শ্রাবন্তীর সঙ্গে সংসার করতে চাই: আদালতে রোশন

আগের সংবাদ

পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন হত্যা এবং ক্রসফায়ার কালচার

পরের সংবাদ

ওদের স্বপ্ন বারবার আগুনে পুড়ছে!

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

কিছু দিন পর পর বস্তিতে আগুন লাগার কারণে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। এ আগুনকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে রাজি নয় অনেকে। রাজধানীর সাততলা বস্তিতে ছয় মাসের ব্যবধানে আগুন লাগা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বস্তিবাসীর স্বপ্ন বারবার পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কোনো হতাহত না হলেও ঘটনার ভয়াবহতাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক পরিবার সহায়-সম্বল-আশ্রয় হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে। এই মানুষগুলোর দুর্ভোগ-অসহায়ত্ব সহজেই অনুমেয়। তাদের পাশে দাঁড়ানো, জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয়দান এখন আশু প্রয়োজন। এখানে হাজারখানেক বস্তি ঘর রয়েছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুতের লাইন, গ্যাসের সিলিন্ডারসহ দোকানপাট রয়েছে। কীভাবে এবং কোথা থেকে আগুন লেগেছে তা অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসুক। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুনে এই বস্তির প্রায় আড়াই শতাধিক ঘর পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬ সালেও আগুনে পুড়েছিল সাততলা বস্তি। মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে ৫০ একর জমি বেহাত হয়েছিল, তার বড় অংশজুড়ে এই সাততলা বস্তি। হাসপাতালের দুই পাশ ঘিরে বস্তির অবস্থান। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে জায়গা দখলের কারণে আগুন লাগানো হয়েছে কিনা? নগরাঞ্চলে বস্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষই বসবাস করেন। কাঠ-বাঁশ-কাগজ-পলিথিনের মতো সহজ দাহ্য উপকরণে তৈরি এসব বস্তির কোনো একটিতে আগুন লাগা মানে নিমেষে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া। আর এক-একটি বস্তিঘর পুড়ে যাওয়া মানে এক-একটি পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এভাবে এক-একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের একসঙ্গে কয়েকশ পরিবার সহায়-সম্বল-আশ্রয়হারা হয়। ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়িয়েও এর একটি বড় সামাজিক অভিঘাত রয়েছে। এক একটি অগ্নিকাণ্ড অনেক পরিবারকে ফেলে অস্তিত্ব সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যের গ্রাসে। কাজেই বস্তিবাসী মানুষের জীবন ও সহায়-সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনার দাবি রাখে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। বস্তি এলাকায় যাদের বসবাস, তাদের মধ্যে আগুন লাগা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও বস্তিবাসীর আবাসন সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে অগ্নিকাণ্ড, পাহাড়ধসের মতো ঘটনায় নিয়মিতই বস্তিবাসীর জীবন, আশ্রয় সংকটাপন্ন হওয়া যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরাঞ্চলের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বস্তিবাসীর সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া না হলে তাদের নিরাপত্তাহীনতার স্থায়ী সমাধান হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা অবদান রাখলে কম সময়ে বস্তিবাসীর বহুমুখী সমস্যার সমাধান হতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়