সম্পদের হিসাব দিতে সঙ্গীত পরিচালক ইমনকে দুদকের নোটিশ

আগের সংবাদ

মাকে ডাকতে গিয়ে মিতু ফিরল লাশ হয়ে

পরের সংবাদ

ইউরোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু শুক্রবার: রাতে নামবে ইতালি-তুরস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১ , ৬:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২১ , ৬:২৩ অপরাহ্ণ

ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোর মধ্য বিশ্বকাপের পরই সবচেয়ে মর্যাদাবান ধরা হয় উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে। পাঁচ বছর ঘুরেফিরে এলো ইউরো দামামা। ইতালি ও তুরস্কের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্ট। রোম শহরের স্টেডিও অলিম্পিকোতে শুক্রবার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুদল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ছোট ছোট চায়ের আড্ডায় তর্ক-বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই ইউরো। তবে করোনার এ ভেড়াজালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই বড় ভরসা তর্ক-বিতর্কের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে।

ইতালির ঐতিহাসিক রোম শহরে এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ হচ্ছে। নিজেদের মাঠে ইতালি আতিথেয়তা দেবে তুরস্ককে। দুটি দলই রয়েছে ইউরোর ‘এ’ গ্রুপে। পরের ম্যাচে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে গ্যারেথ বেলের ওয়েলশ। এর তিন ঘণ্টা পর ডেনমার্ক মোকাবিলা করবে ফিনল্যান্ডকে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি ম্যাচ। যেখানে গত বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ রাশিয়া অভ্যার্থনা জানাবে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বেলজিয়ামকে।

এবারের আসরের সবচেয়ে বড় ম্যাচ ১৩ জুন। ওই দিন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড। এ ম্যাচটির দিকে হয়তো কোটি ভক্তের চোখ থাকবে উন্মুখ হয়ে। কেননা, ক্রোয়েশিয়া গত বিশ্বকাপ আসরে ফাইনালে খেলেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে লুকা মড্রিচ নেতৃত্বাধীন দলটি চমকও দিচ্ছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। এবার বেশ তারুণ্য-অভিজ্ঞদের মিশেলে দল ঘোষণা করেছেন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ফলে এরাও টুর্নামেন্টে বড় কিছু করার দাবিদার। এছাড়া অন্য বড় ম্যাচগুলোর মধ্যে ১৪ জুন রাত ১টায় স্পেন সুইডেনের, ১৫ জুন পর্তুগাল হাঙ্গেরির বিপক্ষে এবং একই দিন জার্মানি ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে।

ইতালি এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে ‘এ’ গ্রুপ থেকে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান সাতে। দলের কোচ রবার্তো মানচিনি। ইতালি দলে বড় কোনো তারকা নেই। বলার মতো আছেন চিরো ইমোবিল, লিওনার্দো বুনুচ্চি, জর্জিও কিয়েলিনি ও মার্কো ভেরেত্তি। সব মিলিয়ে বড় তারকা না থাকলেও ভারসাম্যপূর্ণ দল বলা যায় ইতালিকে। গত বিশ্বকাপে সুযোগই মিলেনি তাদের। এরপর রীতিমতো ফুটবল বিপ্লব ঘটিয়ে ইউরোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা। এই দলকে নিয়েই এবার বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন আরুজ্জিদের কোচ। এর আগে ইতালি ১৯৬৮ সালে একবার ইউরো জিতেছে। অন্যদিকে তুরস্ক এখন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৯তম স্থানে। দলের কোচ সেনল গানস। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে বেশ কিছু চমক উপহার দিয়েছে তারা। দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, এবারের ইউরো বাছাইপর্বে মাত্র ৩টি গোল হজম করে এসেছে তারা। ফলে অনুমান করে নিতে বোধহয় খুব বেশি খসরত হবে না ইউরোয় চোখ রাখা যে কারো। তুরস্ক কোনো অঘটন ঘটালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সব মিলিয়ে ইতালি ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ একটি ম্যাচ আশা করতেই পারেন ফুটবলপ্রেমীরা, যারা কিনা অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন বাঁশি বাজার অপেক্ষায়।

ফুটবলপ্রেমীদের অধীর অপেক্ষা, চোখ নানা রেকর্ড-পরিসংখ্যানে। এক নজরে ৬টি গ্রুপে অল্প করে চোখ বুলিয়ে নিলে যে কেউই ধরে ফেলতে পারবেন, এবারের আসরে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ‘এফ’ থেকে ওঠে আসা কোনো দল। এই গ্রুপের তিন দল জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান। এদের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালি, লুকা মড্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেয়াও দুরূহ। জোয়াকিম লোর জার্মানি চমক দেখাচ্ছে। ফ্রান্সের কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। ২০১৬ সালের আসরে রানার্সআপ তারা, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। রবার্তো মার্তিনেজের বেলজিয়ামও দুর্দান্ত। মানচিনির ইতালি তো রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে ফুটবলে বিপ্লবই করছে।

এবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ নির্দিষ্ট কোনো দেশে আয়োজন করা হচ্ছে না। ১১টি দেশের ১১টি ভিন্ন শহরে বসছে টুর্নামেন্ট। দুই সেমিফাইনালসহ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। ঠিক এক মাস পর ১১ জুলাই ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে আসরের। টুর্নামেন্টের বিজয়ী দল পাবে ১০ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০৩ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ৭ মিলিয়ন ইউরো। সেমিফাইনালিস্ট চার দল পাবে ৫ মিলিয়ন ইউরো করে। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলগুলো ৩.২৫ মিলিয়ন, শেষ ষোলোয় খেলা দলগুলো ২ মিলিয়ন ইউরো করে পাবে।

এই টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬তম আসর। মূলত এটি হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১২ জুন থেকে। করোনার কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজন এক বছর পিছিয়ে যায়। ১৯৬০ সালে ইউরোপিয়ান নেশন কাপ নামে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় উয়েফা ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ।

রি-এস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়