শেষ আটে সুইতেক

আগের সংবাদ

ইউরোর মৃত্যুকূপে তিন পরাশক্তি

পরের সংবাদ

আমাদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ নয়: জাহিদ হাসান এমিলি

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২১ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২১ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবলাররা ড্র করে দেশবাসীকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা পরের ম্যাচেই কাতারের মাঠে ধূলিসাৎ হয়েছে। গত সোমবার ভারতের বিপক্ষে হারার মধ্য দিয়ে জেমি ডের শিষ্যদের এশিয়ান কাপে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা ডিঙ্গিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন, তা বলা কঠিন। কিন্তু এশিয়ান কাপে একবার বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। পড়শি ভারত প্রতিবারই এশিয়ান কাপে খেলার টিকেট অর্জন করে। এবার বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের ২-০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। কাতার, ওমান আছে পয়েন্ট টেবিলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে। আফগানিস্তান চতুর্থ এবং বাংলাদেশ পাঁচ দলের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাজে হার নিয়ে মঙ্গলবার (৮জুন) ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়কের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ফুটবলের করুণচিত্র। ২০০২-০৩ মৌসুমে ব্রাদার্সের হয়ে খেলা শুরু এমিলির। এ ক্লাব থেকেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময় ঢাকা আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ দেশের প্রায় সব শীর্ষ ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন এমিলি। ১৮ বছর পর আবার সেই ব্রাদার্সে ফিরেছেন তিনি। এ মৌসুমে দলটির অধিনায়কত্ব করছেন।

২০০৫ সালে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে এমিলির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচে তিনি প্রথম গোল করেন ভুটানের বিপক্ষে। ২০১১ সালের ২১ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলার মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়ি জীবন শুরুর পর যেখানে চার মৌসুম অতিবাহিত করেন। অতঃপর ২০০৭-০৮ মৌসুমে ঢাকা আবাহনীতে যোগদান করেন, ঢাকা আবাহনীর হয়ে তিনি টানা দুই মৌসুম লিগ শিরোপা জেতেন। ঢাকা আবাহনীতে দুই মৌসুম কাটানোর পর ঢাকা মোহামেডানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যেখানে তিনি ১৯টি গোল করেন। পরবর্তীকালে শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেখ রাসেল, ঢাকা মোহামেডান ও চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে খেলেছেন।

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে সোমবার বাংলাদেশের হার সম্পর্কে জাহিদ হাসান এমিলি জানান, আমি এ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে যত ম্যাচ খেলেছি এবং যত খেলা দেখেছি, বাংলাদেশ এমন বাজে ম্যাচ আগে খেলেনি। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ একটি জোরালো আক্রমণ করতে পারেনি, ভালো তিনটা পাসও দিতে পারেনি। এটা দুঃখজনক। আমরা দেখেছি আগে বাংলাদেশ-ভারত ক্লোজ গেম হয়েছে। এবারো ভেবেছিলাম ফাইট হবে। সল্টলেকে গত ম্যাচে বাংলাদেশ জেতা ম্যাচ ড্র করেছে। গত দেড় বছরে ভারতীয় ফুটবল বেশ এগিয়েছে। আর আমরা যেখানে ছিলাম সেখানই আছি, তবে একটু পিছিয়েছি। ভারতের খেলায়াড়রা মানসিকভাবে বেশ এগিয়েছেন। তারা জাপান-কোরিয়ার সঙ্গে ফাইট করেন, তারা ইএসএলে খেলেন, তাদের মানসিকতা অনেক উঁচু। ভারতের বিপক্ষে জামালদের খেলা দেখে মনে হয়েছে তাদের মনোযোগের অভাব ছিল, তারা ফিজিক্যালি পিছিয়ে।

বাংলাদেশের ফুটবলে দৈন্যদশা দূরীকরণ সম্পর্কে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য কী করা উচিত, তা আপনি-আমি সবাই জানি। কিন্তু কাজটি যারা করবেন, তারা কিছুই জানেন না। তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলার তৈরি করতে হবে। পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে হবে। ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে না পারলে ফুটবলের উন্নতি হবে না। ভারতের বিপক্ষে যে ১১ জন খেলোয়াড় খেলেছে, তাদের সক্ষমতা আমরা সবাই দেখেছি। এর চেয়ে ভালো মানের ফুটবল শৈলী উপহার দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অনেকে বলেছেন বাংলাদেশ দল কাতার রওনা দেয়ার আগে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি। বাজে হারের জন্য প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। এ কথা মানতে নারাজ এমিলি। তিনি জানান, জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কোনো দেশেই নেই। প্রতিটি দেশ বড়জোর দুই কিংবা তিন সপ্তাহের ক্যাম্প করেই ম্যাচে অংশ নেয়। ঘরোয়া ফুটবলে শক্তিশালী দল থাকলে খেলোয়াড়রা মানসিক, টেকনিক সব দিক দিয়ে উন্নতি করতে পারে। ভারতের খেলোয়াড়রা ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ইএসএল) খেলেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উঁচু মানের ফুটবলার খেলেন। আমাদের ঘরোয়া লিগে যে বিদেশিরা খেলেন, তাদের কাছ থেকে আমাদের দেশি খেলোয়াড়দের শেখার কিছু নেই। এক সময় আমাদের এখানে অনেক উঁচু মানের বিদেশি খেলোয়াড়রা খেলে গেছেন। আমাদের পাইপলাইন আরো আগেই সমৃদ্ধ করা উচিত ছিল। জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি- ভারতের বিপক্ষে জামাল কি খেলেছে? আমাদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ না থাকায় আমরা কাক্সিক্ষত সাফল্য পাচ্ছি না। ভারতের ফুটবলের অগ্রগতির অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ। তারা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে। তাদের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড়রা এখন জাতীয় দলে খেলছে।

বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচে ওমানের মোকাবেলা করবে। এ ম্যাচে জেমি ডের শিষ্যদের পরিকল্পিত ফুটবল খেলার পরামর্শ দিয়েছেন এমিলি। ওমানের বিপক্ষে প্রথম সাক্ষাতে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হেরেছিল। এবার সেই হারের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এমনই প্রত্যাশা জাতীয় দলের জার্সিতে ১৬ গোল করা এমিলির।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়