করোনায় একদিনে মৃত্যু ৪৩, শনাক্ত ১৪৪৭

আগের সংবাদ

বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাত, শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

পরের সংবাদ

ভোলায় মহিষ পালনে কৃষকের চোখে দিন বদলের স্বপ্ন

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২১ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৫, ২০২১ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ

মহিষ পালনে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলায় প্রায় দু’শ বছর আগে থেকেই মহিষ পালন করে আসছেন এখানকার কৃষকরা। বাতানে একই সঙ্গে দু’শ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মহিষ পালন করা হয়। অধিক লাভ হওয়ায় বসত বাড়ির গোয়ালঘরেও মহিষ পালন শুরু করেছেন স্থানীয়রা। মহিষ পালন করে এলাকার দরিদ্র কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

মহিষ পালনে জীবন বদলে যাওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে ভোলার চরের আব্দুল রশিদ (৫৫) বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০১ সালে আমি চারটি মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন আমার ৩৬টি মহিষ আছে। বর্তমানে আমার দুই একর জমি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ মহিষের দুধ বিক্রি করে আমি আমার সংসারের খরচ মেটাই। আমার দুই মেয়ে ও তিন ছেলে। মেয়ে একটার বিয়ে দিয়েছি। তাও এই মহিষের দুধ বিক্রির টাকায়।

মহিষ পালক জাকির হাওলাদার বলেন, আমার ৯৫টি মহিষ আছে। আগে মহিষ একটু কিছু না হতেই মরে যেত। তাই অনেকে বেশি পালন করতে চাইত না। কিন্তু এখন কৃমিনাশক ওষুধ ও বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে মহিষ মরার হার অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে মাংস ও দুধের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমাণও বেড়েছে। তাই অনেকের মতো আমারও বেশি মহিষ পালনের আগ্রহ বেড়েছে। আমি এ মহিষ পালন করে চার কানি জমি কিনেছি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা।

পানির মধ্যেই পাত্রে মহিষদের খাবার দেন এক খামারি।

জেলায় মহিষ পালনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, সারা দেশে দেড় লাখ মহিষ পালন হয়। তার মধ্যে শুধু ভোলা জেলাতেই পালন হয় ৯০ হাজার মহিষ। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় ও নতুন আশার কথা হলো, এলাকায় এখন মহিষ পালনে কিছুটা ভিন্নতা এসেছে। প্রায় প্রতি বাড়িতেই মহিষ পালন শুরু হচ্ছে। মহিষ পালনের এ ব্যাপকতায় এলাকায় অর্থনৈতিক দিকটাও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মহিষের দুধ ও মাংস বিক্রির টাকা গরিব পরিবারগুলোতে স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।

মহিষের বাতানের মালিক মো. ইউনুছ বলেন, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে তাদের বাথানে প্রায় আড়াই শত মহিষ রয়েছে। যা তারা চার পুরুষ ধরে লালন করে আসছেন। দৈনিক এখান থেকে ১৩০ থেকে ১৫০ কেজি দুধ হয়। জেলায় অনেকেই ঐতিহ্য ধারণ করে মহিষ পালন করে আসছেন। যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত পানি ও ঘাসসহ মহিষের উপযোগী খাদ্য ও বাসস্থান আছে। যার কারণে আমরা এখানে মাহিষ পালনকে আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এলাকায় উন্নত মহিষ পালন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন জিজেইউএস’র সহকারী পরিচালক (টেকনিক্যাল) ডা. খলিলুর রহমান বলেন, এলাকায় মহিষ পালনে কৃষকদের আমরা কারিগরি দিকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। জেলার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরও বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মাঠে মহিষের দল।

ভোলা দ্বীপ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন কৃষক পরিবারগুলো শত শত মহিষ পালন করে।

জিজেইউএস’র সহকারী পরিচালক বীথি ইসলাম বলেন, এলাকায় মহিষ পালন দেশের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ মহিষই এ ভোলা জেলাতে পালন হয়। মহিষের দুধ যেমন মিষ্টি তেমন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এর মাংসেও অনেক খাদ্যগুণ বিদ্যমান। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা জিজেইউএস এলাকার কৃষকদের মহিষ পালনে উদ্বুদ্ধ করছি। তাদের মহিষের বাচ্চা সরবরাহ করছি। প্রয়োজনে ঋণ দিচ্ছি। পাশাপাশি তা পালনে প্রশিক্ষণও দিচ্ছি।

জেলা পশু কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, বর্তমানে ভোলা জেলায় ১ লাখ ২৪ হাজার মহিষ পালন করছেন খামারিরা। এগুলো দুধের পরিবর্তে মাংস উৎপাদনে খামারিরা বেশি মনযোগী। আমরা মাংসের পাশাপাশি বেশি করে যাতে দুধ উৎপাদন করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়