা অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। তবে রাষ্টায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি কিছুটা কমে দাড়িয়েছে ৭৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি ছিল ৮২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের ৬ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১ হাজার ৫১৮ কোটি টাক। এর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক কিছুটা ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ কোটি টাকা। যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ৫০৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তিনমাসে ঢাকা ব্যাংকের ঘাটতি বেড়ে দাড়িয়েছে ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা আগে ছিল ১৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। মিউচুয়াল টাস্ট ব্যাংকের ঘাটতি কিছুটা কমে দাড়িয়েছে ১৯৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ডিসেম্বরে যা ছিল ২১০ কোটি ৬৬ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি কমে হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১২ লাখ, ডিসেম্বরে যা ছিল ৪৩৫ কোটি ৩৮ লাখ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৩ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি কিছুটা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এছাড়া বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১৬৪ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়