স্পেন- সুইডেন গোলের দেখা পায়নি

আগের সংবাদ

মান্নান আমার বন্ধু, কোনো দ্বন্দ্ব নেই : মোমেন

পরের সংবাদ

বর্ষাবরণ গেণ্ডারিয়ায়

আবার এসেছে আষাঢ়…

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২১ , ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৫, ২০২১ , ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতা ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে পূর্ণতায়। সেই পূর্ণতা নিয়ে এলো আষাঢ়। এই আষাঢ়েই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে, আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।’ কবিগুরুর ভাষাতেই বলা যায়, আষাঢ় এসেছে ষড়ঋতুর বাংলায়।

সবুজের সমারোহে নতুন প্রাণের বার্তা নিয়ে আজ রূপময় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন। আকাশ ছেয়েছে মেঘের ঘনঘটায়। মেঘদূতের বার্তা নিয়ে হাজির প্রকৃতি। গাছের পাতা, টিনের চাল আর ছাদের রেলিং ছুঁয়ে কিংবা খোলা আকাশের প্রান্তরজুড়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ঝরার দিন। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাসাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা আষাঢ় বন্দনায় নিবেদিত, উচ্ছ্বসিত। কবির কবিতায়, শিল্পীর সুরে-গানে, চারুশিল্পীর তুলির আঁচড়ে, চলচ্চিত্রের সেলুলয়েডে, নকশিকাঁথার বুননে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারে বর্ষার রূপবর্ণনা, স্থিতি ও ব্যাপ্তি চিরকালীন।

মহাকবি কালিদাস তার মেঘদূত কাব্যে ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’ বিরহকাতর যক্ষ উড়ে যাওয়া মেঘকে দূত করে কৈলাসে পাঠিয়েছিলেন তার প্রিয়ার কাছে। তার ভাষায়, ‘পুব-হাওয়াতে দেয় দোলা আজ মরি মরি,/ হৃদয়নদীর কূলে কূলে জাগে লহরী,/ পথ চেয়ে তাই একলা ঘাটে বিনা কাজে সময় কাটে,/পাল তুলে ওই আসে তোমার সুরেরই তরী…।’ প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে, বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দশদিক হাসায়ে।’ কবি শামসুর রাহমানের কবিতায়ও শুধু যুদ্ধ, স্বাধীনতা, বিজয়, প্রেমই আসেনি, বর্ষাও এসেছে। বৃষ্টির জন্য কবি অপেক্ষায় থেকেছেন, ‘টেবিলে রয়েছি ঝুঁকে,/ আমিও চাষীর মতো বড়/ ব্যগ্র হয়ে চেয়ে আছি খাতার পাতায়, যদি জড়ো/ হয় মেঘ, যদি ঝরে ফুল, বৃষ্টি। অলস পেন্সিল/ হাতে, বকমার্কা। পাতা জোড়া আকাশের খাঁ খাঁ নীল।’ এভাবে চিরকালই কবিদের বর্ষাবন্দনায় বাস্তব হয়ে উঠেছে বর্ষার মোহিনী রূপ। ব্যক্ত হয়েছে অনেক, অব্যক্ত রয়ে গেছে আরো বেশি। মেঘমেদুর বর্ষার রঙ-রূপ-রস-গন্ধ মানুষ ভালোবেসেছে অনন্তকাল। আর যুগে যুগে কবিরা সে ভালোবাসার চিহ্ন রেখে গেছেন তাদের কবিতায়। বর্ষাবন্দনায়।

প্রতি বছরের মতো এবারেও বর্ষা উৎসবের আয়োজন করেছে বর্ষা উৎসব উদ্যাপন পরিষদ। করোনার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় গেন্ডারিয়ার ১৭/১, দীননাথ সেন রোডে গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি স্কুলের পাশে সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রবীণ শিল্পী হাসানুর রহমান বাচ্চুর গিটারে বর্ষার সঙ্গীতবাদনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুভ সূচনা হবে। বর্ষাকথন পর্বে অংশগ্রহণ করবেন অত্র এলাকার সমাজসেবক এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়