জামালদের জন্য রানার শুভকামনা

আগের সংবাদ

গাইবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ট্রাফিক সার্জেন্টের মৃত্যু

পরের সংবাদ

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূলধারা

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২১ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২, ২০২১ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আবির্ভূত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

অনুগত বুদ্ধিজীবীরা মুসলিম জাতীয়তার ধুয়া তুলে পাঠ্যবইয়ে উর্দু শব্দের গাঁথুনিতে সৃষ্টি করে বিচিত্র বাংলা। প্রতিবাদে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্র সমাজ।

মূলত মাতৃভাষার ওপর হামলাই বাঙালির আত্মসচেতনতাকে ফিরিয়ে আনল। জাতীয় চেতনা ও বোধশক্তি জাগ্রহ হল। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখল ধর্ম, মুসলমান এবং ইসলামি স্লোগানের আড়ালে কী নিদারুণভাবে তাদের শোষণ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসক ও শোষক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দু প্রচার অভিযান চালিয়ে পূর্ব বাংলার ধর্মপ্রাণ সরল মুসলিম জনতার কাছে উর্দুকে ‘কুরানের ভাষা’ বা ‘লিসানুল কুরান’ বলে তুলে ধরে। দেশের মধ্যে অভিজাত ও অনুগত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি মুসলিম জাতীয়তার ধুয়া তুলে স্কুল পাঠ্য বাংলা বইয়ে নতুন করে উর্দু শব্দের গাঁথুনি দিয়ে সৃষ্টি করল এক বিচিত্র বাংলা ভাষার। মোল্লা মৌলানাদের একটি শ্রেণিও সরকারি আনুকূল্যে বাংলা ভাষা ইসলামিকরণের জিগির তোলে। যারা বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বাঙালির অধিকার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলেছে তাদের কাফের, ইসলামবিরোধী, পাকিস্তানবিরোধী ও ভারতীয় এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
মাতৃভাষার ওপর হামলা সাময়িকভাবে আত্মবিস্মৃত জাতিসত্তাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। পাকিস্তানি শাসকচক্র, আমলাচক্র একমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে তারই প্রতিবাদে বাংলার সচেতন ছাত্র সমাজ দেশব্যাপী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ভাষা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে পরিবৃত্ত না থেকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও শোষণ নিপীড়ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম এতদিন বিভিন্ন

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবি-দাওয়ার ভেতর উচ্চারিত ছিল তা ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে একীভূত হয়ে পূর্ববঙ্গে এক প্রবল গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা প্রগতিশীল মূলধারার সৃষ্টি করে।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে
‘সেনাবাহিনী প্রতীকী নয়’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়