যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন বিপুল

আগের সংবাদ

রাজধানীর গুলশানে ভাতিজির হাতে ফুপু খুন

পরের সংবাদ

এবার ইউরো মাতাবেন যারা

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২১ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

ফুটবল টুর্নামেন্ট গুলোর মধ্য বিশ্বকাপের পরই সবচেয়ে মর্যাদাবান ধরা হয় উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে। পাঁচ বছর ঘুরেফিরে এলো ইউরো দামামা। ইতালি ও তুরস্কের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্ট। রোম শহরের স্টেডিও অলিম্পিকোতে শুক্রবার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুদল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ছোট ছোট চায়ের আড্ডায় তর্ক-বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই ইউরো।

তবে করোনার এ ভেড়াজালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই বড় ভরসা তর্ক-বিতর্কের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। কারা কারা এবার টুর্নামেন্ট মাতাতে পারেন তা নিয়েও জম্পেশ আড্ডা তাদের মধ্য। আগ্রহীরা চোখ রাখতে পারেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, করিম বেনজেমা, অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান, ইতালির চিরো ইমোবিল, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, মার্কাস রাশফোর্ড, ফিল ফোডেন, ম্যাসন মাউন্ট, স্পেনের পেদ্রি, জার্মানির টনি ক্রুস, কাই হ্যাভার্টজ, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মড্রিচ, নরওয়ের এরলিং হরল্যান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, নেদারল্যান্ডসের মেম্ফিস ডিপাইদের দিকে।

ইতালির ঐতিহাসিক রোম শহরে এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ হচ্ছে। নিজেদের মাঠে ইতালি আতিথেয়তা দেবে তুরস্ককে। দুটি দলই রয়েছে ইউরোর ‘এ’ গ্রুপে। পরের ম্যাচে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে গ্যারেথ বেলের ওয়েলশ। এর তিন ঘণ্টা পর ডেনমার্ক মোকাবিলা করবে ফিনল্যান্ডকে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি ম্যাচ। যেখানে গত বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ রাশিয়া অভ্যর্থনা জানাবে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বেলজিয়ামকে।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে সবার চোখ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। এবারের টুর্নামেন্টে বেশি কিছু রেকর্ডের হাতছানি তার সামনে। টুর্নামেন্টে এক গোল করতে পারলেই রোনালদো পেছনে ফেলবেন ৯ গোল করা ফ্রান্সের মাইকেল প্লাতিনিকে। প্লাতিনি ১৯৮৪ সালে এক আসরেই করেছিলেন ৯ গোল। রোনালদোর ৯ গোল করতে লেগেছে ২০০৪, ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৬ সালের আসর। এর মধ্য প্রথম আসরে ২টি, দ্বিতীয় আসরে একটি, তৃতীয় ও চতুর্থ আসরে ৩টি করে গোল পান পর্তুগিজ তারকা। তা ছাড়া জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে ১০৯ গোল করা ইরানের আলি দায়ীকেও পেছনে ফেরতে পারেন তিনি। রোনালদোর নামের পাশে এখন ১০৪ গোল।

কিলিয়ান এমবাপ্পে রাশিয়া বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের জন্য জিতেছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এবারের আসরেও সব আলো নিজের দিকে কাড়তে পারেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং আর দক্ষতার মিশেলে ফ্রান্সকে ভালো কিছু পাইয়েও দিতে পারেন তিনি। তরুণদের মধ্য দলীয়ভাবে এরলিং হরল্যান্ডের নরওয়ে কম শক্তিশালী হলেও পারফরম্যান্সে সবাইকে চমকে দিতে পারেন তিনি। ইংল্যান্ডের হ্যারিকেনের দিকে সবার চোখ তো থাকবেই, মার্কাস রাশফোর্ডও ইংল্যান্ডের সুখের কারণ হতে পারেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে এ মৌসুমে দারুণ সময় কাটিয়েছেন রাশফোর্ড। জার্মানির মিডফিল্ডে টনি ক্রুস যে লিড দেবেন তা নিয়ে কোনো সন্দেহই করা চলে না। পুরো মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ড কাঁধে টেনেছেন তিনি।

