এক ম্যাচে রোনালদোর দুই রেকর্ড

আগের সংবাদ

নারীতে আপত্তি অসাংবিধানিক

পরের সংবাদ

জেনেভায় পুতিন-বাইডেন শীর্ষ বেঠক আশার বাণী শোনাবে কি বিশ্বকে

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২১ , ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৬, ২০২১ , ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ভ্লাদিমির পুতিন এবং যু্ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনন ১৬ জুন জেনেভায় শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্বের তীব্র অবনতির এই সময়ে নানা বিষয়ে বীপরিত মেরুতে অবস্থান নেওয়া দুই দেশের প্রেসিডেন্ট জি৭ এর এই বৈঠক থেকে বিশ্বের জন্য বড় কোনো শুভ বার্তা দিতে সক্ষম হবে বলে ততটা আশাবাদী নন বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, এ কোন বন্ধুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হবে না। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া- উভয় দেশই বলছে, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন প্রায় তলানিতে। রাশিয়া সম্প্রতি তাদের ”অবন্ধু-সুলভ দেশের” তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম যোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া- কোন দেশেরই এখন অন্য দেশে কোন রাষ্ট্রদূত নেই। ঊর্ধ্বতন রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে নানা ইস্যুতে। বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল, রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে তা নিজদেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে ঘটনার শুরু থেকেই ক্ষিপ্ত। তাছাড়া খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেই হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন সাবেক মেরিন সেনা এখন রুশ কারাগারে বন্দী।

দুই দেশের এই বৈরি সম্পর্কে আরও তিক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এক মন্তব্য। গত মার্চে তিনি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে একমত হন, ভ্লাদিমির পুতিন আসলে ‘একজন খুনি’।

কিন্তু এত কিছুর পরও দুই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তারা এই প্রথম মুখোমুখি হবেন। রাশিয়ার কিছু মানুষ এটাকেও এক বড় অর্জন বলে মনে করেন।

মস্কোর একটি থিংক ট্যাংক রিয়াকের পরিচালক আন্দ্রে কুর্টানভ বলেন, ‘প্রতীকী তাৎপর্যের কথা বিবেচনা করলে এই শীর্ষ বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পাশে এক কাতারে স্থান পাবে। পুতিনের কাছে এই প্রতীকী ব্যাপারটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এই বৈঠকটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউসে আসার পর একেবারে প্রথম পর্যায়ে, প্রথম বিদেশ সফরের সময়। তিনি নিজেই এরকম একটি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। এগুলো কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ইতিবাচক অর্জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিলিয়া শেভটসোভার মতে, পুতিন নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমকক্ষ হতে চান। তিনি চান বাইডেনের মতো করে তাকেও সমভাবে শ্রদ্ধা করা হোক। পুতিন সক্ষমতা দেখানোর পাশাপাশি জি৭ ক্লাবের সদস্যও হতে চান

হোয়াইট হাউস বলছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু পুতিনের কাজের ধারা একেবারেই ভিন্ন। তিনি ২০১৪ সালে যখন সৈন্য পাঠিয়ে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিলেন, তখন থেকে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তিনি এরপর কী করবেন, সেটা অনুমান করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিলিয়া শেভটসোভা মনে করেন, এই শীর্ষ বৈঠকের একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে, দুপক্ষের ”রেড লাইন” বা সর্বশেষ সীমারেখা কোথায় সেটা পরীক্ষা করে দেখা। তাছাড়া এটাও উপলব্দি করা, আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশকে তিক্ততার অতল গহ্বর হতে উঠে আসতে হবে।

ভ্লাদিমির পুতিন দিন কয়েক আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছিলেন, কিছু বিষয় আছে যেখানে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে আছে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন করে আলোচনা, সিরিয়া এবং লিবিয়ার পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আলোচনা এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো বিষয়।

পুতিন বলেন, যদি আমরা এসব বিষয়ে কাজ করার একটি কৌশল খুঁজে পাই, তাহলে আমরা বলতে পারবো এই শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হয়নি।

রাশিয়ায় কেউ কেউ এমন ইঙ্গিতও দিচ্ছেন, চলমান এই কূটনৈতিক যুদ্ধে একটা সাময়িক বিরতিও আসলে সম্ভব।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুটি রুশ দূতাবাস ভবনও বন্ধ করে দিয়েছে। পাল্টা জবাবে রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে স্থানীয় লোকদের নিয়োগে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। ফলে ভিসা প্রদান থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা নাটকীয়ভাবে কমাতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিশ্লষকরা আশা করছেন, ন্যূনতম ছাড় হিসেবে মস্কো হয়তো তার রাষ্ট্রদূতকে ওয়াশিংটনে ফিরে যেতে দিতে পারে। শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো রাশিয়া বন্দি মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টি তুলতে পারে।

রাশিয়া সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিন্তু যেসব শর্ত তারা দিচ্ছে, সেগুলো মানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব। তাই পুতিনও এককভাবে ছাড় দেবেন বলে মনে হয় না।

রুশ প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোকে এক বৈরি শক্তি বলে বর্ণনা করেছেন। এ মাসে সেইন্ট পিটার্সবার্গে অর্থনৈতিক ফোরামের এক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে রাশিয়া উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এর কয়েকদিন আগে তিনি হুশিয়ারি দিয়েছিলেন, কোন বিদেশি আগ্রাসী শক্তি যদি রাশিয়াকে দংশন করতে চায়, তিনি তাদের দাঁত ভেঙ্গে দেবেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া তার মর্যাদা এবং শক্তি ফিরে পেয়েছে, বাকি বিশ্বের এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার।

বিশ্লেষক কুর্টানভ বলেন, পুতিন বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের শত্রু, তারা রাশিয়ার ভালো চায় না। আমার মনে হয় না, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে তার এই দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হবে। তবে তা সত্ত্বেও বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে আনার কথা হয়তো ভাবছে রাশিয়া।

বিশ্লেষক কুর্টানভ বলেন, একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পুতিন হয়তোবা চান এই বৈরি সম্পর্কের যে মূল্য এবং ঝুঁকি, সেটা কমিয়ে আনতে।

এর মধ্যে আছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার পুঁজি সংগ্রহের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। পুতিন হয়তো এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে চান।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়