আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার যুদ্ধ

আগের সংবাদ

'লাইক’ হাইড করার অপশন যোগ করল ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম

পরের সংবাদ

অসীম ক্ষমতা

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২১ , ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২১ , ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আভির্ভূত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

জন্মের শুরু থেকেই ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দুর্গতি। ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ ধর্মীয় আবেগের বৈরী জোয়ারে ভেসে গেল। পূর্ব পাকিস্তান পরিণত হলো আমলা শাসকগোষ্ঠীর কলোনিতে।

কথা ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর অন্তর্গত এলাকাসমূহ হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের এই মূল ঘোষণা বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ ধর্মীয় আবেগের নিদারুণ বৈরী জোয়ারে ভেসে গেল। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহর জীবদ্দশাতেই পূর্ব পাকিস্তান শক্তিশালী আমলা শাসকগোষ্ঠীর কলোনিতে পরিণত হলো আর এতে সাহায্য করল এ দেশেরই খাজা, নবাব, ভূস্বামী এবং দালাল শ্রেণি। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, পুলিশ, সামরিক বাহিনী, ব্যবসাবাণিজ্য এমনকি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রসমূহ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক-শোষক চক্রের পুুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে গেল। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান হওয়ার পর দেশটির ‘জনক’ ও শাসকদল মুসলিম লীগের প্রধান কায়েদ-এ আযম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর ভূমিকায় রাষ্ট্রযন্ত্র

পরিচালনার বাইরে অবস্থিত বিশাল জনগোষ্ঠীর নিকট তার একনায়কত্ব সুলভ ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও দৃঢ়তায় প্রতীয়মান হয়েছে তার আদেশ নির্দেশেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।

কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ছিল এর বিপরীত। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাক্কালে মি. জিন্নাহ অসুস্থ ছিলেন। এই অসুস্থ অবস্থায় চারদিকে প্রকটিত সংকট ও অজস্র সমস্যার সমাধান তার পক্ষে ছিল এক অসম্ভব ব্যাপার। মাঝে মাঝে তার কিছু কিছু কার্যক্রমে এরূপ ধারণা হওয়া স্বাভাবিক ছিল যে তিনি হয়তো দৃঢ় হস্তে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। কিন্তু নেপথ্য বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন একান্ত উপায়হীন ও অসহায় শাসক।

ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালনার ক্ষেত্রে তাকে প্রথম থেকেই যে সব আমলা অফিসারদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে যারা প্রায় স্বেচ্ছাচারিভাবে কাজ করার অধিকার অর্জন করেছিলেন।
ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট (১৯৪৭) অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল জিন্নাহর হাতে আইনগত ও সাংবিধানিক সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল যা ছিল ‘অসীম’ তা প্রকারান্তরে আমলাদের হাতকেই শক্তিশালী করেছে।
বলা যায়, একমাত্র লিয়াকত আলী খান ব্যতীত জিন্নাহ তার চারপাশে যে সমস্ত রাজনীতিবিদ জোগাড় করেছিলেন তারা ছিলেন মূলত মেরুদণ্ডহীন। ইতোপূর্বেই রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ বাংলার শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপট থেকে বিতাড়িত করেছেন। সেজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অনিচ্ছাকৃতভাবে খাটো করে রাষ্ট্র প্রশাসনে আমলা-কর্তৃত্ব শক্তিশালী করা ব্যতীত জিন্নাহর করণীয় বিকল্প ছিল না।
তিনি সমস্ত আমলাদের ওপরে সেক্রেটারি জেনারেল পদ সৃষ্টি করেন। এই পদ সৃষ্টির লক্ষ্য ছিল মন্ত্রিসভাকে উপেক্ষা করেই আমলাতন্ত্রের পর্যায়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন করা।
ব্রিটিশ ফ্রেম ওয়ার্কে প্রশিক্ষিত ঝানু বুরোক্র্যাট চৌধুরী মোহাম্মদ আলী অত্যন্ত কৌশল ও দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ পদে বসে আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সংহত করতে নিরলস প্রয়াস চালিয়েছিলেন। এমনও দেখা গেছে যে, মন্ত্রী ও সচিবের মধ্যে মতদ্বৈততার ক্ষেত্রে সচিব সরাসরি গভর্নর জেনারেলের নিকট হতে আদেশ গ্রহণ করে এনেছেন- রাজনীতিবিদদের পাশ কাটানো এবং অশ্রদ্ধা দেখিয়ে চলার একটা প্রথা যেন রীতিমতো চালু হয়ে যাচ্ছে।
জিন্নাহর জীবিত অবস্থাতেই পাকিস্তান গণ-পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাদির প্রয়োগ ও আমলাতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রবাহকে খর্ব করার দাবি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ধমকের সুরে গণপরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ‘বর্তমান সংবিধানে সকল ক্ষমতা গভর্নর জেনারেলের হাতে ন্যস্ত। তিনি যা চাইবেন তাই করতে পারেন।’ প্রথম থেকে এই ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দুর্গতি।
আগামীকাল প্রকাশিত হবে
‘গণতন্ত্রের বিদায় ঘণ্টা’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’Ñ বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০, শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

ভুল সংশোধন : গতকাল বুধবার ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’ ধারাবাহিকে ভুলবশত ৯-এর পরিবর্তে ৮ ছাপা হওয়ায় আমরা দুঃখিত।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়