ইতালির চিরো ইমোবিলও ভালো কিছু করতে পারেন। সিরি আর আগের আসরে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোল এসেছিল তার পা থেকে, জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট পুরস্কার। রোমেলু লুকাকুর কথা তো বলতেই হয় না। ইন্টার মিলানের সঙ্গে এবার লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার নায়ক রুকা মড্রিচও দেশের প্রয়োজনে আবির্ভাব হতে পারেন দেবদূত হিসেবে। এই তালিকা থেকে কি কোনোভাবে করিম বেনজেমার নাম বাদ দেয়া যায়? সম্ভবত না, রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগকে গত কয়েক মৌসুম ধরে লিড দিচ্ছেন তিনি।

এবারের আসরের সবচেয়ে বড় ম্যাচ ১৩ জুন। ওই দিন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে হ্যারিকেনের ইংল্যান্ড। এ ম্যাচটির দিকে হয়তো কোটি ভক্তের চোখ থাকবে উন্মুখ হয়ে। কেননা, ক্রোয়েশিয়া গত বিশ্বকাপ আসরে ফাইনালে খেলেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে লুকা মদরিচের নেতৃত্বাধীন দলটি চমকও দিচ্ছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। এবার বেশ তারুণ্য-অভিজ্ঞদের মিশেলে দল ঘোষণা করেছেন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ফলে এরাও টুর্নামেন্টে বড় কিছু করার দাবিদার। এছাড়া অন্য বড় ম্যাচগুলোর মধ্যে ১৪ জুন রাত ১টায় স্পেন সুইডেনের, ১৫ জুন পর্তুগাল হাঙ্গেরির বিপক্ষে এবং একই দিন জার্মানি ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে।

ইতালি এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে ‘এ’ গ্রুপ থেকে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান সাতে। দলের কোচ রবার্তো মানচিনি। ইতালি দলে বড় কোনো তারকা নেই। বলার মতো আছেন চিরো ইমোবিল, লিওনার্দো বুনুচ্চি, জর্জিও কিয়েলিনি ও মার্কো ভেরেত্তি। সব মিলিয়ে বড় তারকা না থাকলেও ভারসাম্যপূর্ণ দল বলা যায় ইতালিকে। গত বিশ্বকাপে সুযোগই মিলেনি তাদের। এরপর রীতিমতো ফুটবল বিপ্লব ঘটিয়ে ইউরোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা। এই দলকে নিয়েই এবার বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন আরুজ্জিদের কোচ। এর আগে ইতালি ১৯৬৮ সালে একবার ইউরো জিতেছে। অন্যদিকে, তুরস্ক এখন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৯তম স্থানে। দলের কোচ সেনল গানস। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে বেশ কিছু চমক উপহার দিয়েছে তারা। দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, এবারের ইউরো বাছাইপর্বে মাত্র ৩টি গোল হজম করে এসেছে তারা। ফলে অনুমান করে নিতে বোধহয় খুব বেশি খসরত হবে না ইউরোয় চোখ রাখা যে কারো। তুরস্ক কোনো অঘটন ঘটালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সব মিলিয়ে ইতালি ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ একটি ম্যাচ আশা করতেই পারেন ফুটবলপ্রেমীরা, যারা কিনা অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন বাঁশি বাজার অপেক্ষায়।

ফুটবলপ্রেমীদের অধীর অপেক্ষা, চোখ নানা রেকর্ড-পরিসংখ্যানে। এক নজরে ৬টি গ্রুপে অল্প করে চোখ বুলিয়ে নিলে যে কেউই ধরে ফেলতে পারবেন, এবারের আসরে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ‘এফ’ থেকে উঠে আসা কোনো দল। এই গ্রুপের তিন দল জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান। এদের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালি, লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেয়াও দুরুহ। জোয়াকিম লোর জার্মানি চমক দেখাচ্ছে। ফ্রান্সের কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। ২০১৬ সালের আসরে রানার্সআপ তারা, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। রবার্তো মার্তিনেজের বেলজিয়ামও দুর্দান্ত। মানচিনির ইতালি তো রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে ফুটবলে বিপ্লবই করছে।

রি-এস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়