আহসান উল্লাহ মাস্টার স্মরণ সভায় সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান

আগের সংবাদ

ক্রয়-বিক্রয়ের ঘেরাটোপে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা

পরের সংবাদ

কোন পথে হাঁটছে তরুণ সমাজ?

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২১ , ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৯, ২০২১ , ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

দা দিয়ে নিজ গলায় আঘাত করে হাফিজুর রহমান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো এলএসডি মাদকের (লাইসার্জিক এসিড ডাইথ্যালামাইড) সন্ধান পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ভয়ংকর মাদক এলএসডি সেবনে হ্যালুসিনেশন হয়। নিত্যনতুন কৌশলে দেশে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। সিসা, আইস, ইয়াবা নানা মাদকদ্রব্য সেবনে তরুণ যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে। এলএসডি এদেশে সেবন নতুন করে জানা হলো। এলএসডি দামি একটি মাদক। এলএসডি মেশানো একেকটি ছোট ছোট টুকরো ব্লটিং পেপারের দাম কয়েক হাজার টাকা। ভারতের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর এই মাদকটি আলোচনায় আসে। তার বিরুদ্ধে এই মাদক নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এটি স্বচ্ছ, গন্ধহীন একটি পদার্থ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের মতে- এটি পাউডার, তরল, ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের আকারে পাওয়া যায়। এলএসডিকে সাইকাডেলিক মাদক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের মাদকের প্রভাবে সাধারণত মানুষ নিজের আশপাশের বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে অনুভব করে এবং কখনো কখনো হ্যালুসিনেট বা অলীক বস্তু প্রত্যক্ষও করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এলএসডি নেয়ার ফলে মানুষের হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ঘামসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যাও তৈরি হয় বলে জানাচ্ছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন। শুধু এলএসডি মাদক কেন, রাজধানীতে নানা রকম মাদকদ্রব্য ওপেনসিক্রেট। ইয়াবা আসক্তি তরুণদের মধ্যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবার চালান আসছে। সাগর, পাহাড় আর সড়কপথে নানা কৌশলে পাচার হচ্ছে এ ভয়ংকর নেশার ট্যাবলেট। ভারত থেকে ফেনসিডিলের চালান পাচার হয়ে আসছে। তবে অধিকাংশ যানবাহন বন্ধ থাকায় কারবারিদের পক্ষে সহজেই মাদক বহন সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তারা বিভিন্ন জরুরি সেবার আওতায় চলাচলকারী যানবাহনে মাদক বহন করছে। এ ক্ষেত্রে বাহক যাত্রীবেশে ছোট ছোট চালানে মাদক নিয়ে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, এখন সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে কক্সবাজার এলাকা দিয়ে। এছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের চালান নিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। করোনা সংকটকালেও মাদকের চাহিদা কমেনি। মরণ নেশা ইয়াবা দেশের তরুণ সমাজকে এখন সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে। ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। আইন প্রণয়নের চেয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ দিকটিতে জোরালো দৃষ্টি দিতে হবে। তারুণ্যগ্রাসী ইয়াবা-সিসা বিস্তার এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে। প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতাই পারবে ইয়াবা-সিসার ও এলএসডির মতো সব মাদকদ্রব্য রুখতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়