জাতির মুক্তিসনদ ছয় দফা

আগের সংবাদ

মেহেরপুর সীমান্তে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক

পরের সংবাদ

টিকা নিয়ে রাজনীতি নয়

উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের কথা ভাবুন

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২১ , ১২:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৬, ২০২১ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়ে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সব চুক্তিতে কঠোর গোপনীয়তা রাখছে চীন। বাংলাদেশের সঙ্গেও এই গোপনীয়তা আশা করেছে চীন। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি সম্ভব হয়নি। ফাঁস হয়েছে দাম। এ নিয়ে দুদেশের কূটনীতিক সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি ভূরাজনীতি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তো ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক দেশকেই ভুগতে হবে। পৃথিবীর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির শিকার হোক সাধারণ মানুষÑ এমন অবস্থা যেন দেখতে না হয়। মানবিক এই বিপর্যয়ে কোভিড-১৯ টিকা যেন সবাই পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের উৎপাদন সক্ষমতার দিকেও নজর দিতে হবে। ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক। গত ৫০ বছরে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাফল্য আমরা দেখেছি। কিন্তু গবেষণায় পিছিয়ে আছি। অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে গবেষণা করছে। বেশকিছু টিকা আবিষ্কার, উৎপাদন এবং প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা টিকা আবিষ্কার তো দূরের কথা, করোনা টেস্ট কিট তৈরির গবেষণায়ও গুরুত্ব দিইনি। সময় এসেছে বাংলাদেশকেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টিকা উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে হবে। টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ইতোমধ্যে রাশিয়া ও চীন বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশও তাতে সম্মতি দিয়েছে। কারণ চীন ও রাশিয়ার টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুটির নিজের দেশের চাহিদা পূরণ করে অন্যদের চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করার সক্ষমতা কম। সে কারণে তারা বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা টিকা উৎপাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং তার সহায়তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এ দেশেই টিকা উৎপাদন করবে। বাংলাদেশে ৩টি ওষুধ কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। তবে টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূলত দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তি এবং টিকা তৈরির কাঁচামাল। প্রযুক্তিগতভাবে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। কারণ প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য যে গবেষণা ও তহবিল দরকার তা আমাদের নেই। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনই। জানা গেছে, সরকার মোট সাড়ে ১৩ কোটির মতো মানুষকে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার ৩ কোটি ডোজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে। আর ভারত সরকার ৩২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠায়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং কাঁচামাল সংকটের কারণে সে দেশের সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে আর টিকা পায়নি বাংলাদেশ। এতে চলমান টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরপরই টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানির টিকার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এটি দেশে অনুমোদিত চীনের দ্বিতীয় টিকা। এর আগে চীনের সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দেয় সরকার। দেশে টিকা উৎপাদনের যে প্রস্তাব রয়েছে বাংলাদেশ সরকার তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়