ঢাকা মেডিকেলে এবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগী

আগের সংবাদ

টাইমস্কেল নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৯ হাজার শিক্ষকের আপিল

পরের সংবাদ

আবারও স্বাস্থ্যের সমালোচনায় উত্তাল সংসদ

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২১ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১৪, ২০২১ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনবল সংকট নিয়ে বাজেট আলোচনায় কঠোর সমালোচনা করেছে সরকারি, বিরোধী দলসহ ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা। স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন দুর্নীতি, টিকা সংগ্রহে অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়হীনতাসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় সংসদ উত্তাল হয়ে ওটে।

সোমবার (১৪ জুন) প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ সমালোচনা করেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা। করোনা মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, বিদেশি টিকা বাংলাদেশে উৎপাদন এবং দেশেই টিকা উদ্ভাবন ও তৈরি করতে হবে। প্রকল্প পরিচালকদের অবহেলার কারণে প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে চলমান প্রকল্প সঠিক সময় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ডিজাস্টার ঘটে গেছে। যারা সেকেন্ড ডোজ পাচ্ছেন না তাদের কী হবে? সরকারকে তাদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভ্যাকসিন নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা হয়নি। একক সিদ্ধান্তে কেনার কারণে বাংলাদেশ আজ ট্র্যাপে পড়ে গেছে। সরকারি দলের এমপি শাজাহান খান স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তুলে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না। আড়াইশ বেডের হাসপাতাল হয়েছে কিন্তু জনবল নেই। যার কারণে মানুষ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক খবরদারিত্বে বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি। করোনা রোধে স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে দেখেছি মাস্ক, পিপিই, করোনা টেস্ট নিয়ে জাল-জালিয়াতি। একজন শাহেদ, একজন সাবরিনা গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু যারা সচিত্র চুক্তি স্বাক্ষর করল, কাজ দিলো তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

তিনি বলেন, টিকা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আগামী মাসগুলোতে টিকা আসবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্য টিকা ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা সংক্রমণ রোধ হবে না। এই টিকা সরকারকেই সংগ্রহ করতে হবে। দেশে টিকা উৎপাদনের যে সক্ষমতা আছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে টিকাদানের কোনও রোডম্যাপ দেননি বলেও তিনি সমালোচনা করেন। সরকারি দলের উম্মে কুলসুম বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিষয় আমরা অনেক কথা শুনছি। আগামীতে যেন স্বাস্থ্য খাতে দুর্বৃত্তায়ন আসতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

আর-এনআরআর/এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়