বোমাবাজ দোরাইস্বামীর অসমাপ্ত মিশন

আগের সংবাদ

আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.১ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

পরের সংবাদ

নতুন আইনের পরিকল্পনা

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১১:১০ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী এক বছরের মধ্যে ১৫টি আইন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন আইন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি। তিনি আরো জানান, ২০০৬ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এখন ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা এখন আটগুণ বেড়ে ১১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এমন তথ্যে আমরা আশাবাদী হই। অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলার খবর পুরনো। চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার নামে দেশের তফসিলি ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে হজম করে ফেলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। যেহেতু ব্যাংকিং খাতের টাকা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের আমানত, তাই এ খাতের দুর্বৃত্তদের কোনো ধরনের ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রাজনৈতিকভাবেই পরিবর্তন আসে। এতে করে ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব তো রয়েছেই, এছাড়া কোটি কোটি টাকা লেনদেন ছাড়া এমডি ও সিইও নিয়োগ হয় না। নিয়োগের পেছনে যারা টাকা ব্যয় করে তারা মূলত কোটি কোটি টাকার ঋণখেলাপি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক দলের নেতারা আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকের পরিচালকরা অনেক সময় প্রভাব বিস্তার করে ঋণ অনুমোদন করে। অনেক সময় যথাযথ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান না করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করা হয়। এসব ঋণ সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও আমাদের সব উচ্ছ্বাস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। বিষয়টি সবাইকে বিব্রত করে, এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন মহলে এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দারুণ অস্বস্তি রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়াই এর প্রমাণ। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হলে প্রথমেই ঋণখেলাপিসহ প্রতিটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা-পরিচালকদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ জব্দ করে জনগণের শ্রম-ঘামের আমানত উদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে যেন রিকভারি এজেন্টরা জিম্মি হয়ে না পড়ে সেদিকেও গভীর মনোযোগ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়