নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়সীমা ৭০ লাখ টাকা

আগের সংবাদ

৭.২% প্রবৃদ্ধি অবাস্তব, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং : সিপিডি

পরের সংবাদ

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আলোচকরা

প্রস্তাবিত বাজেট তামাক নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখবে না

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৩, ২০২১ , ৯:১৩ অপরাহ্ণ

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও, প্রস্তাবিত বাজেটের কর কাঠামো তামাক ব্যবহার কমাতে কোন ধরনের ভূমিকা রাখবে না। বরং এ কর ব্যবস্থা তামাক কোম্পানিকে নতুন ধূমপায়ী সৃষ্টি এবং পুরনো ধূমপায়ীকে উৎসাহী করতে সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশে প্রায় ৭২ ভাগ মানুষ নিম্নস্তরের সিগারেট সেবন করে। নিম্ন ও মধ্যমস্তর মিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৮ ভাগ। এই দুই স্তরের সিগারেটের মূল্য না বাড়ায় ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে এবং সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-তরুণরা ধূমপান শুরু করতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে জর্দা, গুল ও বিড়ির মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় এগুলোর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি বয়ে আনবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন) প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত সংগঠন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ আশংঙ্কা প্রকাশ করেছ।

তামাকজাত দ্রব্যের ওপর এই মূল্য ও কর প্রস্তাব হতাশাজনক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এতে তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থ্যতা ও মৃত্যু মারাত্মক আকার ধারণ করবে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতির প্রবর্তন না করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, কিন্তু তামাক কোম্পানি লাভবান হবে।

বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির কনভেনর ড. রুমানা হক বলেন, বাজেট প্রস্তাবে নিম্ন স্তর ও মধ্যম স্তরের সিগারেটে কোনো ধরনের মূল্য পরিবর্তন না করে এই দুই স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম আগের বছরের মতোই ৩৯ টাকা ও ৬৩ টাকা বহাল রাখা হয়েছে এবং জর্দা, গুল ও বিড়ির মূল্যেও কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। অথচ একই সময়ে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যও বেড়েছে। সেই বিবেচনায় মূল্য না বাড়ানোর ফলে এসব তামাকজাত দ্রব্য আগের বছরের তুলনায় আরো সহজলভ্য হয়েছে।

করারোপে অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতি বহাল থাকায় উচ্চ স্তরের মূল্য বাড়ায় তামাক কোম্পানি লাভবান হবে। একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানির নিজস্ব হিসাব মতে ২০১৮ সালে তারা ২৮ শতাংশ মুনাফা অর্জন করে। যা অন্য কোন ব্যবসাতেই সম্ভব না। ওই একই তামাক কোম্পানির নিজস্ব নথিতে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই ১০ বছরে তাদের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ কিন্তু একই সময়ে তাদের মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ কর ব্যবস্থার কারণে এটি হচ্ছে।

রি-এসডি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়