আমাদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ নয়: জাহিদ হাসান এমিলি

আগের সংবাদ

তাড়াইলে আধিপত্য বিস্তার: নিহত বেড়ে ২, পুরুষ শূন্য গ্রাম

পরের সংবাদ

ইউরোর মৃত্যুকূপে তিন পরাশক্তি

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১১:০৫ অপরাহ্ণ

আজ বাদে কাল পেরিয়ে পরশু উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ। পাঁচ বছর ঘুরে এলো ইউরোপিয়ান অঞ্চলের জমজমাট আসর। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও উত্তেজনার অন্ত নেই। করোনা মহামারির সময়ও ছোট ছোট আড্ডায় উঠে আসছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের নানান কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও আলোচনার প্লাটফর্ম থেকে বাদ যাচ্ছে না। এবার শিরোপা জিতবে কারা, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপই বা কোনটি- এমন প্রশ্নের অবতারণা তাদের মধ্যে। প্রাসঙ্গিক এসব বিষয় নিয়ে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য এ লেখা।

এক নজরে ৬টি গ্রুপে অল্প করে চোখ বুলিয়ে নিলে যে কেউই ধরে ফেলতে পারবেন, এবারের আসরে ডেথ গ্রুপ বা মৃত্যুকোপ ‘এফ’। এটা অনুধাবনের জন্য ফুটবল বিশারদ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। কেননা এই গ্রুপটিতে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালের মতো তিনটি শক্তিশালী দল, চতুর্থ দল হিসেবে আছে হাঙ্গেরি। ফ্রান্স বর্তমানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল জার্মানি। পর্তুগালও সর্বশেষ ইউরোর মুকুট পরেছিল। অধিকন্তু ফ্রান্স ও পর্তুগাল আছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচের মধ্যে, জার্মানি দ্বাদশ স্থানে থাকলেও অন্য দুটি দলের চেয়ে শক্তির বিচারে কোনো অংশেও কম নয়। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে লাটভিয়াকে ৭-১ গোলের লজ্জা দিয়েছে তারা। জার্মানি তিনবার ইউরো জিতলেও ফ্রান্স জিতেছে দুইবার।

অন্য গ্রুপগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দল রয়েছে ‘ই’তে। এই গ্রুপে রয়েছে তিনবারের ইউরোজয়ী স্পেন, সুইডেন ও পোল্যান্ড। তাদের গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে আছে স্লোভাকিয়া। ‘ডি’ গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, স্কটল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র। এই গ্রুপের ক্ষেত্রেও জমজমাট লড়াই আশা করতে পারেন ফুটবল অনুরাগীরা। সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ‘সি’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন ও উত্তর মেসিডোনিয়া। ‘বি’ গ্রুপে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বেলজিয়ামের সঙ্গে রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া। বেলজিয়াম এখনো ইউরোর স্বাদ নিতে পারেনি। শক্তির বিচারে অভাগী দলই বলা যায় তাদের। রাশিয়া বিশ্বকাপেও শিরোপা জেতার মোক্ষম সুযোগ ছিল তাদের সামনে। ইতালির সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে আছে তুরস্ক, ওয়েলশ ও সুইজারল্যান্ড।

২০২১ ইউরোর সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন প্রসঙ্গে বলা যায় মৃত্যুকোপ ‘এফ’ থেকে যারা উঠে আসবে তারাই হবে বিজয়ী। এই গ্রুপের তিন দল জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান। এদের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিও, লুকা মড্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেয়াও দুরূহ। শেষ মেয়াদে জোয়াকিম লোর জার্মানি চমক দেখাচ্ছে। ফ্রান্সের কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। ২০১৬ সালের আসরে রানার্সআপ তারা, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়া বিশ^কাপে। রবার্তো মার্তিনেজের বেলজিয়ামও দুর্দান্ত। মানচিনির ইতালি তো রাশিয়া বিশ^কাপে খেলতে না পেরে ফুটবলে বিপ্লবই করছে।

এবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ নির্দিষ্ট কোনো দেশে আয়োজন করা হচ্ছে না। ১১টি দেশের ১১টি ভিন্ন শহরে বসছে টুর্নামেন্ট। দুই সেমিফাইনালসহ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। ঠিক এক মাস পর ১১ জুলাই ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে আসরের। টুর্নামেন্টের বিজয়ী দল পাবে ১০ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০৩ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ৭ মিলিয়ন ইউরো। সেমিফাইনালিস্ট চার দল পাবে ৫ মিলিয়ন ইউরো করে। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলগুলো ৩.২৫ মিলিয়ন, শেষ ষোলোয় খেলা দলগুলো ২ মিলিয়ন ইউরো করে পাবে।

এই টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬তম আসর। মূলত এটি হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১২ জুন থেকে। করোনার কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজন এক বছর পিছিয়ে যায়। ১৯৬০ সালে ইউরোপিয়ান নেশন কাপ নামে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় উয়েফা ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ।

ডে/ এমএইচ/আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়