শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী?

আগের সংবাদ

তালেবান-মার্কিন চুক্তি : কিছু প্রশ্ন, কিছু প্রত্যাশা

পরের সংবাদ

প্রযুক্তিনির্ভর বজ্রপাত নিরোধক জরুরি

তৌহিদ বিল্লাহ

শিক্ষার্থী, নরসিংদী সরকারি কলেজ

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২১ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৪, ২০২১ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দরোজায় কড়া নাড়ছে বর্ষাকাল। আর বর্ষাকালের সঙ্গেই রয়েছে বজ্রপাতের যোগসাজশ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পৃথিবীজুড়েই বজ্রপাত দেখা যায়। তবে বজ্রপাতের থাবা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ তথা- ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ এই অঞ্চলেই বেশি দেখা যায়। পৃথিবীর আদিকাল থেকেই বজ্রমেঘ থেকে সৃষ্ট ‘বজ্রপাত’ সৃষ্টির কারণও প্রাকৃতিক। তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের এই দুঃসময়ে বাংলাদেশের মানুষের সামনে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতের আঘাত নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বজ্রপাতের এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা কমাতে মানুষের সচেতনতা হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বজ্রপাতের কবল থেকে রক্ষা পেতে ২০টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনাবলি জানা ও মানার বিকল্প নেই।
চলতি জুন মাসের প্রথম ৬ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিক! মৃত্যুর এই চিত্র নিঃসন্দেহে দুশ্চিতার কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জে। হাওরাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে থাকে। তবে এবার খোদ রাজধানীতেও বজ্রপাতের ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবর প্রকাশ পেয়েছে মিডিয়ায়। বাংলাদেশে সাধারণত বজ্রপাত হয় মার্চ থেকে জুন মাসে। জুন মাসকে অলিখিতভাবে বজ্রপাতের মাসই মনে করা হয়। তবে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্তও বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটতেও দেখা যায়। সরকারি তথ্যমতে, দেশে গত এক দশকে বজ্রপাতে মারা গেছেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। বাংলাদেশে গত দেড় মাসেই ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। সব মিলিয়ে মৃত্যুর এসব চিত্র দুশ্চিন্তার জন্মই দিচ্ছে। কিন্তু বজ্রপাতের তীব্রতা লাঘব কিংবা মানুষকে বজ্রপাত বিষয়ে আগাম পূর্বাভাস বা সচেতনতা সৃষ্টি করতে কী পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা? কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কেন আমরা আগাম ব্যবস্থা নিতে পারি না- এটাই এখন বড় প্রশ্ন। জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা দেয়ার গুরুদায়িত্ব যারা কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাদেরই সবার আগে এই প্রশ্নের সদুত্তর দেয়া উচিত।
বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দেন। তখন বজ্রপাতরোধে সারাদেশে ‘তালগাছ’ রোপণ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল সরকার। তালগাছ খুবই ধীরগতির বর্ধনশীল গাছ। তাই ওই সব গাছের বর্তমান কী হাল বা কতটুকু পরিণত হয়েছে তা চোখে পড়ার মতো নয়। তালগাছ পুরোপুরি পরিণত হতে ২০-৩০ বছর পর্যন্ত লেগে যায় বিধায় এসব গাছ থেকে সুফল পেতে আরো অনেক অপেক্ষা করতে হবে। ততদিন মানুষের প্রাণহানি থেমে থাকবে না। অন্যদিকে বজ্রপাতরোধে ‘তালগাছ’ সত্যিকার অর্থে কতটুকু ফলদায়ক তাও শতভাগ সুনিশ্চিত নয়। কারণ বজ্রপাতরোধে এটা একটি সনাতন পদ্ধতি। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে সনাতন পদ্ধতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে সারাদেশে যথাশিগগিরই আধুনিক ‘বজ্রনিরোধক পোল’ বসানো জরুরি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও একসময় বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হতো। কিন্তু তারা বজ্রনিরোধক খুঁটি বা পোল স্থাপন ও মানুষকে সচেতন করার মধ্য দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাভিত্তিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এসব দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোসহ পূর্ব এশিয়ায় বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বহুলাংশে কমেছে। বিপরীতে আমরা কেন শুধু তালগাছের ওপর নির্ভরশীল থাকব বজ্রপাতে মানুষের জীবনের সুরক্ষায়?

তৌহিদ বিল্লাহ : শিক্ষার্থী, নরসিংদী সরকারি কলেজ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়