দিরাইয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আগের সংবাদ

সিংগাইরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মুদি দোকানদারকে কুপিয়ে হত্যা

পরের সংবাদ

গাইবান্ধায় হরতাল চলাকালে বিক্ষোভ, টায়ারে আগুন

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ , ৩:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২১ , ৩:৫১ অপরাহ্ণ

গাইবান্ধা জেলা শহরে শান্তিপূর্ণভাবে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হয়। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণসহ চারদফা দাবিতে এই হরতাল আহবান করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ। এ সময় হরতালকারিরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

হরতাল চলাকালে শহরের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার কিছু যানবাহন চলাচল করেছে। তবে শহরে রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখে হরতাল পালন করে। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। রাস্তায় তেমন একটা লোক চলাচল করতে দেখা যায়নি।

সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণসহ চারদফা দাবিতে গত ৩১ মে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ। অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাত দিনের মধ্যে সদর থানার ওসি’র অপসারণের আহবান জানানো হয়েছিল। বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপসারণ না হলে আজ বৃহস্পতিবার হরতাল পালনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

দাবিগুলো হচ্ছে অবিলম্বে সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণ, হাসান হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার, সদর থানার অভিযুক্ত পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও সহকারি উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেনকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং গাইবান্ধা জেলায় অবৈধ দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।

ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণসহ চারদফা দাবিতে এই হরতাল আহবান করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ।

এদিকে হরতাল শেষেও গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। পরে শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ- এর সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর কবির, হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের নেতা মনজুর আলম ও নিলুফার ইয়াসমিন প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা জেলা শহরের খানকা শরীফ সংলগ্ন নারায়নপুর এলাকার বহিস্কৃত জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার বাসা থেকে গত ১০ এপ্রিল ব্যবসায়ী হাসান আলীর (৪৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসান আলী শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত হজরত আলীর ছেলে এবং আফজাল সুজ গাইবান্ধা শাখার সাবেক মালিক। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম সদর থানায় মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপর দুইজন হচ্ছেন শহরের স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ও খলিলুর রহমান ওরফে বাবু মিয়া। এই দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

অপরদিকে, হরতালের প্রতিবাদ জানিয়ে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের এক নম্বর রেলগেট এলাকায় সমাবেশ করে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ। এর আগে তারা শহরে মিছিল করে। তারা এই হরতালকে সরকারের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা বলে দাবি করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়