বাদুড়ের দেহে নতুন করোনার সন্ধান পেল চীন

আগের সংবাদ

শেরে বাংলার সার্টিফিকেট

পরের সংবাদ

ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২১ , ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৩, ২০২১ , ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সাকিবকাণ্ডে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড়: তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে সাকিব আল হাসানের স্টাম্পে লাথি মারা ও স্টাম্প উপড়ে ফেলার ঘটনায় দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক লাইভ ও ইউটিউবের কল্যাণে সবাই সরাসরি দেখতে পেয়েছেন আম্পায়ারের ভিন্ন দুটি সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হওয়ায় প্রথমে স্টাম্পে লাথি মারেন সাকিব। পরে পুঁতে রাখা তিনটি স্টাম্প একসঙ্গে তুলে সজোরে আছাড়ও মারেন তিনি। এর বাইরে গ্যালারিতে আবাহনীর সমর্থকদের সঙ্গেও কথা কাটাকাটির মতো অবস্থা হয়েছে তার। ফলে শনিবার সাকিব আল হাসানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি। সাকিবও শাস্তি মেনে নিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনা ও তার নেপথ্যের কারণ দেশের ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আচরণ যেমন তার নিজের ও দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে। তেমনি আম্পায়ারিং নিয়ে সাকিবের যে অভিযোগ- তাও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে দেশের ক্রিকেটেরই।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের গুলশানের বাসভবনে শনিবার সন্ধ্যায় এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ জানান, সাকিব আল হাসান তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। সঙ্গে ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা। সাকিবও শাস্তি মেনে নিয়েছেন। এ কারণে এ ঘটনায় আর কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের শাস্তি প্রসঙ্গে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘আমরা সাকিবের পুরো বিষয়টিতে যা দেখেছি, আচরণবিধির লেভেল থ্রির দুটি অপরাধ করেছেন। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

শাস্তি ঘোষণার আগে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে কথা হয়েছে সিসিডিএমের। কাজী ইনাম বলেন, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। কি কারণে এটা হলো, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। তিন দিন পর মিটিং আছে, সেখানে আমরা আলোচনা করব। দুই দিনের মধ্যে বসব, আলোচনা করব। এই লিগ নিয়ে যদি কারো কোনো অভিযোগ থাকে, সেগুলো আমরা শুনব।’

শনিবার দুপুরের পর ম্যাচ রেফারি মোরশেদুল আলমের পাঠানো শাস্তির নোটিস হাতে পান ওয়েস্টিন হোটেলে থাকা সাকিব। চিঠিতে সাকিবের বিরুদ্ধে লেভেল-৩ পর্যায়ের আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ এনে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি।

সাকিব অপরাধ স্বীকার করে চিঠিতে স্বাক্ষর করে দেয়ায় এই শাস্তিই বহাল থাকবে। শাস্তির ব্যাপারে আপত্তি থাকলে শুনানিতে ডাকা হতো তাকে। নিয়ম অনুযায়ী লেভেল-৩ পর্যায়ের অসদাচরণ প্রথমবার করলে শাস্তির বিধান আছে কমপক্ষে ১ ম্যাচ থেকে সর্বোচ্চ ২ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ ও একই সঙ্গে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। একই ম্যাচে লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সেটির শাস্তি ২ থেকে ৫ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ ও জরিমানা কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা। দুই অপরাধের জন্যই ন্যূনতম ম্যাচে বহিষ্কার করা হয়েছে সাকিবকে। প্রথম অপরাধের জন্য ১ ম্যাচ ও দ্বিতীয় অপরাধের জন্য ২ ম্যাচ।

সাকিবের শাস্তি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ভোরের কাগজকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে সাকিব যে কাজটি করেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে, তার নিজের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছে। ক্রিকেটের কোড অব কন্ডাক্ট নষ্ট করেছে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে ঘরোয়া হোক, আন্তর্জাতিক খেলা হোক কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলতে হয়। আম্পায়ের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ করা যাবে না। আউট হলে পিচে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। সাকিব আবেগ নিয়ে কাজটি করেছে। যেভাবেই করুক না কেন? এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কোনো খেলোয়াড়, কোনো কর্মকর্তা এমন আচরণ করতে পারেন না। এটি খুবই হতাশাজনক এবং সাকিবের জন্য অসম্মানজনক। দেশের এবং দেশের বাইরের ক্রিকেটের জন্য অসম্মানজনক। অনেকে আম্পায়ারিং নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন আম্পারিংয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে থার্ড আম্পার নেই। আম্পার খালি চোখে যা দেখেছেন, তাতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সাকিব মনে করেছে আউট হয়েছে। ধরে নিলাম আউট ছিল- তাই বলে যে আচরণ সে করেছে তা ক্রিকেটের জন্য অসম্মানজনক। আমি ক্রিকেট ক্যাপ্টেন ছিলাম, কোচ ছিলাম। সাকিবও ক্রিকেট প্লেয়ার। খেলায় দুই দলের অধিনায়ক, আম্পায়ার খেলাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেন। এখানে সাকিব কী করলেন। খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করেছেন।

সাকিবের প্রতিবাদের ভাষা মোটেও পছন্দ হয়নি সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের। তিনি আরো বলেন, সাকিব আগামী প্রজন্মের আইডল। তাকে তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করেন। এ ঘটনার পর বিশ^সেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে তরুণরা কি শিখল?

সাকিবের স্ত্রী শিশির বলেছেন, সাকিব ষড়ষন্ত্রের শিকার। এ সম্পর্কে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার রকিবুল হাসান বলেন, আমি সাকিবের স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি। স্ত্রী স্বামীর পাশে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ঘরের সম্পর্ক আমি বাইরে নিয়ে আসতে পারি না। সাকিব পাবলিক প্রপার্টি। ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাকিব যা করেছেন। এখানে তার বিরুদ্ধে কে ষড়যন্ত্র করবে? আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানলেও এ কথার জন্মই হতো না। ম্যাচে আম্পায়ার যে সিদ্ধান্ত দিবে তা মেনে নিতে হবে। তাছাড়া প্রতিবাদেরও একটা ভাষা আছে। মোদ্দা কথা সাকিব যা করেছে তা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক বলেন, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের দিন বিকেএসপিতে আমাদের ম্যাচ ছিল। ঘটনাটি আমি দেখিনি। শোনার পর সাকিবকে ফোন দিয়েছিলাম। ফোনে ও জানাল ভুল হয়ে গেছে। আমি ক্ষমা চেয়েছি। সাকিব যেহেতু ক্ষমা চেয়েছে। ক্ষমার ওপর আর কি আছে। ইয়াং খেলোয়াড়, আবেগের বশে ভুল করে ক্ষমা চেয়েছে। এ নিয়ে আর জল ঘোলা করা উচিত নয়।

রফিক আরো বলেন, লেভেল-৩ পর্যায়ের আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে সাকিবকে ৩ ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিসিডিএম। এ শাস্তি তার প্রাপ্য ছিল। প্রাপ্য শাস্তি সে পেয়েছে এবং সাকিব তা মেনেও নিয়েছে।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান বলেন, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে সাকিব যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা পার্ট অব গেইম। সাকিব মানুষ হিসেবে বেশ ভালো। যে ঘটনা ঘটেছে তা আবেগের বশে ঘটেছে। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। আজ থেকে ২০ বছর আগে আকরাম, নান্নু, রফিক, পাইলট ভাইদের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন এতো মিডিয়া ছিল না। এতো ব্যাপকভাবে ঘটনা প্রকাশ পেত না।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়