ঢাকা মেডিকেল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেন তারা, ২৪ জনকে সাজা

আগের সংবাদ

বিয়ে করেছেন রেলমন্ত্রী

পরের সংবাদ

ঘোষিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি অর্জনযোগ্য: জিপেক ওয়েবিনারে বক্তারা

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ , ৫:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২১ , ৫:২৮ অপরাহ্ণ

এবারের বাজেটে কর হ্রাসের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষপে গ্রহণ করা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে আয় বাড়বে। ফলে ভোগ ও চাহিদা বাড়বে, অর্থনীতি সবল হবে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। তাই এ বাজেট ‘প্রবৃদ্ধি অর্জনযোগ্য’ বাজেট। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গভর্নেন্স পলিসি এক্সপ্লোর সেন্টার (জিপেক) আয়োজিত সদ্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে ভার্চুয়াল পর্যালোচনা সভায় আলোচকরা এ অভিমত ব্যাক্ত করেন।

বক্তারা আরও বলেন, কিছু বিষয় বাদ দিলে এ বাজেট অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে করোনার অভিঘাতে গ্রামীণ ও শহুরে নতুন দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশে সঠিকভাবে ‘দরিদ্রের তথ্যভান্ডার’ বা ডাটাবেজ গড়ে তোলা জরুরী। বাজেটের অর্ন্তবর্তী মূল্যায়ণ ও সঠিক সময়ে এবং সঠিক গুণে ও মানে প্রকল্প সমাপ্তকারীকে পুরস্কার এবং ব্যর্থ হলে শাস্তির ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

‘জিপেক বাজেট পর্যালোচনা ২০২১-২২’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিপেক এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (অনারারি) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান জিপেক এর নির্বাহী পরিচালক ড. মিজানুর রহমান। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন বেসিক ব্যাংকের পরিচালক ও জিপেক চেয়ারপার্সন রাজীব পারভেজ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জিপেক এর উপদেষ্টা মো. আবদুল কাইয়ুম এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি আমিন হেলালি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ বাশার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুর রশিদ সরকার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক্ অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবউননেছা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব, ফৌজিয়া হক এফসিএ, টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এর সম্পাদক নাজনীন নাহার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হালিমা হক প্রমুখ।

ওয়েবিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনার মধ্যে অর্থনীতি সবল রাখতে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৬.২%। তবে এ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণ দিতে অনেক দেশই আগ্রহী হওয়ায় বাংলাদেশ সহজে বৈদেশিক ঋণ গ্রহন করতে পারবে। আবার বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থ প্রাপ্তি সম্ভব। কোভিড-১৯ অতিমারির পরেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ও মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ করতে হবে। ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘শস্য বীমা’ বা ‘কৃষি বীমা’, ‘গবাদি পশু বীমা’ চালু করতে হবে। ‘সার্বজনীন পেনশন স্কীম’ (কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করে) চালু করা যেতে পারে। বিনিয়োগবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে চলমান ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রাংশের উপর আরোপিত ১ শতাংশের অতিরিক্ত সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহার করতে হবে। ই- কমার্স খাতের বিকাশের জন্য কর আরোপের পরিবর্তে প্রণোদনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, কর মওকুফ ও ইন্টারনেট খরচ কমানোর সুপারিশ করা হয়ছে। স্টার্টআপদের জন্য ট্যাক্স হলিডে বাড়াতে হবে। একটি টেকসই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মূলধন বৃদ্ধি করা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোতে সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং রেজিস্টার্ড আউটসোর্সারদের জন্য ঋণসুবিধার ব্যবস্থা করা। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের জন্য নিয়মিত এডিপির অতিরিক্ত একটি নির্দিষ্ট শতাংশিক হারে গ্রহণযোগ্য এডিপির বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। বাজেটে অন্যান্য দেশের মতো ইনোভেশন, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট খাত তৈরি করে বাজেট বরাদ্দ দেয়ার সুপারশি করা হয়েছে।

মোবাইল আর্থিক সেবার উপর কর্পোরেট কর বাড়ানোয় দরিদ্র লোকদের আর্থিক অর্ন্তভুক্তি অনিশ্চিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এ খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হতে পারে। তাই এ খাতে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভুত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ কর বসালে তা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপর পড়বে। এ কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে করোনার সময়ে ব্যবসায়, উৎপাদনে মন্দা, কর্মহীন হয়ে যাওয়া ও জনগণের আয় কমে যাওয়ায় এই আয়সীমা ৪ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়ছে।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, ব্যক্তিশ্রেণির ব্যবসায়িক টার্নওভার ট্যাক্স হ্রাস, বিত্তবানদের সম্পদের উপর সারচার্জ বৃদ্ধি, করনেট সম্প্রসারণে টিআইএন- এর বাধ্যবাধকতা, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষে আইটি খাতে ১০ বছরের কর অব্যাহতির সুপারশি করা হয়। নারী উদ্যোক্তাদের ৭০ লক্ষ টাকা টার্নওভার সুবিধা, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা, স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ, বিদেশী পণ্যের নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় শিল্পের ভ্যাট ও আগাম অব্যাহতি, কৃষি উপকরণে ও নারী স্বাস্থ্য সংরক্ষণে ভ্যাট অব্যহতি ও দেশীয় চাষীদের প্রতিরক্ষণের কথা বলা হয়েছে যা প্রশংসার দাবিদার।

ওয়েবিনারে আলোচকরা বলেন, একটি বাজেটের দর্শন হলো মূল নিয়ামক। তাই দর্শনকে ভিত্তি বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। বাজেটে অধিক অর্থ বরাদ্দের আবেদনের চেয়ে এর সঠিক ব্যবহারের জোর তদারকি দরকার এখন বেশি। স্বাস্থ্য খাত এর জ্বলন্ত উদাহরণ। তাই আলোচকরা মনে করেন বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি বিশেষ প্রয়োজন। বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, বর্তমান বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ অনেক বেশি, যা কমানো যেতে পারে, কৃষিক্ষেত্রে সুদের হার আরো কমানো, সামজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, ব্যক্তি করসীমা বাড়ানো, তথ্য প্রযুক্তি খাতে ট্রেনিংকে উৎসাহিত করা, গার্মেন্টস এর মতো অন্য শিল্পকেও গুরুত্বারোপ, ব্যবসা বহুমুখীকরণ, বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, তৃতীয় লিঙ্গের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ বিবেচনায় নেয়ার আহবান জানান।

কালো টাকা সাদা করার প্রসঙ্গে বলা হয়, ঢালাও সুযোগ না দিয়ে হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ, জরিমানা আদায় ও টাকার উৎস জানানো সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে। তবে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরী না থাকাই ভালো। এতে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়।

রি-এসডি/ ডে-আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়