প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিএস হলেন মনিরা বেগম

আগের সংবাদ

ইউনিক আইডি তৈরিতে চরম ভোগান্তি

পরের সংবাদ

জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

বৃষ্টি হলে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও কোনোটাই কাজে আসছে না। গত মঙ্গলবার ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। অনেক সড়কে কোমর সমান পানিও ছিল। অনেক স্থানে ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। জলজটে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয় রাজধানীজুড়ে। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবহন, গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরযানে দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। জলজট ও যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী ও পথচারীরা। বৃষ্টিতে মিরপুর, ধানমন্ডি, রাজারবাগ, মালিবাগসহ অনেক এলাকা ও অলিগলির রাস্তা পানিতে থইথই ছিল। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীবাসীকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হলে টানা বৃষ্টিতে নগরবাসীকে কী ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে- তা ভেবে আতঙ্কিত হতে হয়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ধীরে ধীরে দেশের পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়বে। এবার বর্ষাকাল হতে পারে প্রলম্বিত ও বৃষ্টিমুখর। বর্ষায় রাজধানীতে জলাবদ্ধতা ও জলজট সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে প্রতি বছরই ভারি বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। কিন্তু এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা কিছুটা তৎপর হলেও এক পর্যায়ে সব থেমে যায়। আবার ভারি বৃষ্টি হলে সবাই সরব হয়। অবশ্য সম্প্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র রাজধানীর ক’টি খালসহ দখল হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো উদ্ধার করে পানি প্রবাহ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এখনো অনেক খালসহ বিভিন্ন জলাশয় বেদখলে রয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো জায়গা না থাকার কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। তাহলে এ পানি যাবে কোথায়? প্রাকৃতিকভাবে এ সমস্যা কমার সম্ভাবনা নেই। তবে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের যে ড্রেনগুলো আছে সেগুলো সঠিকভাবে মেরামত করতে পারলে কিছুটা লাঘব পাবেন নগরবাসী। আন্ডারগ্রাউন্ড ও উপরিভাগে যে ড্রেনগুলো আছে সেগুলো রয়েছে পৃথকভাবে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের অধীনে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাজে অনেক সময় সমন্বয় হয় না। একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়। এক সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ৪৬টি ছোট-বড় খাল প্রবাহিত হতো, যা এই শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দারুণভাবে সহায়ক ছিল। কিন্তু এখন ৪৬টির মধ্যে কোনোরকমে ২৬টির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। এসব খালের গভীরতাও নেই, প্রশস্ততাও নেই। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও খাল উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হলেও এর অগ্রগতি হতাশাজনক। আমরা মনে করি, জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজধানীর খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রাজধানীর খালগুলো উদ্ধারে কর্তৃপক্ষকে আরো সোচ্চার হতে হবে। রাজধানীতে ১ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। মনে রাখা দরকার, ঢাকা নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ কোনো সহজসাধ্য ও স্বল্প দিনের কাজ নয়। এর জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক সমন্বয় ও পরিকল্পিত কার্যক্রম।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়