বাজেটে টিকার গাইডলাইন নিয়ে হতাশা বিএনপি সাংসদ হারুনের

আগের সংবাদ
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন

৯ জুন থেকে আরো ১৯ জোড়া ট্রেন চালাবে রেলওয়ে

পরের সংবাদ

লকডাউন বাড়ায় ১৩ জুন খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২১ , ৭:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৬, ২০২১ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

১৩ জুন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আশাবাদ জানালেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। রবিবার (৬ জুন) শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এ কথা জানান।

উপমন্ত্রী বলেন, করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ায় ঘোষিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে সময় জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় চলমান বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়িয়েছে সরকার। রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

করোনা পরিস্থিতিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতে গত ২৬ মে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১৩ জুন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ওপর।

তবে বেশ কিছুদিন ধরে দেশে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী এবং এতে মৃত্যু বাড়ছে। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মানুষের চলাচল ও সার্বিক কার্যক্রমে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। ফলে ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজ খোলার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ছিল ২৪ মে। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ১৩ জুন থেকে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি-না বা খোলা কতটা যৌক্তিক হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে নানা বক্তব্য আসছে। এর আগে গত সপ্তাহে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না।

সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। অনলাইন ক্লাস শুরুর পর ডিজিটাল ডিভাইডের যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছিল, সেটি অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে।’

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামা জরুরি। সরকার চলমান লকডাউন আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, সরকারের ঘোষিত তারিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। শেষ প্রস্তুতি হিসেবে স্কুল-কলেজ পরিষ্কার করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে। সবকিছু নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এদিকে, চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বাড়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়