পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন হত্যা এবং ক্রসফায়ার কালচার

আগের সংবাদ

চীনের আগ্রাসন, দক্ষিণ এশিয়ায় দৌড়ঝাঁপ এবং বাংলাদেশের দীর্ঘশ্বাস

পরের সংবাদ

কমছে বই পড়া, বাড়ছে ডিভাইস আসক্তি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখ

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১ , ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

যখন আমাদের দেশে শিক্ষার হার তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না তখনো লেখাপড়া জানা ব্যক্তিদের মধ্যে পড়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যেত। সুযোগ পেলেই তারা পত্রিকা পড়তেন। যাদের আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল তারা গল্প-উপন্যাস বই কিনে পড়ার চেষ্টা করতেন। গত শতকের ২০ এবং ৩০-এর দশকে শুধু শহরেই নয় নিভৃত গ্রামগঞ্জেও পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল। তাতে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক বিশ্বের ইতিহাস, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য নিয়ে লেখা সাড়া জাগানো বইগুলো রাখার চেষ্টা ছিল। স্থানীয় সমঝদার জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিরা এসব বই কেনার মাধ্যমে পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। পাঠাগারগুলোতে তরুণ থেকে বয়স্ক অনেকেই নিয়মিত বই পড়তে যেতেন কিংবা ঘরে পড়ার জন্য বই নিয়ে আসতেন। অন্দরমহলের অনেক নারী এভাবে বই সংগ্রহ করা ও পড়ার চেষ্টা করতেন। ৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এই অঞ্চলে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় অনেক কিছু ওলট-পালট ঘটিয়েছে। দেশে স্বাধীনতার আন্দোলন ৪০-এর দশকে নতুনভাবে বেগ পায়। ’৪৭ সালে দেশভাগ হয়। এখানেও নানা কিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। অনেকেই মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যান। নতুন করে যেই রাষ্ট্র আমাদের চলতে শুরু করেছিল, সেটি শুরুতেই আমাদের মাতৃভাষার ওপর আঘাত হানে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলতে থাকে। প্রতিবাদের এই বোধ তৈরি হয়েছিল আমাদের ভাষা-সংস্কৃতিকেন্দ্রিক যে চেতনা ইতোপূর্বে তৈরি হয়েছিল তার ফলেই। গোটা পাকিস্তান আমলে আমরা রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত ছিলাম। সেই সময় শিক্ষা-সংস্কৃতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে সচেষ্ট ছিল। মোটামুটি বলা চলে লেখাপড়ার সাধারণ চর্চা আমাদের শিক্ষায় আবার ফিরে আসে। শহর এবং উপশহরগুলোতে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও পাঠাগার, পত্রপত্রিকা পড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমবেশি পরিলক্ষিত হতো। বই পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যেত। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও স্কুলের লাইব্রেরি থেকে নিয়মিত বই পড়ার সুযোগ পেত। আমাদের স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল পাঠাগারে থাকা বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়া একটি নিয়মিত বিষয় হিসেবে আমাদের মধ্যে গড়ে উঠতে থাকে। এটি অনেকটাই আমাদের শিক্ষকদের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং অগ্রজ ছাত্রছাত্রীকে অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরাও অনুজদের মধ্যে কম-বেশি ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। স্কুলজীবনেই আমরা বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি-সাহিত্যিকদের লেখা উল্লেখযোগ্য বই পড়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়া বিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ে লাইব্রেরিতে থাকা বই পড়া কিংবা নেড়েচেড়ে দেখার অভ্যাস ছিল।
