যুক্তরাজ্যে ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র, সরকারি ওয়েবসাইট ডাউন

আগের সংবাদ

খাসিয়াপুঞ্জি পরিদর্শনে বড়লেখায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দল

পরের সংবাদ

টিকা ক্রয়সহ করোনা মোকাবিলায় দুর্নীতির অভিযোগ টিআইবির

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১ , ৫:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা ক্রয়সহ মহামারী মোকাবিলায় নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার (৮ জুন) ‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলা : কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় সঙ্কট মোকাবিলা ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সভাপতি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। সংস্থাটির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণাপত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিভিন্ন হাসপাতালে বরাদ্দ ব্যয়ে দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে অভিযোগ করে টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, ৫টি হাসপাতালে ক্রয়, শ্রমিক নিয়োগ ও কোয়ারেন্টাইন বাবদ ৬২ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৫ কোটি টাকা দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। যার মধ্যে রয়েছে, ক্রয় বিধি লঙ্ঘন করে এক লাখ কিট ক্রয়, দর প্রস্তাব মূল্যায়ন, আনুষ্ঠানিক দর-কষাকষি, কার্য সম্পাদন চুক্তি, কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন ও অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দেয়া। করোনাকালে কারিগরি জনবল ঘাটতি মেটাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগে জনপ্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।

গবেষণায় দুর্নীতির আরো তথ্যের মধ্যে রয়েছে, টিকার আনুষঙ্গিক উপকরণ ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি নেই, আবার কোনো হাসপাতালে রোগী নেই, উপযোগিতা যাচাই না করে হাসপাতাল নির্মাণ এবং তার যথাযথ ব্যবহার না করে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ায় ৩১ কোটি টাকার অপচয় হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সরকারি ক্রয় বিধি অনুসরণ করা হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির তথ্য পাওয়া গেছে। যেমন-স্বাস্থ্যখাতের ক্রয়ে সংগঠিত দুর্নীতির কারণে বার বার পরিচালক পরিবর্তন, ধীরগতির তদন্ত কার্যক্রমের প্রভাবে ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি।

অনিয়মের মধ্যে আরো রয়েছে, অনেক কোভিড-ডেডিকেটেড হাসপাতাল বন্ধ, আইসিইউসহ চিকিৎসা সংকট করোনা সংক্রমণের একবছর তিনমাস পার হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ইত্যাদি চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ না করা বাজেট এবং যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সব জেলায় ১০টি করে আইসিইউ শয্যা প্রস্তুতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করা, অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে ফেলে রাখা, সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সংকটের কারণে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া ইত্যাদি। যে কারণে অনেক কোভিড-১৯ রোগীকে গড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত না নেয়া, নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা বিতরণে যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতিসহ সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমেও সুশাসনের প্রতিটি নির্দেশকে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। আইনের লঙ্ঘন করে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির মাধ্যমে জনগণের টাকা হতে তৃতীয় পক্ষের লাভবান হওয়া সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। কৌশলগত ঘাটতি, ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে একক উৎসের ওপর নির্ভর করার কারণে চলমান টিকা কার্যক্রমে আকস্মিক স্থবিরতা নেমে এসেছে।

রি-এমআর/ আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়