সু চির বিরুদ্ধে নতুন মামলা, হতে পারে ১৫ বছরের জেল

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে বাস উপহার তুরস্কের

পরের সংবাদ

নির্মূল কমিটির ওয়েবিনারে সাইবার জিহাদ প্রতিরোধের আহ্বান

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ , ৮:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২১ , ৮:১৫ অপরাহ্ণ

সরকার মাঠপর্যায়ে জঙ্গি দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য থাকলেও জঙ্গিদের সাইবার জেহাদ মোকাবিলায় তেমন কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজে সরকারের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ সমাজের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। তরুণরা ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধেও তা পারবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুন) একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গীদের জেহাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ: সরকারের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারের বক্তারা সাইবার জিহাদ প্রতিরোধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার। ওয়েবিনারে ধারণাপত্র পাঠ করেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আমাদের জন্য খুবই জরুরি মন্তব্য করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বহু দেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সম্পর্কে আইন তৈরি করেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য বিষয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে। আগের চেয়ে ২০২১ সালে এসব মাধ্যমের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সিঙ্গাপুরের মতো নিজেদের আইন অনুযায়ী এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালানোর পর্যায়ে এখনও পৌঁছতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমরাও সিঙ্গাপুরের মতো কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার জিহাদের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান এই যুদ্ধ রাজনৈতিক যুদ্ধ। রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা না করে শুধু রিপোর্ট করে এই সাইবার জিহাদ প্রতিহত করা সম্ভব নয়। আমরা তাদের প্রতিহত করার মত সুসংগঠিত নই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এখনও আমরা ডিজিটাল হতে পারিনি। এজন্য সোশ্যাল মিডিয়াগুলো মনিটরিংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষ রাজনৈতিক কর্মীবাহিনী সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। অনলাইনের এই রাজনৈতিক যুদ্ধ সম্মিলিতভাবে আমরা না করতে পারলে একসময় বাংলাদেশ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে চলে যাবে।

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, সাইবার জগতের মাধ্যমেই বর্তমানে দেশবিরোধী, জঙ্গীবাদী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমাকে যে ছেলেটি আক্রমণ করেছিল, পরে তার সঙ্গে আমি দেখা করেছিলাম। সে আমাকে বলেছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই আমার ওপর আক্রমণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। তাই জঙ্গী মৌলবাদীদের সাইবার জিহাদ প্রতিরোধে সরকারকে অনুরোধ করি- আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক তরুণ প্রজন্মে সাইবার যোদ্ধাদের ডাকুন। যারা সাইবার জগতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে সাইবার জিহাদ মোকাবেলায় কাজ করুন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠন দায়েশ বা আইএসআইএস-এর জেহাদী অভ্যুত্থান দেখেছি, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে হলি আর্টিজান ক্যাফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জনগণের, বিশেষভাবে তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সাইবার যুদ্ধে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির জঙ্গী জিহাদ মোকাবিলা সম্ভব হবে না। সাইবার যুদ্ধ সার্বক্ষণিক। এই যুদ্ধ কোনও আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেশন মানে না। এই যুদ্ধে যেভাবে সর্বত্র জেহাদের ভাইরাস ছড়ানো হচ্ছে তার ফলে ইরাক ও সিরিয়ার মতো ভবিষ্যতে বিশ্বে বহু গৃহযুদ্ধ ও গণহত্যা সংঘটিত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়