কলেজে পড়তে এসেও ওই একই প্রবণতা ধরে রাখাই শুধু নয়, বিস্তৃত করারও চেষ্টা ছিল। যারাই কোনো নতুন নতুন বইয়ের সন্ধান পেয়েছে সেটি পড়ার আগ্রহ নিবারণ করতে ধার নেয়ার চেষ্টা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে বই পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখে নিজেরাও চালিয়ে গিয়েছি। পত্রপত্রিকা নিয়মিত পড়া ছিল সাধারণ ব্যাপার। দেশে কোথায় কী ঘটছে তা জানার পাশাপাশি ভালো নিবন্ধগুলো মিস করা কিছুতেই সম্ভব ছিল না। বিদেশে পড়তে গিয়ে নিজের বই পড়ার অভ্যাসই শুধু নয়, সাধারণ মানুষের বই পাঠের অভ্যাস দেখে অনেক সময় অভিভূত হতাম। পরিবহনের ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছেন, অথচ তার সামনে মোটা একটি বই, দেখে ভাবতাম এটি পড়ার সময় তার কখন? তাছাড়া ট্রেন-মেট্রো, বাস-ট্রামে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের নীরবতা স্বাভাবিক পরিবেশ হিসেবেই দেখা যেত। কারো হাতে পত্রিকা, সাময়িকী, বইপুস্তক যেন তাদের অনেকটাই ধ্যানমগ্ন পাঠকরূপে সময় কাটাতে দেখতাম। দেশে যে যুগে মোবাইল আসেনি তখন কিছু মানুষ পছন্দের বই পড়ার মধ্যে সময় কাটাতে দেখেছি। তরুণদেরও একটি অংশ বই খুঁজত, পড়ত এবং এ নিয়ে আলোচনা করত। তবে উন্নত দুনিয়ার পাশে বই পড়ার অভ্যাসের বিবেচনায় আমাদের অবস্থান খুবই ছোট বলা চলে। আমরা জাতিগতভাবেই যেন বই পড়ার স্বাদটি গ্রহণ করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেকেই কর্মজীবনে প্রবেশ করে বইয়ের সংস্রব একেবারেই যেন ছেড়ে দিয়েছেন। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত, শিক্ষিত বেশিরভাগ নারী-পুরুষই নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলেননি। এটি সহজেই বোঝা যায়। সে কারণেই সন্তানদের মধ্যেও এমন বিস্তার ঘটেনি। মোটামুটি স্বল্প পরিসরেই দেশে বই পড়ার মানুষদের দেখা যাচ্ছে।
মোবাইল জনপ্রিয় হওয়ার পর মানুষের জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। এটি যত সহজতর হয়েছে, তত বেশি সময় বরাদ্দ করতে দেখা যাচ্ছে। গালগল্প ও নানা ধরনের আইটেম সম্পর্কে কৌতূহলী হওয়া, হাতে হাতে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ আর ইন্টারনেট সংযোগের সহজলভ্যতা ঘটায় জীবন একেবারে বদলে গেছে। এখন ব্যস্ততা বেড়ে গেছে এসব ডিভাইসকে সময় দিতে গিয়ে। ছোটদের বইপড়া এখন অনেকটাই পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমিত। তাদের অবশ্য শ্রেণিপাঠ ও গৃহশিক্ষকের সঙ্গে সময় কাটানোর ফলে বই পড়ার বেশি সময় থাকে না। ইদানীং করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই ঘরে বসে অনলাইনে পাঠ নিতে হয়। এরপর বিরাটসংখ্যক শিশু-কিশোর হাতের ডিভাইসটিকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করার চেষ্টা করে। অভিভাবকরা কতটা তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে পারেন সেটি বিবেচ্য বিষয়। অনেক শিশু-কিশোরই এখন ডিভাইসে অনলাইন গেমস, ইউটিউব, মুভি, গান, বিদেশি বিভিন্ন চিত্তাকর্ষক ভিডিও দেখে সময় কাটানোর বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে গেছে। কিশোর তরুণদের জন্য নানা রকম ফেসবুক, ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ আরো বিভিন্ন অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম আকর্ষণ করছে- যা তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ডিভাইস আসক্তি গড়ে তুলছে। এদের বই পড়ার সময় কোথায়? কিন্তু এই যে ডিভাইস আসক্তি তাতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা, যুক্তি, মানসিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তির প্রসার ইত্যাদি ঘটানোর নিয়মকে একেবারেই উপেক্ষা করে। একটি বই পড়ার মধ্যে পাঠকের চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে, নতুন চিন্তা, জিজ্ঞাসা এবং পথের সন্ধান মস্তিষ্ক আপনা থেকেই সন্ধান করার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে পাঠকের মধ্যে ভাষাজ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি করে। বই না পড়ে কেউ এসবের অধিকারী হতে পারে না। ডিভাইসে শ্রোতা যা দেখে তা তাকে সাময়িক কোনো আনন্দ, উত্তেজনা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, তৃপ্তি দিতে পারে। কিন্তু এসবের যৌক্তিকতা কতটা বাস্তবধর্মী কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সেটি বোঝা বা চিন্তা করার সময় তার থাকে না। সে ছুটছে একটি থেকে অন্যটিতেÑ অনেকটাই উদভ্রান্ত, বিভ্রান্ত এক অসহিষ্ণু মানুষের মতো। এটি তার মনোজগৎকে গ্রাস করে নেয়। যেখানে মস্তিষ্ক তার কোনো কাজে আসে না। মনে রাখতে হবে মানুষের মাইন্ড এবং ব্রেইন এক