স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে প্রাধান্য দিতে হবে

আগের সংবাদ

বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত

পরের সংবাদ

সেনাবাহিনী প্রতীকী নয়

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১ , ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩, ২০২১ , ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আবিভর্‚ত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

১৯৫৪ সালে পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক নির্বাচনের অভাবিত ফলাফল গভর্নর জেনারেলের আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পরপরই অতিদ্রুত সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ইউনিটগুলোকে পূর্ববঙ্গে প্রেরণ করা হলো। অবস্থার গতিধারা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জাকে ঢাকায় পাঠানো হলো। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার অজুহাত তুলে নবগঠিত যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করা হলো। মীর্জার নেতৃত্বে গভর্নর শাসন কায়েম হলো। শুরু হলো ব্যাপক ধরপাকড় ও নিপীড়ন।

পূর্ববঙ্গের জনগণের নিরঙ্কুশ ও দ্ব্যর্থহীন রায় পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্যদের সাহসী করে তোলে এবং তারা কর্তৃত্বশালী আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটা স্বাধীন ভ‚মিকা নিতে সচেষ্ট হয়।১৯৫৪ সালে অক্টোবরে তারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে পরিষদে কিছু সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। কিন্তু এই সংশোধনী কার্যকরী করার আগেই গভর্নর জেনারেল জরুরি অবস্থা জারি করে গণপরিষদ বাতিল করেন এবং পূর্ণ ক্ষমতা কব্জা করেন।

সামরিক আমলাতন্ত্রের চক্রের প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নর জেনারেলের ‘অসীম’ ক্ষমতা পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে অচল ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষুদ্রতম প্রয়াসও ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে। গভর্নর জেনারেল কর্তৃক সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষভাবে সামরিক আমলাতান্ত্রিক চক্রকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। এই প্রত্যক্ষ ক্ষমতা দখলের ফলশ্রæতিতে দেখা গেল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শোষণ, বৈষম্য ও দুর্ভোগ আরো বেড়েছে এবং এই নতুন সরকারের বৈধকরণের আইনানুগ ভিত্তি স্থাপনের জন্য গভর্নর জেনারেল আমন্ত্রণ জানালে জেনারেল আইয়ুব খান সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন এই ভেবে যে, সেনাবাহিনীকে প্রতীকী ব্যবহার নয়, পুরোপুরিভাবেই ক্ষমতা ‘দখল’ করতে হবে।

আগামিকাল প্রকাশিত হবে ‘সামরিক একনায়কতন্ত্র’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়