সাংবাদিক নান্নু’র মৃত্যু: স্ত্রী ৪ মাস কারাগারে

আগের সংবাদ

মানুষে করোনা : ইলিশে তাড়না

পরের সংবাদ

অনলাইন গেমস ও শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা

ইমরান হোসেন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১ , ১২:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১১:১৫ অপরাহ্ণ

খোলা জায়গার অভাবে শিশুরা ঘর থেকে বের হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং তাদের বিনোদনের একমাত্র সঙ্গী হয়ে উঠছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ভিডিও গেমস। যেমনÑ ফ্রি ফায়ার, পাবজি, কল অব ডিউটি, ক্ল্যাশ অব ক্লেনস ইত্যাদি। শিশুরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করে এসব গেমস খেলার ক্ষেত্রে। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে ইন্টারনেটভিত্তিক ভিডিও গেমসের প্রতি। এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও আছেন বেকায়দায়। করোনা অতিমারি এবং বিনোদনের স্থান ও পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে সর্বক্ষণ ঘরে থাকা এসব শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের গেমিং ডিভাইস।
এ ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক গেমস শিশু-কিশোরদের অপরাধপ্রবণতাও বৃদ্ধি করছে আজকাল। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, শিশু-কিশোররা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত হয় এসব গেমসে প্রভাবিত হয়েই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে কিশোর গ্যাং, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লন্ডনের নাইটিংগেল হাসপাতালের প্রযুক্তিতে নেশাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড গ্র্যায়াম এই আসক্তিকে রোগ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এটি রোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা তা মূল্যায়ন করতে তিনি যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেন তা হলো, স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ৮-১৮ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে দেখেছে যে, মেয়েদের অপেক্ষা ছেলেরা এই ভিডিও গেমসের প্রতি বেশি আসক্ত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশু-কিশোরদের গেমের প্রতি এই আসক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যান্য নেশার ন্যায় ইন্টারনেটে অধিক সময় ব্যয় করে গেমস খেলাও এক ধরনের আসক্তি। করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিশু-কিশোররা ঝুঁকে পড়ছে এসব গেমসের প্রতি। সুযোগ পেলেই খেলার মাঠে দৌড়ে যাওয়ার কথা যাদের, তাদের দেখা যায় ঘরে-বাইরে, রাস্ত-ঘাট, বাজার, নদীর পাড়সহ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে অনলাইন গেমসে মগ্ন হতে।
অথচ একটা সময় শিশু-কিশোরদের হাতে দামি স্মার্টফোন ছিল না। তারা বিচরণ করে বেড়াত উন্মুক্ত মাঠে, বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে খেলতে যেত, বিভিন্ন সংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে ছিল আগ্রহী। কিন্তু বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ঢাকা শহরের বড় বড় রেস্তোরাঁয় খাবারের পাশাপাশি ছোট পরিসরে খোলা জায়গায় কিছুসংখ্যক শিশু বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে অন্যান্য শিশুর সঙ্গে অল্প সময় নিজেদের শৈশব উদযাপন করে। অনেকেই আবার সারাদিন ধরে ইন্টারনেটে দীর্ঘসময় গেমস খেলে ধ্বংস করছে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনাকে।আমাদের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে দরকার পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। পরিবার থেকে সন্তানের যত্ন নিতে হবে এবং শিশুরা যেন অধিক সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে। শিশুদের সঙ্গে গল্প-গুজব এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অভিভাবকদের সময় কাটানোর পরিমাণ বাড়াতে হবে। শিশুরা মাঠে গিয়ে খেলতে পারার মতো পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে; এক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ বা উঠানকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। সরকারিভাবে মাঠগুলো দখলমুক্ত করতে হবে এবং মাঠের সংখ্যা বাড়াতে হবে। যারা ব্যক্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে খেলার মাঠ দখলের মতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় শিশুর সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অন্তত ১টি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ছেলেরা খেলাধুলার সুযোগ পেলেও মেয়েদের খুব একটা সুযোগ থাকে না। অনেক সময় খেলতে গিয়ে তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়, এক্ষেত্রে মেয়েদের খেলাধুলার জন্য সুব্যবস্থা করে দিতে হবে।
সর্বোপরি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হয় এমন খেলাধুলায় শিশুদের ব্যস্ত রাখা গেলে তরুণ সমাজের প্রযুক্তি ও অনলাইলের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও আংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। শিশুরা যদি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত হয়, তাহলে তদের সহজেই এই আসক্তি থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে।

ইমরান হোসেন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়