নয়। মাইন্ড অনেক সময় পরিচালিত হয় সমাজের চারপাশের বিশ্বাস, কুসংস্কার, আচার-আচরণ ইত্যাদিকে সম্বল করে। কিন্তু ব্রেইন তাকে সাহায্য করে যুক্তি দিয়ে কতটা গ্রহণ করা যায় কি যায় না। যখন একটি বই কেউ পড়ে তখন তার ব্রেইন তাকে চিন্তার গতিময়তা দিয়ে চালিত করার চেষ্টা করে। সেটি তার মনোজগতের পিছিয়ে থাকা বিশ্বাস, অবিশ্বাস, অজানা ও অন্ধবিশ্বাসকে গ্রহণ ও বর্জনের একটি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সে কারণেই পাঠের কাজটি শুরু হয় ব্রেইন থেকে, যা মনোজগৎকে প্রভাবিত সমৃদ্ধ করে। অন্যদিকে ডিভাইসের বেশিরভাগ আইটেম মানুষের মনকে সর্বাগ্রে গ্রাস করে নেয়, ব্রেইন সেখানে থাকে অবরুদ্ধ। ফলে একজন বিকাশমান মানুষ চিন্তার দিক থেকে অবরুদ্ধ ব্রেইন নিয়ে খুব বেশি এগোতে পারছে না। সে কারণে উদ্বেগের বিষয়টি এখন এতটাই তীব্র বা প্রকট হয়ে উঠছে যে ডিভাইস আসক্তিতে নিমজ্জিত আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ গন্তব্য কোথায়? অথচ এরা যদি তাদের হাতের ডিভাইসগুলো এ পথে নয় অন্য পথে তথা জ্ঞান আহরণের যেসব প্লাটফর্ম রয়েছে, সেসবে প্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করত তাহলে তাদের জানার জগৎটা এত বিশাল হয়ে ওঠার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছেÑ যা তাকে খুব কম সময়ের মধ্যেই অনেক বেশি জানা, শেখা, বোঝা ও নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দিত। কিন্তু সে কাজটি আমাদের কতজন ডিভাইস ইউজার করে থাকেন সেটিই মস্তবড় প্রশ্ন।
আমি বেশকিছু শিক্ষার্থীকে দেখেছি যারা গুগল, উইকিপিডিয়া, ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহার করে অনেক কিছুই সহজে অর্জন করছে। তবে বেশিরভাগ তরুণকেই দেখেছি নিয়মিত বই পাঠ না করা, উইকিপিডিয়া, কিংবা ইউটিউবের ভালো কন্টেন্ট থেকে জ্ঞান আহরণ না করার কারণে সাধারণ ভাষাজ্ঞান দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। খুব সহজে এসব তথ্য পাওয়া যায়, জানা যায়, জানা উচিতও সেসবের কিছুতেই তাদের আগ্রহ নেই। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভাষা-সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকা ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা সম্পর্কে তাদের জ্ঞানগত ধারণা একেবারেই হতাশাজনক। এর মূলেই হচ্ছে তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠেনি, নিজের অধীত বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ তেমন একটি লক্ষ করা যাচ্ছে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখন চলছে একটি বড় ধরনের দূরত্ব, ব্যবধান ও বৈষম্য যেখানে একদিকে অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক শিক্ষার্থী নিজেদের মেধা-মননকে বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ করার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। এরা সত্যি সত্যিই নিজেদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মানসম্মতভাবে গড়ে তুলছে। তবে বই পাঠের নিরন্তর অভ্যাস তাদের প্রধান সমৃদ্ধির ভিত্তি। এরা সঠিক পথেই আছে। তবে এর ভিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে বৃহত্তর অংশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এরা বই পড়া থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাদের হাতে খাতা-কলমও খুব একটা দেখা যায় না। ডিভাইস নিয়ে তারা রাতের বড় অংশ ব্যয় করে, এরপর ঘুমায় দিনভর, বিকাল-সন্ধ্যাটি কাটে নানা ধরনের আড্ডায়। লেখাপড়ার জগৎ থেকে এদের বড় অংশই অনেক আগে থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এখন করোনার কারণে বলা চলে সবকিছুই ভুলতে বসেছে। কিন্তু হাতের ডিভাইসটি তাদের একমাত্র সময় কাটানোর সম্বল। এই ডিভাইস তাদের জীবন দক্ষতায় খুব একটা তৈরি করতে পারছে না। এদের এভাবে পিছিয়ে পড়া সমাজকেও পিছিয়ে দিচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থাকেও এরা ভারাক্রান্ত করছে। রাষ্ট্র এদের মানবসম্পদ রূপে গড়ে ভুলতে খুব বেশি ভূমিকা নিতে পারছে না। এখানেই আমাদের জাতিগতভাবে ধীরে চলা, পিছিয়ে পড়া এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের মূল সমস্যা নিহিত।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়