বাংলাদেশের কাছে হাত পাততে হতে পারে পাকিস্তানকে

আগের সংবাদ

কালোটাকা সাদা করার সংস্কৃতি কী চলতেই থাকবে!

পরের সংবাদ

অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৭, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

করোনার এই দুঃসময়ে ভালো সংবাদ পেলাম। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ভর করে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১০৩ রানের জয় তুলে নেয় তামিম ইকবালের দল। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা। টাইগারদের এ সাফল্যগাথা ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সোনার ছেলেদের নিপুণ ক্রিকেটশৈলীতে আমরাও উল্লসিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। মুশফিকের সেঞ্চুরি এবং মিরাজ, মুস্তাফিজ, সাকিবের স্মার্ট বোলিং বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে স্বাগতিকরা ১০৩ রানে জিতেছে ডাকওয়ার্থ/লুইস মেথডে। তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টাইগাররা শেষ ম্যাচটি খেলবে ২৮ মে। বাংলাদেশ ৪৮ ওভার এক বল খেলে ২৪৭ রানে অলআউট হয়। স্বাভাবিক নিয়মে সফরকারীদের টার্গেট ছিল ২৪৮ রানের। স্বাগতিকদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের কাছে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। তার ওপর ৩৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৬ রানে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ডাকওয়ার্থের নিয়মে পেরেরারা নতুন টার্গেট পায় ৪০ ওভারে ২৪৫ রান করার। শেষ দুই ওভারে তাদের করতে হতো ১১৯ রান। বিস্ময়কর সে টার্গেটে নেমে ১৬ রান যোগ করতে পেরেছে স্কোর বোর্ডে। ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেই থেকে চলমান সিরিজের আগ পর্যন্ত লঙ্কানদের সঙ্গে খেলা ৮ সিরিজের মধ্যে ৬টিতেই পরাজয়ের তেতো স্বাদ পায় বাংলাদেশ। বাকি দুটি সিরিজ ড্র হয়। ২০১৩ ও ২০১৭ সালে সিংহলিজদের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের দুটি সিরিজ ড্র হয়। এছাড়া ১১টি টেস্ট সিরিজ খেলে ১০টিতে হার বাংলাদেশের, একটি ড্র। এ জয়ে ৮ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করল টাইগাররা। এতে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি টিকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হলো তামিমদের। মাত্র দুই যুগের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিগত কয়েক বছরে সমীহযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এক সময় বাংলাদেশ বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার আগেই হেরে যেত। এখন আমরা অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে মোকাবিলা করছি। তাদের সঙ্গে জয়ী হয়েছি একাধিকবার। স্বীকার করতেই হবে, বিশ্বকাপের আগে টাইগারদের ক্রিকেট জ্ঞান-ধ্যান, সাহস, টেকনিক, আত্মবিশ্বাস ও দায়-দায়িত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটেই বাংলাদেশ এখন এক দুর্নিবার শক্তি। ক্রিকেটাররা যে বিশ্ব দরবারে শাসন করতে প্রস্তুত হচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দিচ্ছে। এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা ও শুভকামনা আমাদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়