গলফের পাইপলাইন বেশ সমৃদ্ধ

আগের সংবাদ

৩৯ স্ত্রী ও ৯৪ সন্তান রেখে মারা গেলেন পরিবার প্রধান

পরের সংবাদ

দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২১ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৪, ২০২১ , ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হলেও চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কিনা, এ নিয়ে এখনো দোলাচলে ভুগছে শিক্ষা প্রশাসন। বিশেষ করে পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা চলছে- শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির এমন মন্তব্যের পর পরীক্ষা আদৌ হবে, হলেও কীভাবে হবে তা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবলই বাড়ছে। মন্ত্রী বিকল্প ব্যবস্থার কথা বললেও সেই বিকল্প ব্যবস্থা কী, তা খোলাসা না করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক এবং ১ এপ্রিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কোভিডের ছোবলে দুই বছর ধরে এ সূচি তছনছ হয়ে গেছে। চলতি বছর মাধ্যমিকে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ১৬ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আমরা চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার। এখন সেটিও যদি না হয়, আমরা তার বিকল্প নিয়েও চিন্তা করছি। অন্যদিকে গতকাল রবিবার থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে।

জানতে চাইলে আন্তঃ-শিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, এ বছর আমরা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেব না। আমরা পরীক্ষা নেয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি রেখেছি এবং পরীক্ষা হবে। হয়তো পরীক্ষা নেয়ার সময় পাঁচ-ছয় মাস পিছিয়ে যাবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে হয়তো পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন হবে, কিন্তু কতটুকু পরিবর্তন হবে তা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এর মানে এই নয় পরীক্ষা হবে না। সব মিলিয়ে পরীক্ষার বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে, কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া সার্টিফিকেট দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সশরীরে পরীক্ষা নিতে না পারলে কী করা হবে, তা নিয়ে একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে শিক্ষা বোর্ড। সেই খসড়া অনুযায়ী পরীক্ষার দুটো বিকল্প প্রস্তাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া। আরেকটি হচ্ছে বিষয়ওয়ারি ১০০ নম্বরের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্টে মূল্যায়ন ও নম্বর কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলেই কেবল এই দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো এখনো পরীক্ষার নেয়ার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ। অবশ্য অনলাইনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে খোদ শিক্ষাবোর্ড থেকেই আপত্তি রয়েছে।

বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, এই দুটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র্র হাওর-চরাঞ্চলেও আছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবার জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বা ওয়াই-ফাই নিশ্চিত করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া কম্পিউটার বা ল্যাপটপও সবার নেই। তাই এখনই অনলাইনে পরীক্ষার কথা ভাবা যাচ্ছে না। তবে যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে, তখন ক্লাস করিয়েই তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারলেও সরকার পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও দাখিলের প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরিশোধন শেষে মুদ্রণ কাজও শেষ করেছে।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কায়কোবাদ ভোরের কাগজকে বলেছেন, পরীক্ষা অনেক পরের বিষয়। পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হয়, দক্ষ করতে হয়, জ্ঞানী করে তুলতে হয়। কোভিডের কারণে আমরা শুধু স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে পারিনি। এখন তাদের দক্ষ করে না তুলে পরীক্ষা নিয়ে কি লাভ হবে? যদি তারা পরীক্ষায় ফেল করে এর দায় নেবে কে- প্রশ্ন এই শিক্ষাবিদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০২০ সালের মার্চে সংক্রমণ দেখা দেয়ার ঠিক আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আটকে যান। ছুটির সময় কোনো পাবলিক পরীক্ষা হয়নি। আর উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয় তাদের মাধ্যমিক ও জেএসসির ফলের গড় করে। চলতি বছরে কয়েক দফায় স্কুল ও কলেজ খোলার দিনক্ষণ নির্ধারণ এবং প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হলেও মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা বাড়িতে যেটুকু সম্ভব, সেটা যেন করে। যেখানে যেটুকু সহযোগিতা অনলাইনে বা অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে যা হচ্ছে, সেটি তো হচ্ছেই। তারপরে যতটুকু সম্ভব, তারা নিজেরা বাড়িতে পড়াশোনাটি চালিয়ে যাক।

শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ক্ষতিটা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি এবং এই ক্ষতিটা সারা বিশ্বেই হচ্ছে। এই ক্ষতিটা কী করে পুষিয়ে নেয়া যায়, সেই ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যারা চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ভুলপথে যাবেন না। নিজেরা বাড়িতে নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সেটির জন্য কাজ করুন। কোনো খারাপ কিছুতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবেন না। আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। পরীক্ষা দিতে হবে কি হবে না, সেটি পরের কথা। নিজেরা নিজেদের যতটুকু শিক্ষার সঙ্গে, নিজেদের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রাখা সম্ভব- সেটি রাখুন, সুস্থ থাকুন। আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা সুস্থ থাকুক। পরীক্ষা এক বছর না দিলে জীবনে এমন কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদেরও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ব্যাপারে আরো কী করা যায়, সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছি আমরা।

দুই বিশ^বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু: করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো গতকাল রবিবার থেকে সশরীরে নিতে শুরু করেছে কুমিল্লা ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এতে শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী জানান, বিভিন্ন ব্যাচের দুটি করে সেমিস্টারের ক্লাস অনলাইনে হলেও ফাইনাল ও মিডটার্ম পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।

এদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষাগুলো গতকাল রবিবার থেকে আবার চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাদ্দৌলা প্রধান।

দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। ২০ ডিসেম্বর থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া শুরু হলেও ২৩ ফেব্রুয়ারি আবার সব পরীক্ষা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক সভায় সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্ত। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়