বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে: মেয়র আতিক

আগের সংবাদ

ভুল সাজা ভোগকারী মিনুকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

পরের সংবাদ

টিকা অনিশ্চয়তায় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২১ , ২:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৭, ২০২১ , ২:২৩ অপরাহ্ণ

বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, করোনা ভাইরাস রোধে টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা ও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষের টিকা প্রদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অথচ করোনা রোধে একমাত্র কার্যকরী উপায় সকলকে দু’ডোজ টিকা প্রদান। টিকা আমদানি সময়মত নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। ফলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

সোমবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

জিএম কাদের বলেন, একটি মাত্র কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার কারণে পরবর্তিতে তারা যখন টিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তখন আমাদের হাতের সামনে বিকল্প ছিল না। এখন টিকা নিয়ে খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। টিকা কোথা থেকে কার কাছ থেকে আসবে শুধু আশার বানী শুনতে পাচ্ছি। নিশ্চিতভাবে আসবে এমন কথা জানি না। সময়মতো টিকা না আনতে পারলে জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যে দেশ এবং সারাবিশ্ব বিভীষিকাময় জীবন কাটাছে। উন্নত দেশে টিকা আবিষ্কারের পর তারা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। বেশিরভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পর অর্থনীতির কর্মকাণ্ডগুলো খুলে দিচ্ছে ধীরে ধীরে।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রতি মাসে ২৫ লাখ করে টিকা প্রদান করা হবে। তার মানে ১৮ কোটি জনসংখ্যা যদি হয় তাহলে ৮০ ভাগ লোক হবে ১৫ কোটি জনসংখ্যা। হিসাব অনুযায়ী একটি ডোজ করে দিতে ৫ বছর সময় লাগবে। আর দুটি ডোজ দিলে ১০ বছরের কাছাকাছি সময় লাগবে। ১০ বছর সময় ধরে হার্ড ইমিউনিটি জনশক্তি ধারণ করার মতো জনশক্তিকে টিকা দেওয়া হয় তাহলে এই দশ বছর দেশের অর্থনীতির কি অবস্থা হবে?

২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট ৪৩টি মন্ত্রণালয় খরচ করতে না পারার কারণ কি? করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন খরচে অসমর্থ হলো তা জানতে চেয়ে এসব মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১৯ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ১৩ লাখ ৯৮৭ দশমকি ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৪২ হাজার ৪৮১ দশমিক ৮৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে ২৯ হাজার ১৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে নীট ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৯৮৩ কোটি টাকা। এটাকে নেতিবাচক বলা যায় না।

তিনি বলেন, করোনাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাজেটের মাত্র ২৫ শতাংশ খরচ করতে সমর্থ হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে সকলেরই প্রশ্ন রয়েছে।

জিএম কাদের বলেন, বরাদ্দের চাইতে কম খরচও যেমন অস্বাভাবিক। বরাদ্দের চাইতে বেশি খরচ সেটাও অস্বাভাবিক। খরচ করতে না পারা অদক্ষতা সেখানে যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিষয়টা দেখা উচিত।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়